ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সাম্প্রদায়িকতার লালনকারী বলা যাবে না কেন???????

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এদেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে যার অবদান অসামান্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে এদেশের অনেক সূর্য সন্তানদের। বাহান্ন থেকে শুরু করে একাত্তর এবং পরবর্তীতেও দেশের সংকটময় অবস্থায় পালন করেছে অগ্রণী ভুমিকা। তাই বাংলাদেশ কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋণ শোধ করতে পারবে না।

সাতচল্লিশে এই দেশের জন্ম হয়েছিল দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে। একাত্তরে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র রক্তে এই পাপ ধুয়ে জন্ম হয় এক আসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সূতিকাগার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গোটা বাংলাদেশের চেয়ে চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারনায় সবসময় কয়েক ধাপ এগিয়ে। বাংলাদেশের জন্ম অসাম্প্রদায়িক হিসেবে হলেও, সাম্প্রদায়িকতা এর প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক রুপে চিহ্নিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও অসাম্প্রদায়িক হতে পারে নি।

ঢাবিতে ভর্তির সময়েই ছাত্রদেরকে সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজালে আটকে ফেলা হয়। এখানে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এক পক্ষে মুসলিম আর অন্য পক্ষে অমুসলিম। মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য পৃথক থাকার ব্যবস্থা। একটি প্রতিষ্ঠান যদি অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-ভাবনা লালন করে তাহলে সেখানে এরকম বন্দোবস্ত কেন? তারা যদি একে অপরের সাথে ভালোভাবে মেলামেশার সুযোগই না পায় তাহলে একে অপরকে জানবে কিভাবে? অন্য ধর্মের সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে অন্য ধর্ম বা ওই ধর্মের লোকদের প্রতি শ্রদ্ধা আসবে কিভাবে? যে প্রতিষ্ঠানে এই প্রকারের বৈষম্য সে প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িক বলা যায় কি?

অনেকেই এই বিভাজনের পক্ষে যুক্তি দেখান এই বলে যে এর ফলে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্ম চর্চার সুযোগ পান। তাদের জন্য আলাদাভাবে মন্দির আছে। যদিও সেখানে গৌতম বুদ্ধ ও যিশু খ্রিস্টের মূর্তি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কখনো প্রার্থনা করতে দেখিনি। কেন সেটা সেখানকার সংখ্যাগুরুরাই ভালো বলতে পারবে। আদতে এর ফলে লাভ হয়েছে হিন্দুদেরই। তারা অন্তত একটা জায়গায় সংখ্যালঘুর তকমা মুছে শক্তিশালী সংখ্যাগুরু হতে পেরেছে। জগন্নাথ হলের বুদ্ধ মূর্তিটি দীর্ঘদিন অসমাপ্ত অবস্থায় ছিল শুধুমাত্র সেখানকার সংখ্যাগুরুদের আপত্তির কারনে।

এটা কি এভাবে করা যেত না যে প্রত্যেকটি হলে অমুসলিমদের সমানভাবে সিট দিয়ে প্রত্যেক হলে আলাদা প্রার্থনার জন্য কক্ষ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্থানে এদের জন্য মন্দির। প্রত্যেক হলে আলাদা প্রার্থনা কক্ষ দেশের সংখ্যাগুরুদের আপত্তিতে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু প্রশাসন অন্তত আলাদা স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে পারত। কিন্তু সেটাও সম্ভব নয়। এখানকার কোন সম্প্রদায়ই তা সমর্থন করবে না। কারন তারা অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আওড়াতে পছন্দ করলেও অসাম্প্রদায়িক হতে চায় না।

সারা দেশে যখন হিন্দুদের উপর হামলা হয় তখন জগন্নাথ হলের ছাত্রদেরকে আন্দোলন করতে দেখেছি। অন্য মুসলিম হলের ছাত্ররা আসেনি। আবার মায়ানমার মুসলিমদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন করতে দেখেছি। হিন্দুদের নির্যাতন তাদের অনুভূতিকে ভোঁতা করে আবার মুসলিম নির্যাতনে তা ধারালো হয়ে উঠে। এবং আমাদের এটাও মানতে হবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসাম্প্রদায়িক চিন্তা লালন করে।
এটা অসাম্প্রদায়িক ট্যাগধারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রদায়িক চিত্র হলে সারা দেশের কি অবস্থা ভাবুন? তাই বলছি কি? মুখে যতই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বলে চিৎকার করি না কেন? এ দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *