“পরকীয়া “শব্দটি বেশ শক্তিশালী

পরকীয়া তো জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় “প্রয়োজন” গুলোর সারিতে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে! এমনও হতে পারে, কিছু দিন পর অথবা এখনই যদি “পরকীয়া ” করছে এমন কাউকে প্রশ্ন করা যায়, “কেন এরকম করছেন?
উত্তরে হয়ত বলবে, “খুব প্রয়োজন ছিল।” ঠিক যেন, থাকার জন্য বাড়ী প্রয়োজন-চলার জন্য একটা গাড়ী প্রয়োজন-খাওয়ার জন্য প্লেট। অবশ্য এ সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে, বাড়িতে কাজ-কর্ম করার জন্য একজন স্ত্রী অথবা ছেলের বৌও প্রয়োজন!যা হোক।


“পরকীয়া”- শব্দটি বেশ শক্তিশালী আর এ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা শোনার ব্যপারে আমাদের আগ্রহের কমতি দেখা যায় না(নিজস্ব অভিমত)। কিন্তু আজ “পরকীয়া” নিয়ে লিখতে বসে বেসম্ভব রকম বিভ্রান্ত বোধ করছি। আমার অলস মস্তিষ্কের বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে,একটু সমুদ্রগভীর চিন্তা করতে গিয়ে সব কিছু গোল্লা পাকিয়ে যাচ্ছে। কি লিখব বিষয়টা নিয়ে?

পরকীয়া তো জীবনের নিত্য প্রয়োজনীয় “প্রয়োজন” গুলোর সারিতে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে! এমনও হতে পারে, কিছু দিন পর অথবা এখনই যদি “পরকীয়া ” করছে এমন কাউকে প্রশ্ন করা যায়, “কেন এরকম করছেন?
উত্তরে হয়ত বলবে, “খুব প্রয়োজন ছিল।” ঠিক যেন, থাকার জন্য বাড়ী প্রয়োজন-চলার জন্য একটা গাড়ী প্রয়োজন-খাওয়ার জন্য প্লেট। অবশ্য এ সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে, বাড়িতে কাজ-কর্ম করার জন্য একজন স্ত্রী অথবা ছেলের বৌও প্রয়োজন!যা হোক।

পৃথিবীর আদি থেকেই পরকীয়ার প্রচলন। ধীরে ধীরে মানব সমাজ সভ্য হয়েছে, কিন্তু পরকীয়ার মত অসভ্য সমস্যাটা রয়েই গিয়েছে। শত বছর পূর্বের কথা ধরা যাক, তখন মহিলারা মেনে নিত ব্যাপারটা এবং বুদ্ধির বিকাশের অভাবে, মহিলাদের মনে বিশেষ দাগ কাটত না সমস্যাটা।

তবে শুধু যে পুরুষরাই এর জন্য দায়ী তা তো নয়, একজন মহিলা না জড়িত থাকলে পরকীয়াটা হবে কি ভাবে? বছর বিশ অথবা ত্রিশ আগের কথা ধরা যাক, “স্বামীর বন্ধুর সাথে স্ত্রীর পলায়ন, স্ত্রীর বান্ধবীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক “- এই ধরনের ঘটনাগুলো বেশ প্রচলিত ছিল।এসব ক্ষেত্রে, মোটামুটি ভাবে সুষ্ঠ একটা সমাধান ছিল বিবাহ বিচ্ছেদ।লোক লজ্জার ভয়ে মহিলারা বিশেষ তোলপাড় করত না।পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য । তবে,তখন সমস্যাটা শতকরা বিশ ভাগ ছিল।কিন্তু বর্তমানে
সমস্যাটা নব্বই শতাংশের বেশী ।

আমার ক্ষুদ্র পার্সেপশন মনে করে,পরকীয়ায় জড়াবার বয়সটা, ২৮-৩০ থেকে ৫০-৫৫ পর্যন্ত (পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫)। অাসুন একটু বিশ্লেষন করা যাক, কেন মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারণ অনেক আর ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে, ভিন্ন ভিন্ন কারণ। এটা স্বীকার্য যে, বিবাহ পূর্ব ও বিবাহত্তর সম্পর্কের মধ্যে শূণ্য-মাটি তফাৎ।

এক্ষেত্রে আমি শুধু ছেলেদের পরিবর্তনের কথাই উল্লেখ করব। প্রেমিক হিসেবে ছেলেটি মিষ্টি কথার ভান্ডার, অতিমাত্রায় বাধ্যগত (অাদিক্ষেতা), যা একটি কমবয়সী মেয়ের একান্ত কাম্য।বস্তুত, ছেলেটি মোটেও মিষ্টি কথার ফুলঝুরি নয় আর বাধ্যগত হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না (ব্যতিক্রম আছে)। শুধু মাত্র মেয়েটিকে পাওয়ার জন্য এই রূপ ধারন।স্ত্রী হিসেবে মেয়েটিকে নিজের পরিবারে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর দিন পনেরর মধ্যে আসল চরিত্রটা বেরিয়ে পড়ে।

অভিনয়ের আর দরকার নেই, স্ত্রী তো এখন হাতের মুঠোয় -পকেটের রুমাল! নিজ পরিবারের সামনে ছেলেটির ভিন্ন রূপ আর পরের বাড়ির মেয়েটিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার চিরচারিত প্রথাটাকে অনুসরণ করাটাকেই শ্রেয় মনে করে।আর ঢাকের
বাড়ির মত, তথাকথিত অতি শিক্ষিত শ্বশুরবাড়ী তো আছেই! স্বামীর উদাসীনতা ও প্রতিকূল পরিবেশ, ধীরে ধীরে যে মেয়েটিকে অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে সাহায্য করবে না তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না; পারিপার্শ্বিক সমস্যা গুলো আমি উহ্য রাখলাম।

সেটেল্ড ম্যারেজের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিভাবকরা বিচার করছেন উপার্জন ক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবারটা ছোটো কিনা, আর মেয়েটা অতিমাত্রায় সুন্দরী কিনা, বয়স যথেষ্ট কম কিনা (ছেলের তুলনায়), কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতি শিক্ষিতা কিনা।কারণ বলতে হবে তো – আমার ছেলের বৌ আর্কিটেক্ট, ডাক্তার ইত্যাদি ইত্যাদি। একবারও ভেবে দেখে না ছেলেটি ও মেয়েটির নেচারের মধ্যে কোনো মিল আছে কিনা! হয়ত দেখা গেল, ছেলেটি মিশুক না, নিজেকে প্রকাশ করে কম, নিজের
মনে থাকতে পছন্দ করে; অপর পক্ষে, মেয়েটি উচ্ছল প্রানবন্ত।দুজনের কেউই দোষী না তাদের স্বভাবের জন্য, কিন্তু ওদের মিলবে কি?

মেয়েটির উচ্ছলতা (বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে), ছেলেটির বিরক্তির কারণ, আর মেয়েটি, মনের খোরাকের অভাবে অবসন্নতায় ভুগবে। এভাবে কয়েক বছর কাটবে, কিন্তু কত দিন? বিবাহিতা হওয়া সত্যেও, তার মত স্বভাবের কাউকে যে তার ভাল লাগতে
পারবে না – এটা বলা আমার দৃষ্টিতে অন্যায়। সুতরাং,”পরকীয়া” হানা দিতেই পারে, অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এবার আসি ইন্দ্রিয়সুখ পরায়ণ ছেলেদের কথায় (বলতে বাধ্য হচ্ছি বেশীর ভাগ ছেলেই ইন্দ্রিয়সুখ পরায়ণ, মেয়েরা অতি ইন্দ্রীয়সুখ পরায়ন ) । বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তান জন্মের পর স্ত্রীর চেহারায় অবনতি ঘটে (সাময়িক) আর পুরুষ তড়িৎগতিতে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে । অন্য স্ত্রীলোকে আকৃষ্ট হতে মাসভর সময়ও বোধ হয় নেয় না। (দুর্বলচিত্ত পুরুষ) এবার আসি মধ্য বয়সের “পরকীয়া” প্রসংগে ।

মধ্যবয়সী পরকীয়াটা বেশ জটিল আর পরকীয়ার কারণটা কখনই অন্যের সাথে মেলে না। কয়েকটা কারণ এখানে উল্লেখ করছি- বুদ্ধিজীবি সমাজে, পরকিয়ার মূল কারণ (আমার মতে), ইন্টালেক্টের বৈষম্য। শিক্ষিতা হলেও বছরের পর বছর ঘর সংসার সামলাতে গিয়ে বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দেয়া হয়ে ওঠেনি মহিলাটির, ফলস্বরুপ বিভিন্ন ধরণের আলোচনায় অংশ গ্রহণে অপারগ, এমনকি স্বামী ভদ্রলোকের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতেও সে অক্ষম! সুতরাং ভদ্রলোকটি ঘরের বাইরের সেই চৌকষ মহিলাটির প্রতি আকর্ষিত হতেই পারেন, আর পরকিয়ার সংগিনী মহিলাটি হয়্ত “বানরের গলায় মুক্তার মালা”। ব্যস,হয়ে গেল দুই যোগ দুই চার। মন বলে কথা, দড়ি দিয়ে আর কতক্ষণ
বেঁধে রাখা যায়!

আবার বয়সের বৈষম্য কখনও কখনও ( বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ) বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় । স্ত্রী হয়্ত পঞ্চাশ পার করে উঠতে পারেনি, অপর পক্ষে,স্বামী ষাট পেরিয়েছেন পাঁচ বছর আগেই! মানসিক ও শারীরিক চাহিদার তাগিদেই মহিলা নেমে
পড়লেন পরকিয়ার মাঠে! (পুরুষদের ক্ষেত্রেও তাই)। দোষ দেয়া যায় না, মন বলে কথা! পক্ষে এবং বিপক্ষে অনেক বিশ্লেষনই করা যেতে পারে, কিন্তু লিখতে বসে আমি অসম্ভব ভাবে বিরক্ত বোধ করছি। না লিখলেই বোধহয় ভাল করতাম!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *