বাঙালী হিসাবে অামার অাত্মমর্যাদায় বাঁধছে

থামুন! অনেক হয়েছে।সচেতন নাগরিক হিসাবে অামার/অামাদের একটি অাত্ম-সন্মানবোধ অাছে;বাঙালী হিসাবে একটি অাত্মমর্যাদা অাছে।একটু ধর্য্য নিয়ে শেষটা পড়ুন।

গত দুদিন ধরে সাকিব খান ও অপু বিশ্বাস নিয়ে অনেক কুরুচিকর মন্তব্য দেখলাম ফেইসবুকের পাতায় পাতায়।এমনকি অনেক স্টান্ডার্ড ব্যক্তিবর্গ এমনসব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।অামি /অাপনি হয়ত রাবিতে বা ঢাবি কিনবা অন্যকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মানসিকতা উন্নত করা দরকার।সাকিব খান কিনবা অপু বিশ্বাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কোন চা’র দোকানে চা খেতে বসলে হয়ত অামি/অাপনি তাকে জড়ো করে অটোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফ করব না।কারন তার সিনেমা অামরা দেখিনা এটা অকপটে স্বীকার্য।কিন্তু তাদের কারো যদি একটি গ্রামের বাজারে চা খেতে হয় তবে কতটা বেগ পেতে হবে এটা জানেন।গ্রামসুদ্ধ ছেলে-বউ-বুড়োরা ঘিরে ধরবে।এশেস ব্যান্ড কিনবা শিরোনামহীন ব্যান্ড যেমন ক্যাম্পাসগুলেতে জনপ্রিয় তেমনি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস গ্রামগুলোতে জনপ্রিয়।বাংলাদেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে একথা চিরন্তন।এই উন্নতির পিছনে অামাদের এই তরুন প্রজন্মে অবদান অবলীলায় স্বীকার্য।বাংলাদেশের চেয়েও অনেক অনুন্নত রাষ্ট্র রয়েছে।যারা শাকিব খানকে কিং হিসাবেই জানে।এও জানে শাকিব ই বাংলা চলচিত্রের কিং। এটা কোনভাবেই অস্বীকার করা চলে না।

শাকিব ব্যক্তি হিসাবে যাই করুক মানুষ হিসাবে সে কি তার পজিশন কি এটা ভাবতে হবে।অামরা কজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।সারা বাংলাদেশে মোট প্রাইভেট-পাবলিক দিয়ে পাঁচ বা ছয় লাখ।কিন্তু গ্রাম-গঞ্জের লাখ লাখ মানুষ তার ভক্ত।একথা কি অস্বীকার যাবেন।তাই এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অামার ব্যক্তি হিসাবে অাত্মমর্যাদায় ঘা লেগেছে।

অার একটি বিষয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এয়ারপোর্ট পৌছুলে সফরসঙ্গী একদল বেহায়াপনা মহিলাদের ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধরে সেলফি তোলার হিড়িকের ভিডিও দেখলাম(হয়ত ঐসব মহিলাদের প্রফাইলে ছবিগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে,হাজার হাজার লাইক কমেন্ট লাভ ওয়াও রি এক্ট হচ্ছে)।জাতিসত্তা হিসাবে বাঙালীর একটা নিজস্বতা অাছে যা অন্য কোন জাতির নেই।কারন একমাত্র অামরাই বঙ্গবন্ধু -তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে নয়মাস যুদ্ধ করে পতাকা ছিনিয়ে এনেছি। লাল সবুজের পতাকা।শহীদদের রক্ত মুছে যায়নি।তারও বুক-কান-অাত্মা দিয়ে দেখতে পায়, শোনে।ঐদিন যে কাজটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে করা হয়েছে সেটা বেহায়াপনা ছাড়া কিছুই নয়। এবং গৌরবজ্জল বাঙালী জাতির জন্য লজ্জাজনক।

অামরা কিছু পারি অার নাপারি ফেসবুকবাজিতে, সেলফিবাজিতে ওস্তাদ।তেলবাজি ত অাছেই। অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মানসিকতা অারো উন্নত হওয়া দরকার।নিম্ন মানসিকতা দিয়ে উন্নত জাতি গঠন করা সম্ভব নয়।অনুন্নত ও কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার জন্য এখনো অামরা উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছি।যদি মানসিকভাবে উন্নত হতে পারতাম তবে দেশটা অনেক অাগেই উন্নত হয়ে যেত।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক -শিক্ষার্থী ই একটি দেশের পরিবর্তন অানতে পারে।অাধুনিক উন্নত যুগ থেকে এই ধারাবাহিকতাই চলে অাসছে।কেননা এখান থেকেই নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় ;বিকশিত হয়।নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি হয়।নতুন কিছু সৃষ্টি হলে এখান থেকেই হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *