ধর্মে রক্ত চোষক

একটি শিশু যখন বড় হয় ধীরে ধীরে; আমরা তার হাতে বই তুলে দিইনা। তুলে দেই টিভি বা মোবাইল’কে। তাদেরকে শিক্ষামূলক কিছু শিখাইনা; বদলে তাদের অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নাচ কিংবা সিনেমা তুলে দিই। পোশাকের বিবেচনায় অশ্লীল বলছিনা। অশ্লীল বলছি পরিচালকের কুরুচিপূর্ণ বিকৃত চিন্তাধারা’কে; যেখানে নারী মাত্র’ই ভোগ্য পণ্য, কামের পিপাসি- হিসেবে তুলে ধরা হয়।


পৃথিবীতে ধর্মে বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী দুটোই বিদ্যমান। অবিশ্বাসীদের মতামত বিশ্বাসীরা ধর্ম অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। আস্তিক আর নাস্তিক শব্দ দুটো বাজারে এখন চড়া দামে চলছে। আস্তিকদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে তাদের ধর্ম খুব শান্তিবাদী, মানবতাবাদী, শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং সত্য ও সঠিক পথটা দেখাই,তাই ব্যক্তি অন্য ধর্মে বিশ্বাস করে না। পৃথিবীর সবকিছুর সৃষ্টি পেছনে রয়েছে ধর্মের অবদান এও বিশ্বাস আছে। নাস্তিকরা ধর্মে অবিশ্বাসী বলে দাবি করে।

যে ধর্ম যতই মানবতাবাদী,শান্তিবাদী হোক না কেন!এক ধর্ম অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে বা দ্বিমত পোষণ করুক মেনে নেই না। একই ক্ষেত্রে জাত ও বর্ণবাদীরাও। পৃথিবীতে প্রধান চারটা ধর্ম আছে খ্রীস্টান,ইসলাম,হিন্দু ও বৌদ্ধ। সব ধর্ম মানুষের মধ্যে পক্ষ সৃ্ষ্টি করে পৃথিবীকে খন্ড খন্ড করে নিদিষ্ট স্থানে থেকে রাজত্ব করছে পুরো পৃথিবী জুড়েঁ। ধর্মগুলো নিজের মতবাদকে ভাল বলে অন্য মতবাদকে নিন্দা ও সমালোচনা করে। এক ধর্ম অন্য ধর্মের চুল টানাটানি করতে করতে পৃথিবীকে নরক বানালো। সব ধর্মের ইতিহাসের শুরুটা যুদ্ধ আর মানুষের তাজা রক্ত বিশেষ ভূমিকা রাখে। বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা ছিল।

গৌতম বুদ্ধ তার সময়ের জন্য তিনি ছিলেন প্রথাবিরোধী, নাস্তিক, অবিশ্বাসী, বর্ণবাদবিরোধী, জ্ঞানী, পথপ্রর্দশক, দার্শনিক। পরে তার দর্শন রুপ নিল ধর্মে এবং তিনি ধর্মপ্রচারক। বুদ্ধের দর্শনটা হচ্ছে নৈতিকতাবোদ জাগ্রত করা, তার দর্শন মানুষের জন্য অমঙ্গলের নয়। মারামারি, খুনাখুনি, হিংসা, জিহাদ ছিল না বলা দরকার, অহিংসা নীতি প্রচার করত। সে ক্ষেত্রে গৌতম বুদ্ধ প্রশংসার পাত্র। তার আর্দশ ও দর্শনকে সাধুবাদ জানাই।

বর্তমানে তার আর্দশ আর দর্শন কিছু নেই বললেই শ্রেয়। সকল ধর্মের ন্যায় এটাও ব্যবসা করে বাজারে এবং দামী। গৌতম বুদ্ধ এখন বেঁচে থাকলে খুব দুঃখ পেত ধারনা করি। গৌতমের নাম বিক্রি করে তার অনুসারী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা (পুরোহিত) খুব বড় বড় ব্যবসায়ী, ভাল ও প্রগতিশীলও আছে বটে তবে প্রায় ব্যবসায়ী। বৌদ্ধ সমাজ অন্ধকারে বসে ঘোলা ও ময়লা জলের মতো ধর্ম পান করছে। সারাবিশ্বে বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোতে মহাপুরুষ আছে। যে যার যার মতো করে ধর্মকে গুলিয়ে শিরাপ বানিয়ে অন্ধদের পান করাই। একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর জন্য হাজারো ধর্ম্মান্ধরা লাইন ধরে প্রখর রৌদ্রে বা মাঘের শীতে, প্রচুর বৃষ্টিতে ভাত, তরকারি, ফলমূল,টাকা ইত্যাদি নিয়ে বসে থাকে। শুধুমাত্র একজন মানুষের খাবার নিয়ে হাজারো মানুষের ভীর। গৌতম বুদ্ধ তাঁর সময়কালীন এইভাবে পূজিত হয়েছে কিনা সন্দেহ হয়, যেভাবে তাঁর অনুসারীরা পূজিত হয়। ক্ষুরা, কানা, বিকলাঙ্গ, ধনী ও গরীব সবাই পিপঁড়ার মতো লাইন ধরে পূর্ণ ও আর্শীবাদের আশায়। খুব হাস্যকর সমাজ। দু মুটো ভাতের জন্য একজন কৃষক কত শ্রম ও কষ্ট করে, কখনো বা চাষের জন্য বউ সন্তানদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটায় আর এই পুরোহিত জোঁকরা তাদের রক্ত চোষে আরামে দিন কাটায়, ঘুমায়। নামী দামী পুরোহিত জোঁকগুলো এক একটা বড় বড় ভন্ড ও প্রতারক। এরাই নাকি জ্ঞানী, এরাই নাকি সমাজের নাঁক উচুওয়ালা উত্তম বীর, এরাই নাকি সমাজের ধারক বাহক, এরাই নাকি মানবতাবাদী জীব, এরাই নাকি শান্তিবাদী। এরা নাকি মানুষের দুঃখ থেকে মুক্তির পথ প্রদর্শক। গৌতম বুদ্ধের দর্শন প্রশংসনীয়, তবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ভন্ডগুলো নয় এমনকি বৌদ্ধ সমাজও নয়। বৌদ্ধ দর্শন বা ধর্মে যাই থেকে থাক না কেন তবে বর্তমানে বাস্তব বৌদ্ধ সমাজব্যবস্থা তা থেকে বহু দূরে। বর্তমান বৌদ্ধ সমাজকে বিবেচনা করলে, অন্যান্য ধর্মের সমাজ থেকে আলাদা করার প্রয়োজন পড়ে না। সব ব্যবসায়িক ধর্মই রক্ত চোষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *