ইসলাম, জঙ্গিবাদ, সহী মুসলিম, সরকার ও আমার কিছু কথা………………………।।

গুলশান হামলার পর সরকারের জঙ্গি বিরোধী ম্যারাথন অভিযানের ফলে কিছু দিন জঙ্গি কার্যক্রম স্তমিত হয়ে পড়লেও, আবারো তারা বীর বিক্রমে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। হয়তোবা তারা এখনও তাদের পূর্ণ শক্তির পরিচয় দেয় নি। জানি না সামনের দিনগুলোতে কি অপেক্ষা করছে?

অনেকদিন পর লিখতে বসছি। কিছু কথা কিছু প্রশ্ন মাথাটাকে ভারাক্রান্ত করে রাখছে, সেটাকে হালকা করার প্রয়াস মাত্র। শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইদের দমনের পর আবারো জঙ্গি হামলার সূচনা হয়েছিল থাবা বাবাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটা ছিল পোস্টার মাত্র। তাই কেউ গায়ে লাগায় নি। ভেবেছিল মুভি ফ্লপ হবে। এরপর শুরু হল একের পর এক মুক্তমনা ব্লগার কে কোপানো। তারপরও তাদের গণ্ডারের চামড়ায় কোন অনুভূতি হয় নি। বারবার বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। বারবার তারা চিৎকার করে বলেছিল- বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই। মনে হয় এই কথাটা জঙ্গিদের ইগোতে আঘাত হেনেছিল। তারা তাদের অস্তিত্বের প্রমান দিতে বিদেশি নাগরিক, পুরোহিত, যাজক, পীরদের হত্যা করতে শুরু করল।

তারপরেও আমাদের চেতনাধারী নেতাদের হুঁশ হল না। জঙ্গিরাও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তারা এবার মসজিদ, মন্দির, রেস্টুরেন্টে হামলা করা শুরু করল। এবার আমাদের মডারেট নেতাদের একটু টনক নড়ল। কিন্তু মুভি ততদিনে হিট। ঘরের কোনে অবহেলায় পড়ে থাকা বিষাক্ত কালসাপের বাচ্চাটি আর বাচ্চাটি নেই। ইতিমধ্যে সে অসংখ্য কালসাপের জন্ম দিয়েছে। জঙ্গি হামলার সূচনা হয়েছিল চাপাতি দিয়ে, চলছে বোমা বন্দুক দিয়ে, শেষ হবে কি দিয়ে? আদৌ কি শেষ হবে? মাটির গভীরে প্রোথিত বিষবৃক্ষের শিকড় উপড়ানো এত সহজ নয়?

আমার মনে হয়, দেশে জঙ্গি আছে কিনা? এ ব্যাপারে সরকার এখনও সন্দিহান। তারা এখনও জঙ্গিবাদের জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করছে। বিএনপি দোষারোপ করছে সরকার কে। এ থেকে আমরা কি বুঝব? এ দুই দলের যেকোনো একদল জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক অথবা দু দলই। এই রঙ্গভরা বঙ্গদেশে কোন কিছুর সম্ভবনাকেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এবার বাংলার সহী মুসলিমদের নিয়ে কিছু কথা। সহী মুসলিমদের আরেক নাম হচ্ছে সুবিধাবাদী মুসলিম। এরা বৃষ্টি যেদিকে পড়ে ছাতা সেদিকেই ধরে। তাদের বাইরের বেশভূষা আর ভেতরের বেশভূষার বিস্তর তফাৎ। তাদেরকে যখন কোরানের আয়াত দেখিয়ে বলা হয় এই দেখ, আল্লাহ কাফেরদের হত্যা করতে বলছে। তখন তারা বলে- এটার প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। কোরানের প্রত্যেকটি আয়াতই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। তোমার কাছে যেটা জিহাদ করবার মত কারন নয়, সেটাকেই জঙ্গিরা জিহাদের কারন বলে মনে করছে। আল্লাহ তো কোরানে জিহাদ করার কথা বলছেন। কিন্তু সেখানে তো কোন মানদণ্ড নির্দিষ্ট করা নেই। তাহলে তুমি তাদের দোষ দিবে কেন? সমস্যার মূলটাকে উপরে ফেলতে না পারলে কখনো তার সমাধান সম্ভব নয়।

আরও কিছু কথা, আমাদের চরিত্র গঠন, মানসিকতা ও মূল্যবোধ তৈরির ব্যাপারটা শুরু হয় পরিবারেই। আমাদের পরিবার, সমাজের তৈরি মূল্যবোধের উরধে নিজস্ব মূল্যবোধ তৈরির প্রক্রিয়াটা অনেক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। সবাই এটা পারে না। আমাদের আধিকাংশ পরিবারের শিক্ষাটা শুরু হয় লাল পিঁপড়া কালো পিঁপড়ার গল্প দিয়ে। আশা করি এটা সবাই জানেন। ছোটবেলাতেই একটা শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয় সাম্প্রদায়িকতা, অসম্মান আর ঘৃণার বীজ। সে বড় হয় এটা নিয়েই, বের হয়ে আসতে পারে না। আমাদের পরিবার সমাজই তৈরি করে জঙ্গি।

বাংলাদেশে আইএস, আল কায়েদা আছে কিনা জানি না? কিন্তু এটা জানি বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। স্পষ্ট করে বললে ইসলামী জঙ্গি, যাদের শিকড় অনেক গভীরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *