“সাকিব-অপু’র গোপন-বিয়ে” একটি ছিঃনেমা নাকি বাস্তব-ঘটনা?

সিনেমা মানে অভিনয়শিল্পীদের দ্বারা ছায়াছবিপ্রদর্শন। আর সেখানে নায়ক, নায়িকা, ভিলেন ও পার্শ্বচরিত্রসহ আরও কতকগুলো জীবন্ত মানুষ থাকে। এরা চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী। সিনেমার প্রয়োজনে এরা একেকজন একেক-পদে অভিনয় করে থাকে। কিন্তু অভিনয়-জগৎ আর বাস্তবজীবন কখনও এক নয়। তবে আমাদের এও মনে রাখতে হবে যে, সিনেমা কখনও বাস্তবজীবনের বাইরের কোনোকিছু নয়। আর এখানে সবসময় ‘অবাস্তব-কাল্পনিক’ কোনোকিছুর অবতারণা করা সমীচীন নয়। যারা চলচ্চিত্রশিল্পী তাদের প্রত্যেকেরই পরিবার রয়েছে। আর এদের উদ্ভব ও বিকাশও হয়েছে স্ব-স্ব পরিবারের হাত ধরে।

“সাকিব-অপু’র গোপন-বিয়ে” একটি ছিঃনেমা নাকি বাস্তব-ঘটনা?
সাইয়িদ রফিকুল হক

বহুদিন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিলো—বর্তমান ‘বাংলা-ছিঃনেমা’র বিশিষ্ট-নায়ক সাকিব খান ও অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস নাকি বিবাহ করেছে। এসব খবর অনেক জায়গায় দেখতে পেয়েছি। তখন এসব নিয়ে মাথা ঘামাইনি। কারণ, এখন বাংলা-চলচ্চিত্রের যে অবস্থা এখনকার ছায়াছবিকে আর ‘সিনেমা’ কিংবা ‘মুভি’ বলতে ইচ্ছে করে না। এগুলো হলো আজকালকার ছিঃনেমা। আর এগুলো প্রদর্শিত হয় দেশের একশ্রেণীর ছিঃছিঃ-হলে।

এইসব নায়ক-নায়িকা নিয়ে কখনও মাথা ব্যথা ছিল না। তাই, এদের নিয়ে কখনও কৌতূহলবোধ করিনি। কিন্ত অতিসম্প্রতি হালের ‘ঢাকাই-সিনেমা’র নায়িকা অপু বিশ্বাস, সাকিব খানের সঙ্গে তাদের প্রেম ও গোপন-বিয়ে নিয়ে যে-সব কথা বলেছে—তাতে আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। আর এই ঘটনাটির আগাগোড়া বিশ্লেষণ করে একজন বাঙালি হিসাবে আঁতকে উঠেছি। আর ভাবছি: আমাদের সমাজের সর্বত্র আজ ঘুণ লেগেছে। আর এই বিষাক্ত-ঘুণপোকা আমাদের সর্বক্ষণ কুরে-কুরে খাচ্ছে। মানুষের নৈতিক-চরিত্রের সীমাহীন অধঃপতন ঘটেছে। আর একশ্রেণীর মানুষরূপী-অমানুষ এখন জীবনটাকে শুধুই ভোগের দৃষ্টিতে দেখছে। এরা কী অবলীলাক্রমে ভুলে যাচ্ছে নীতি-নৈতিকতা, দায়দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ ও মনুষ্যত্বের প্রয়োজনীয়তা।

সিনেমা মানে অভিনয়শিল্পীদের দ্বারা ছায়াছবিপ্রদর্শন। আর সেখানে নায়ক, নায়িকা, ভিলেন ও পার্শ্বচরিত্রসহ আরও কতকগুলো জীবন্ত মানুষ থাকে। এরা চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী। সিনেমার প্রয়োজনে এরা একেকজন একেক-পদে অভিনয় করে থাকে। কিন্তু অভিনয়-জগৎ আর বাস্তবজীবন কখনও এক নয়। তবে আমাদের এও মনে রাখতে হবে যে, সিনেমা কখনও বাস্তবজীবনের বাইরের কোনোকিছু নয়। আর এখানে সবসময় ‘অবাস্তব-কাল্পনিক’ কোনোকিছুর অবতারণা করা সমীচীন নয়। যারা চলচ্চিত্রশিল্পী তাদের প্রত্যেকেরই পরিবার রয়েছে। আর এদের উদ্ভব ও বিকাশও হয়েছে স্ব-স্ব পরিবারের হাত ধরে।

মানুষের জৈবিক প্রয়োজনে বিবাহ করতে হয়। কিংবা অধুনা অনেকে এজন্য ‘লিভ-টুগেদার’ করছে। সে যাই করুক না কেন—দুটি নর-নারী একজায়গায় থাকার সিদ্ধান্তগ্রহণ করলে সর্বক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। এক্ষেত্রে সিনেমার নায়ক হলেও তার দায়দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। সে চলচ্চিত্রের অভিনেতা—আবার একইসঙ্গে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক জীব মাত্র। আর সর্বক্ষেত্রে তাকে দায়িত্বপালন করতে হবে।

সাকিব খান ‘ঢাকাই-সিনেমা’র নায়ক। আর সে হালের জনপ্রিয় নায়কও বটে। তার হাতে এখন অনেক টাকা-পয়সা! আর সম্পদও সে কম গড়েনি। তারউপর তার বিভিন্ন ব্যবসাও রয়েছে। কিন্তু সাকিব খানরা বুঝতে পারে না যে, সিনেমার অভিনয়—আর বাস্তবজীবনের ঘটনাপ্রবাহ এক নয়। সে চলচ্চিত্রে সবসময় নায়কের অভিনয় করেছে। কিন্তু আজ সে বাস্তবজীবনের একটি আসল সিনেমায় অভিনয় করেছে সত্যিকারের খলনায়কের। সে এখন ভিলেন।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ পেয়েছে: সাকিব খান প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে আটবছর আগে (২০০৮ সালের ১৮ই এপ্রিল) নায়িকা অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেছে। আর এসময় নায়িকা অপু বিশ্বাস ধর্মান্তরিত ও মুসলমান হয়ে নামধারণ করেছে—অপু ইসলাম খান!

আসুন, ঘটনাটি আমরা সাদাচোখে দেখি। আর ভাবি: একটি মেয়ে একটি ছেলের জন্য তার নিজের ধর্মত্যাগ করেছে—তাকে বিবাহ করেছে—তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিকসম্পর্কস্থাপন করেছে—আর অবেশেষে তারই সন্তানের মা হয়েছে। এগুলো এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার ও সত্য। সাকিব খানও স্বীকার করেছে—অপু বিশ্বাসের দাবিকৃত-সন্তান—আব্রাহাম (আবরাম) খান জয় তারই সন্তান। আর সে আরও বলেছে: “সন্তানের দায়িত্ব নেবো আমি। কিন্তু অপুর দায়িত্ব আমি নেবো না।” তার কথাটি কোনো নায়কের মতো মনে হয়নি। এমনকি তার বক্তব্য কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতোও মনে হয়নি। তার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে—সে এখন বাস্তবজীবনের কোনো দুর্ধর্ষ ভিলেন। আর সে এরশাদ শিকদারের মতো নারীলোভী। এর কারণ, সে ইতোমধ্যে ‘বুবলি’ নাম্নী এক যৌবনবতী-নায়িকার সঙ্গে বেশ সখ্যতা গড়ে তুলেছে। এই মেয়ের সঙ্গে ফালতু-ছিঃনেমা “বসগিরি” করতে গিয়ে তাদের প্রথম লটরপটর। আরও অনেক যৌনআবেদনময়ী-মেয়েদের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে। আসলে, সে বিশ্বাসঘাতক-পুরুষ। সাকিব খানের মতো মানুষেরা আমাদের সংসারের নেহায়েৎ আগাছা মাত্র। এদের আসলে নায়ক হওয়ার কোনো যোগ্যতা নাই। এরা শুধু সিনেমার রঙিন-পর্দায় নায়ক। আর বাস্তবজীবনে একেকটা কতবড় ভিলেন!

অপু বিশ্বাস আমার কোনো বন্ধু নয়—কিংবা আমার আত্মীয় নয়—তবুও সে স্বজনের মতো। কারণ, সে তো এই বাংলাদেশেরই মেয়ে। তার দুঃখ আমাদের স্পর্শ করেছে। তার কারণ, সে আমাদের সমাজের একজন নির্যাতিতা-নারী। আর সে একটা দাম্ভিক-পুরুষ-কর্তৃক শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই, ঘটনার বিচারে মানুষ আর মানবতার পক্ষাবলম্বী হওয়ার কারণে অপু বিশ্বাসের প্রতি এই সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো—এখানে, একটি অন্যায়, অধর্ম, অন্যায্য ও অমানবিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আর বর্ণচোরা সাকিব খানদের মতো নায়করূপী-ভিলেনদের পতন চাই। এদের শাস্তি চাই। তার আগে আশা করি সাকিব খানের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আর সে ভুলের জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্ত্রী-পুত্রের প্রতি যথাযথ দায়িত্বপালন করতে সচেষ্ট হবে।

নায়িকা অপু বিশ্বাস আর সাকিব খানের বিয়ে যে সত্য তা এই একটিমাত্র ভিডিওই যথেষ্ট।
ভিডিওলিংক: https://youtu.be/x6H5PAgu6aU

আটটি বছর সাকিব খান নামক এক ভিলেন—নায়িকা অপু বিশ্বাসকে গোপনে বিবাহ করে তাকে যথেচ্ছা-ভোগ করেছে, তাকে সন্তানের মা হতে বাধ্য করেছে, আর তাকে এই বিবাহ গোপন রাখতে বাধ্য করেছে। এসবইতো ফৌজদারি অপরাধ। আর সাকিব খান নিজেকে ধোয়া তুলসীপাতা মনে করে অপু বিশ্বাসকে অস্বীকার করে দেওয়ানী অপরাধও করেছে। এখন দেশের আদালত তার বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারি—উভয় অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করতে পারে।

‘সাকিব-অপু’র গোপন বিয়ে—এটি ঢাকাই কোনো ছিঃনেমা নয়। এটি একটি বাস্তবঘটনা। এটি একটি মেয়ের জীবন-যৌবনের প্রশ্ন। এটি একজন নারীর অধিকারের প্রশ্ন। আর এটি নারীত্বের মর্যাদারও প্রশ্ন। একজন সাকিব খান গায়ের জোরে কিংবা নিজের পরিচয়, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির দাপটে এসব এড়িয়ে যেতে পারে না। রাষ্ট্র এদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থাগ্রহণ করতে বাধ্য।
মানুষের মনে শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১১/০৪/২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *