বেশ্যারাও মানুষ

সামনে নির্বাচন। এলাকার মন্ত্রী তাকে অর্ডার দেয় মানুষকে ভয় দেখীয়ে, নিদিষ্ট কতগুলোকে খুন করে তার জয়ের পথটা যেন সহজ করে।ভয় দেখিয়ে মন্ত্রী হওয়ার স্বভাব আছে। পরের ওপর সে নির্ভর করে। ভাই আর মানুষ খুন করবে না, রাজনীতিও করবে না। মন্ত্রী তাকে অনেক বুঝালেও সে নারাজ, পরে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি তবে পুঙ্গ করেছে তার জীবন। সংসারের হাল ধরার মানুষটায় এখন অচল। তাই স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়া করাতে রজনীকে যেকোনো কাজ করতে হবে। লেখাপড়া তেমন করেনি,তাই কাজ পাওয়া সহজ নয়। খুব খুজার পরেও কোন কাজ সে পাইনি।

রজনীর বাবা রাজনীতি করত,পার্টি করত।এক রাতে অন্য পার্টির লোকজন এসে বাবা ও মাকে খুন করল।বেঁচে ছিল শুধু মেয়েটা।স্বপ্ন দেখত জীবন তার ফুলের মত হবে। কিন্তু স্বপ্ন এখন মাটি হয়ে গেল। চাচা ছিল একমাত্র দেখবাল করার । চাচা পার্টির ভয়ে মেয়েকাটে নিয়ে যায় শহরে।খেটে খাওয়ার শরীর আর নেই চাচার। তার এক পুরানো বন্ধুর সহযোগীতায় ভাতিজীকে চাকরি খুঁজে দেয় নাইট ক্লাবে।হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করত ছোটবেলায়। গানের গলা কতটুকু ভাল বা গানটা কতটুকু ভাল সে বিষয় মুখ্য না হলেও চলবে কারণ যারা গান শুনে তারা রাতে ঘোলা পানি খায় কারো মেমোরি ঠিক থাকে না। সে হিসেবে এলোমেলো গান হলেও সমস্যা নেই তবে মাঝে মাঝে নাভী বা তলপেট দেখা যায় মত শরীরকে নাচাতে হবে। শুরু হল নাইট ক্লাবে গান নাচের জীবন।বছর কয়েক পরে চাচা মারা যায়। চাচা খুব বদমাইশ, ভাইজিকেও নির্যাতন করছিল।একা একটি মেয়ে ভরসাহীন হয়ে গেল।পরে ক্লাবের এক নামী ভাইয়ের সাথে তার বিয়ে হয় যে পার্টি করে।মেয়ে সুন্দর তাই প্রপোজ করেছিল ভাই নিজে।বিয়ে করে সংসার সুখের হয়,আগের রাজনীতি ও পার্টি করে না।ছোটখাট ব্যবসা করে সংসারী,রাজনীতির মাস্তান নয় সে আর।

সামনে নির্বাচন। এলাকার মন্ত্রী তাকে অর্ডার দেয় মানুষকে ভয় দেখীয়ে, নিদিষ্ট কতগুলোকে খুন করে তার জয়ের পথটা যেন সহজ করে।ভয় দেখিয়ে মন্ত্রী হওয়ার স্বভাব আছে। পরের ওপর সে নির্ভর করে সে এখনো মন্ত্রী। ভাই আর মানুষ খুন করবে না, রাজনীতিও করবে না।মন্ত্রী তাকে অনেক বুঝালেও সে নারাজ,পরে তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি তবে পুঙ্গ করেছে তার জীবন। সংসারের হাল ধরার মানুষটায় এখন অচল। তাই স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়া করাতে রজনীকে যেকোনো কাজ করতে হবে। লেখাপড়া তেমন করেনি,তাই কাজ পাওয়া সহজ নয়। খুব খুজার পরেও কোন কাজ সে পাইনি।

বান্ধবীর পরামর্শ নিলে সে তার চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা খুলে বলে। যে চাকরি জীবনে অফিসার তার গোপন স্থানে হাত দিত এবং যে সুযোগ না দিলে চাকরি থেকে বহিষ্কার করার ভয় দেখাত। বান্ধবী চাকরি ছেড়ে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করে। জঘন্য কাজ সে করবে না বান্ধবীকে সে বলে দিল। শেষমেশ এই পথেই বেচে নেয়, খরিদার ধরে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করে। স্বামী,ছেলের লেখাপড়া ও সংসার চালাই। একটি মাত্র সন্তান সেও মারা গেল। মনে প্রানে শরীর বিক্রি করাকে খুব ঘৃণা করে তারপরও এই কাজটায় করতে হয়।

গল্পটা কোলকাতা চলচ্চিত্র “রাতের রজনীগন্ধা”র সংক্ষিপ্ত।ছবিটার স্ক্রিপ্ট লেখকের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।লেখকের উপলব্দিকে সাধুবাদ জানাই।আমাদের অনেক কিছু শিখার বাকি রয়ে যায়।ছবির গল্পটা সংক্ষেপে লিখার উদ্দেশ্যটা হচ্ছে আমরা অনেকে সময়ের কারণে বা বিভিন্ন কারণে মুভি দেখতে পারি না,লেখাটা পড়লে আমাদের ভ্রান্তি ধারণা দূর হবে।পতিতা সমাজের মানুষগুলোকে মানুষের মত ভাবা,তাদের নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা না করা,তারাও সৎ চিন্তাধারী মানুষ হতে পারে,তারাও মানুষ হয়ে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে।

পতিতা হলেও সে মানুষের পাশে দাঁড়ায়,নিজের টাকা দিয়ে অন্যের সন্তানদের লেখাপড়া চালায়।পতিতা হলেও তাদের পথ চলার অধিকার আছে,বাচাঁর অধিকার আছে,পতিতা হয়েও পতিতা সমাজ,নারী,বেচেঁ থাকার মৌলিক অধিকার নিয়ে সে প্রতিবাদ করে।পতিতাবৃত্তি অন্যের কাছে খারাপ কাজ হলেও এদের কাছে এটা বেঁচে থাকার ব্যবসা।যারা খারাপ বলে নিন্দা করে তারাই পতিতালয় সৃষ্টি করে।পতিতা হলেও মানুষ। পতিতা হলেও সুষ্ঠু চিন্তার মানুষ। শতে ৩০% হলেও ভাল মানুষ পাবেন পতিতালয়ে।যেটা রাজনীতিতেও পাবেন বলে মনে হয় না। ৩০% পতিতারাই সৃষ্টির সেরা জীব।

বিঃদ্রঃ-প্রথমে গল্পটা কিভাবে পেলাম উল্লেখ্য করা হয়নি ভুলবশত।সংশোধন করলাম।

২ thoughts on “বেশ্যারাও মানুষ

  1. আপনার ব্লগ/গল্প টি আসলে
    আপনার ব্লগ/গল্প টি আসলে কোলকাতার একটি সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র “রাতের রজনীগন্ধা”র গল্পটা সংক্ষেপে এখানে লিখে দিয়েছেন। এটা কি ঠিক হলো? অনতত অই ছবিটার স্ক্রিপ্ট লেখকের কাছে আপনার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা দরকার ছিলো। আপনি ইস্টিশন ব্লগের উদারতার সুযোগ নিলেন। এটা এক ধরনের প্রতারনা। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

    1. দিলেন বলে।প্রতারনা করার ইচ্ছা
      ধন্যবাদ সারওয়ার ভাইয়া ভুলটা ধরিয়ে দিলেন বলে।প্রতারনা করার ইচ্ছা আমার নেই।এইটা লিখে বড় লেখক হব তাও না।দুই নাম্বারী করার জন্য লিখিনি।যদিও আমি ছবির গল্পটা সংক্ষেপে লিখলাম আমার উদ্দেশ্যটা হচ্ছে পতিতা সমাজ মানুষগুলোকে মানুষের মত ভাবা ,তাদের নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা না করাে এইটুকু।লেখকের গল্প চুরি করছি নাকি কি করছি সে বিষয়ে আমার সামান্যতম চিন্তা ছিল না।নিচে ভুল স্বীকার করে সংশোধন করলাম।বিষয়টা আপনি না বললে শিখা হত না ভাইয়া।আবারও ধন্যবাদ নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *