সাংস্কৃতিক বিপ্লব ই পারে জঙ্গীদের শিকড়সমেত তুলে পচা নর্দমায় ফেলতে

“সাংস্কৃতিক জাগরন না হলে মৌলবাদ সমূলে উৎপাটন হবে না”-কথাটি বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অা ক ম মোয়াজ্জেম হোসেন।

কথাটা যেমন নিরেট তেমনি খাঁটি সত্যি।হ্যাঁ একমাত্র সাংস্কৃতিক বিপ্লব ই পারে এদের শিকড় উপড়ে ফেলতে।কিন্তু সরকারীভাবে তেমন কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিনবা সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ দেয়া হচ্ছে কি! শুনলাম এ বছর পহেলা বৈশাখে সব স্কুল,কলেজ,বিশ্বববিদ্যালয়গুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রার অায়োজন করা হবে।কিন্তু এ বিয়ষে অামার একটু দ্বীমত অাছে;মত যে নেই তা নয়।তবে এটি অনেকটা রাজনৈতিক ধাচের।রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই এমন মঙ্গল শোভাযাত্রা করে থাকেন বিভিন্ন কারনে অকারনে;জনগনকে ভোগান্তিও পোহাতে হয়।পহেলা বৈশাখে সারাদিন-রাত অনুষ্ঠান করানো হোক না কেন।পহেলা বৈশাখে এমন অায়োজন যদি সত্যি হয় তবে তাকে সাধুবাদ জানাই পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে অন্তত প্রতিমাসে একবার হলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অায়োজন করা উচিৎ।প্রতিটি স্কুল কলেজে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তৈরি করা হোক।যা মৌলবাদকে পচা নর্দমায় ফেলিয়ে গন্ধ তৈরি করে পিষে মারবে।

অথছ এই দেখুন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দিকে তাকিয়ে।এবার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে গেছিলাম কিন্তু বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় ই ক্যাম্পাস ধুধু করছিল।একটি মেয়েরও দেখা পায়নি।একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম উনি বললেন প্রশাসনের নিষেধ অাছে।পরে একে একে জানতে পারলাম এখানে তেমন কোন সাংস্কৃতিক সংগঠনই নাই।এমনকি তেমন কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়না।অথছ এটি একটি মুক্তচিন্তা বিকাশোন্মুখত বিশ্বপাঠাগার।এবার রাবির দিকে অাসি রাবিতে পহেলা বৈশাখে গত দু বছর দেখছি সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সব অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে, মাইকিং করা হচ্ছে।এবছরও হয়ত এর বিকল্প হবে না,তবে চাই রাত দশটা নয়,বারটা নয়,সারারাত ক্যাম্পাসগুলো উন্মুক্ত থাকুক।সবাই নিজ ইচ্ছামত ঘুরুক,নাচুক।

নিরাপত্তার কথা বলে সব বন্ধ করে দেয়া হয়।তবে মনে রাখবেন বাংলার অধিকাংশ লোকই মৌলবাদের বিরুদ্ধে।কিঞ্চিত পার্সেন্ট উচ্চ শিক্ষিতরা একদল তরুন-তরুনীকে মগজ ধোলাই করে মৌলবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।এর ভিতরও রয়েছে রাজনীতিজ্ঞরা।যারা অন্তরালে থেকে দেশ ধ্বংসযজ্ঞে নেমেছে।অার একটি বিষয় ফেইসবুক যা একটি পথ, এখানে দেখি বিভিন সৃষ্টিশীল মৌলবাদিদের লেখা;সরকারের নজরে পড়েনা হয়ত।বাঙালী পৃথিবীর সবচেয়ে ধর্মভীরু জাতি।ধর্মীয় কথার অন্তরালে এদেরকে সহজেই ডাইভার্ট করা যায়।তাই সরকারের এদিকটাতেও খেয়াল দেয়া উচিৎ।সকল ধর্মীও বই-এর সুন্দর ও সৃষ্টিশীল ব্যাখ্যা জনগনের কাছে পৌছানো উচিৎ।কোন ধর্মই সন্ত্রাস, হত্য,জুলুম চায় না।সকল ধর্মই শান্তি চায়।তবে তার সুচারু ব্যাখ্যা অাবশ্যক।এতে সরকারী পদক্ষেপ ত চায়ই তাছাড়া অাপনার,অামার,অাপনাদের সহযোগীতা প্রয়োজন।সোনার বাংলাদেশে সোনার ফসল ফলবেই এফসল ভিনদেশীররা কেটে নিয়ে যাক এ অামরা হতে দিব না।

২ thoughts on “সাংস্কৃতিক বিপ্লব ই পারে জঙ্গীদের শিকড়সমেত তুলে পচা নর্দমায় ফেলতে

  1. শুধু নির্দেশ দিলেই তো হবে না।
    শুধু নির্দেশ দিলেই তো হবে না। স্কুল গুলোতে গান বাজনা খেলা ধুলার কোন সংস্কৃতিই তো নেই। আমার জানা যশোরের মনিরামপুর থানার ১২/১৪ টা স্কুলের কোনটাতেই একটা হারমোনিয়াম নেই। নেই গান শেখানোর কোন শিক্ষক। গত ১৫/২০ বছরে অন্তত কোন লিটিল ম্যাগাজিন বা দেয়াল পত্রিকা বের হয় নি কোথাও। আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বলে কিছু হয়েছে বলে শুনিনি। ২৬শে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বর দিনে দুই একটা স্কুলে দায় সারা গোছের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা হয়। মানুষের উতসাহ (হয়তো) আছে কিন্তু প্রশাসন বা স্কুলের বাস্তবতঃ কোন আগ্রহ নেই সাংস্কৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা বা তা বৃদ্ধি করা।

    কোন শিক্ষক মনে করেন না যে এটা তাঁদের কর্তব্য। তাঁরা স্কুলে আসে, পোলাপাইন পড়ায়,মাস শেষে বেতন নেয়। বিকেলে প্রাইভেট পড়ায়, সন্ধ্যায় টিভি দেখে এশার নামার ‘আদায় করে’ (প্রাক্তন ছাত্রী) বৌকে বোগালডাবা করে ঘুমোতে যায়।

    1. কি উত্তর দিব খুজে পাচ্ছি না
      কি উত্তর দিব খুজে পাচ্ছি না।তবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব খুব জরুরী অামাদের জন্য।শহরের গুটিকয়েক স্কুল কলেজ ছাড়া সবখানে একই অবস্থা।অামি যে স্কুলে পড়েছি সেটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি অথছ অামি রাবিতে পড়ি।ঐ যে দায়সারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত কিছু কিছু ঐসময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *