আপনি বাঙালি হলে পহেলা বৈশাখে সাড়া দিন। আর এই কাটমোল্লা-শূয়রদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করুন।

আপনি বাঙালি কিনা নিজেকে আগে একবার প্রশ্ন করুন। আর উত্তরটা কিন্তু ঠিক-ঠিক দিবেন। জোর করে নিজেকে বাঙালি বানানোর চেষ্টা করবেন না। আপনার মতো জোর করে ‘বাঙালি-সাজা’ অবাঙালি-লোকের আমাদের কোনো প্রয়োজন নাই। কারণ, আমাদের দেশে এখনও অনেক বাঙালি আছে। আর আপনি যদি এই বাংলায় জন্ম নেওয়া বাঙালি হয়ে থাকেন—তাহলে, বাঙালি-জাতির সর্বাপেক্ষা বৃহৎ-আনন্দ-উৎসব ‘পহেলা বৈশাখপালন’কে একশ’ভাগ হালাল-জায়েজ ও বৈধ জেনে এই আনন্দে শামিল হন। দেখবো আপনি কতবড় বাঙালি!

আপনি বাঙালি হলে পহেলা বৈশাখে সাড়া দিন। আর এই কাটমোল্লা-শূয়রদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করুন।
সাইয়িদ রফিকুল হক

আপনি বাঙালি কিনা নিজেকে আগে একবার প্রশ্ন করুন। আর উত্তরটা কিন্তু ঠিক-ঠিক দিবেন। জোর করে নিজেকে বাঙালি বানানোর চেষ্টা করবেন না। আপনার মতো জোর করে ‘বাঙালি-সাজা’ অবাঙালি-লোকের আমাদের কোনো প্রয়োজন নাই। কারণ, আমাদের দেশে এখনও অনেক বাঙালি আছে। আর আপনি যদি এই বাংলায় জন্ম নেওয়া বাঙালি হয়ে থাকেন—তাহলে, বাঙালি-জাতির সর্বাপেক্ষা বৃহৎ-আনন্দ-উৎসব ‘পহেলা বৈশাখপালন’কে একশ’ভাগ হালাল-জায়েজ ও বৈধ জেনে এই আনন্দে শামিল হন। দেখবো আপনি কতবড় বাঙালি!

আমি আপনাকে এখনই রমনা-বটমূলে ছুটে যেতে বলছি না। আপনার ভালো লাগলে, সময় হলে, আপনি যখন খুশি তখন সেখানে যাবেন। কিন্তু আপনি আমাদের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কোনোখানে ঘুরতে যান আর নাই-বা-যান—তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনাকে বাঙালির এই মহাউৎসবের প্রতি অবিচল বিশ্বাস, আস্থা, ভক্তিশ্রদ্ধা সর্বোপরি অগাধ ভালোবাসা রাখতে হবে। আর আপনি ঘরে বসেই আপনার সর্বস্তরের আত্মীয়স্বজন (স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ) নিয়ে নীরবে-নিভৃতে মনের আনন্দে পহেলা বৈশাখপালন করুন। কিন্তু এদেশীয় কিছুসংখ্যক মোল্লা-কাটমোল্লা, সস্তা-মৌলোভী, কুলাঙ্গার, জানোয়ার, আর মানুষরূপীপশুর কথা শুনে পহেলা বৈশাখপালনে বিরত থাকবেন না। তাহলে, আপনি অবাঙালি হয়ে যাবেন। কারণ, আপনি তো এই দেশেরই লোক। আর আপনি বাঙালি। আর যারা আমাদের পহেলা বৈশাখপালনে বাধাসৃষ্টি করে এর বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া, মিথ্যা, উদ্ভট ও শয়তানী ফতোয়াবাজি করছে—তারা এদেশের কেউ নয়। এই দেশে পহেলা বৈশাখপালনে বিরোধিতাকারীরা হলো: বিহারী, মাউরা, ভাউরা, জাউড়া, পাকিস্তানী, সেমি-পাকিস্তানী আর সর্বস্তরের অবাঙালি। এরা মানুষ নয়—এরা মানুষের সুরতে আদিমশূয়র মাত্র।

মনে রাখবেন, ধর্মের চেয়ে মানুষ সবসময় বড়। আর মানুষই আমাদের পরমাত্মীয়। আর এই মানুষের সমাজে আপনি বসবাস করে—কতকগুলো মুখচেনা অমানুষের কথা শুনে আপনি আপনার হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার ও দেশপ্রেম ভুলে যাবেন? না, কক্ষনো না। বরং আপনি যদি বাঙালি হয়ে থাকেন—তাহলে, ওই পশুদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ান। আর পবিত্র মন নিয়ে ভক্তিসহকারে আমাদের ‘জাতীয় উৎসব’ পহেলা বৈশাখপালন করুন। আর এটাই মনুষ্যত্ব— আর এটাই ধর্ম। আপনি একজন বাঙালি হলে এই ধর্মবোধ কখনও ভুলে যেতে পারেন না।

পৃথিবীর সব দেশে নববর্ষ উদযাপিত হয়। ইরানে হয়। সুদানে হয়, কুয়েতে-কাতারে হয়, তুরস্কে, আমেরিকা-ইংল্যান্ডে—সবখানে হয়। এমনকি আমাদের রাসুলের দেশ সৌদিআরবেও ভীষণ জাঁকজমকের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। সেখানে হিজরী-নববর্ষকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ও পালন করা হয়। আর পৃথিবীর কোন দেশে নববর্ষপালন করা হয় না শুনি? সেখানে এর বিরুদ্ধে কোনো ফতোয়াপ্রদান কিংবা ফতোয়াবাজি হয় না। যত ফতোয়াবাজি আমাদের বাংলাদেশে! কারণ, আমাদের দেশে এখন আদিমশূয়রের সংখ্যা বাড়ছে। আর এদের নখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন হতে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনপ্রক্রিয়া।
ফতোয়াবাজি শুধু আমাদের দেশে। আর যারা আমাদের নববর্ষ—পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাষায় বিষোদগার করাসহ ধৃষ্টতার সঙ্গে এর বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করছে—তারা স্পষ্টতঃ শয়তান। এই শয়তানরা বাঙালি নয়। এরা পাকিস্তানী-বীজের নষ্ট-ফসল। আর এরা জন্মজন্মান্তরে শয়তানের পরমাত্মীয়। তাই, এরা স্বদেশের খেয়ে-পরে আজও ‘বাঙালি’ হতে পারেনি, এবং এরা দেশের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করছে। আর আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সীমাহীন আগ্রাসন চালাচ্ছে। এরা আমাদের সমাজের নতুন পশু নয়। এই পশুগুলো অনেক আগে থেকে আমাদের দেশে বেড়ে উঠেছে—আর বংশবৃদ্ধি করছে। ব্রিটিশ-আমলে এরা ব্রিটিশের দালালি করেছে, পাকিস্তান-আমলে ইসলামধর্ম বাদ দিয়ে এরা পাকিস্তানকে ধর্ম মেনে, ধর্মজ্ঞান করে পাকিস্তানের জন্য জীবন-যৌবন আর ইহকাল-পরকাল সবকিছু উৎসর্গ করেছে। আর একাত্তর সালে এরা পাকিস্তানকে ‘বাপ’ ডেকে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারেনি। এরা সেই আদিম-হিংস্র-শূয়র। এদের কোনো ধর্ম নাই। এরা দেখতে একটুখানি মানুষের মতো। আসলে, এরা ভয়াবহ শূয়র। এই শূয়রদের একেকটার চেহারা দেখলে আপনারা শিউরে উঠবেন। আপনারা এর থেকে একটার চেহারা একবার দেখে নিন। তারপর বলবেন, এরা শূয়র নাকি মানুষ? জানি, এদের শূয়রই বলবেন। আর বলবেন কুরআনের ভাষায় এরাই তো—“বাল হুমা আদল”—অর্থাৎ, পশু অপেক্ষাও নিকৃষ্ট।

পৃথিবীর একটা আদিমশূয়র দেখার লিংক: https://youtu.be/CHHcm62B7Hs

আমাদের পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতা চালিয়ে ফতোয়াবাজি করে কারা? আর এদের পরিচয় এখানে একটুখানি তুলে ধরা হলো:

১. ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের চিহ্নিত-দালালগোষ্ঠী;

২. একাত্তরের সর্বস্তরের যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীবংশজাত একদলীয় পাপিষ্ঠসম্প্রদায়;

৩. একশ্রেণীর আলেম-নামধারী জাহেল ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের প্রকৃত-উত্তরসূরী নামক পামরসম্প্রদায়। আসলে, এরা কেউই আলেম-উলামা নয়। এরা শুধুই লেবাসধারী-দুনিয়ালোভী। আর এরা একটুখানি আরবি-জানা লোক মাত্র। আর এদের কারও আলেম হওয়ার সামান্যতম কোনো যোগ্যতা নাই। এরা স্বঘোষিত-আত্মস্বীকৃত আলেম-নামধারী সস্তা-মৌলোভী।

৪. দেড় টাকা—দুই টাকা দামের একশ্রেণীর ইমাম, মোল্লা, মৌলোভী ইত্যাদি। এরা এজিদীয় ধর্মের অনুসারী। আর এদের জীবন কাটছে পরের উচ্ছিষ্ট জাকাত, ফিতরা, সাদকাহ ইত্যাদি খেয়ে। এরা মহান আল্লাহর চেয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার একশ্রেণীর লম্পট সভাপতি-সেক্রেটারিকে বেশি ভয় করে থাকে। আর এরা মনে করে থাকে: মহান আল্লাহ তো এদের মসজিদের চাকরি খাবেন না, কিন্তু মসজিদ-মাদ্রাসার একশ্রেণীর ধান্দাবাজ সভাপতি-সেক্রেটারি যেকোনো সময় তাদের চাকরি খেয়ে ফেলতে পারে। তাই, এরা সজ্ঞানে আল্লাহর চেয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার তথাকথিত সভাপতি-সেক্রেটারিকে বেশি ভয় করে থাকে। আর এরা সবসময় পাকিস্তানের দালাল।
৫. বাংলাভাষা ও বাংলাসংস্কৃতিবিরোধী একটি শয়তানচক্র। আর এই শয়তানচক্র ১৯৪৮ সাল থেকে শয়তানের জারজপুত্র জিন্নার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পবিত্র বাংলাভাষাকে নাজায়েজ বলছে, হিন্দুয়ানী বলছে। আর এদের কাছে বাংলাদেশের সবকিছু হিন্দুয়ানী মনে হয়। কিন্তু এরা নিজেরাই সবসময় হারাম-নাজায়েজ। আর আমাদের বাংলাভাষা সবসময় জায়েজ-হালাল।

৬. যারা মানুষ, মানবতা, ইসলাম ও মুসলমানের সবসময়ের জন্য প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শত্রু তারাই এখন পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া-ফতোয়াবাজির মাধ্যমে মাঠে নেমেছে। আর বাইরের কতিপয় শয়তানরাষ্ট্র থেকে এদের জন্য প্রতিনিয়ত অর্থ আসছে। আর সেই হারাম-অর্থে লালিতপালিত হয়ে একশ্রেণীর শয়তান সবসময় বাংলাদেশের খেয়ে-পরে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরা কেউই ইসলামের কিছু নয়—আর মুসলমানও নয়। এরা পরের খাওয়া একশ্রেণীর দালাল মাত্র।

আপনি মুসলমান হয়েছেন তো কী হয়েছে? আপনি মুসলমানই থাকুন। কিন্তু পহেলা বৈশাখসম্পর্কে কোনো নেতিবাচক ধারণাপোষণ করবেন না। আর আপনার ধর্মগ্রন্থ কুরআন-হাদিসের কোথাও পহেলা বৈশাখবিরোধী কোনো কথা খুঁজে পাবেন না। হ্যাঁ, সেখানে পহেলা বৈশাখবিরোধী একটি আয়াতও পাবেন না। কিন্তু এই দেশে পহেলা বৈশাখবিরোধী আজেবাজে কথাবার্তা যারা বলে তারা দেড়-দুই টাকা দামের মোল্লা। এরা নিজেদের স্বার্থে কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা করছে। আর এদের কোনো ধর্ম নাই, চরিত্র নাই, মানবতা নাই, আর সামান্য চক্ষুলজ্জাও নাই। এরা একদম পশু। তাই, আপনি পহেলা বৈশাখকে হালাল জেনে তা নিশ্চিন্তমনে পালন করতে থাকুন। আর পহেলা বৈশাখবিরোধী এইসব কাটমোল্লা-শূয়রের মুখে আপনার মনের প্রবল ঘৃণামিশ্রিত-থুথু নিক্ষেপ করুন।

এই দেশে কাটমোল্লাদের পাশাপাশি একশ্রেণীর আধুনিক সার্টিফিকেটধারী-শূয়রও পহেলা বৈশাখবিরোধী নানারকম কথাবার্তা অতীতেও বলেছে, আর এখনও বলছে। আর নতুন-পুরাতন শীর্ষস্থানীয় এইসব বদমাইশের মধ্যে অগ্রগণ্য হলো: এরশাদের দালালি করে ‘জাতীয় অধ্যাপক’খেতাবধারী বাংলাভাষাবিরোধী কুলাঙ্গার সৈয়দ আলী আহসান; পাকিস্তানের দালাল-কবি গোলাম মোস্তফা; রাজাকার-কবি ফররুখ আহমেদ; রাজাকার-কবি আল মাহমুদ; পাকিস্তানী-বীজের নষ্টফসল ও পুরুষবেশ্যা ড. তুহিন মালিক; রাজাকারদের মুখপাত্র ও জাতীয় লম্পট ড. আসিফ নজরুল; ব্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকখ্যাত পাকিস্তানের ঔরসজাতসন্তান ড. পিয়াস করিম; শিক্ষিত-নামধারী জাতীয় পুরুষবেশ্যা ফরহাদ মজহার ইত্যাদি।

বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে এই ফতোয়াবাজি নতুন কিছু নয়। কিন্তু যারা এই অপকর্মটি করছে, তারা জেনেশুনে, বুঝেশুনে পাকিস্তানীফর্মুলায় নিয়মিত শয়তানী-বদমাইশী করছে। তাই, আপনি একজন বাঙালি হলে এই নরপশুদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ান।

এই দেশ বাঙালির। আর এটি বাঙালির ভূখণ্ড। তাই, এখানে বসবাস করতে হলে সবাইকে বাঙালি হয়েই বসবাস করতে হবে। আর বাঙালি হতে না পারলে আপনি আজই ইরানে-তুরানে, খোরাসানে, আরবে, পারস্যে, দামেস্কে, তুরস্কে, সৌদিআরবে, কাবুলে-কান্দাহারে আর পাকিস্তানে চলে যান। আমাদের দরজা সবসময় খোলা আছে—আপনি এখনই এই দেশ থেকে বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যান। আর বেরিয়ে যান। আর আপনি বাঙালি হলে এই শূয়রদের ফতোয়াবাজি পদতলে পিষ্ট করে সগৌরবে পহেলা বৈশাখপালনের আওয়াজ দিন। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে পালিত হবেই হবে। পহেলা বৈশাখ বাঙালির। আর বৈশাখ বাংলার উৎসব।

জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৩/০৪/২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *