#অযাচিত_বাক্যব্যয়…! পার্ট- #অনুভূতি_জঙ্গল(৩)

আজ অনেকের কথাই মনে পড়ে, মনে পড়ে সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা যখন গণমানুষের আন্দোলন গণজাগরণ সৃষ্টি করেছিল, যার ফলশ্রুতি- ৭১-এর ঘাতকদের ফাঁসি, যা জাতি কিছুটা কলঙ্কমোচনের স্বাদ দেয়; এর মূল্যও কিন্তু কম ছিলনা, যে মানুষগুলোর ভার্চুয়াল জগতের আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে রূপান্তরে করলো তাদের একের পর এক নৃশংস মৃত্যুকে মেনে নিতে হলো; রাজীব, বাবু, নীল, অনন্ত, নাজিম, জুলহাসান, দীপন, অভিজিৎ- এ মৃত্যুগুলো আমাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা বললে কমই বলা হবে, যুক্তির সাথে কখনোই পেড়ে উঠতে পারেনি, তাই কলমের জবাব চাপাতি দিয়ে দিয়েছে, এতে কি আবার প্রমাণিত হয়না যে- কলমের ক্ষমতা অস্ত্রের ক্ষমতাবানকে হারাতে সমর্থ;
এরা আজ নেই, তাই বলে কি এদের আদর্শিক ধারা বন্ধ হয়ে যাবে? আমি বলবো- তা পরিবর্তিত হবে, তা-ই হয়েছে, ভবিষ্যৎ জানিনা; মুক্তচিন্তার ক্ষেত্রগুলোকে নষ্ট করার পায়তারা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই, একের পর এক লেখকদের বই নিষিদ্ধ করা, প্রকাশক ও প্রকাশনী সংস্থাগুলোর উপর হামলা-মামলা, অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করার অপচেষ্টা, ব্লগারদের হুমকি- সবই চলেছে চলছে;
আমরা কি করেছি, আমাদের মাঝে যারা অন্তত মাঠে নেমেছে, #গণজাগরণ_মঞ্চ বানিয়ে সব মুক্তচিন্তায় চর্চাকারীদের একত্র করার প্রয়াস চালিয়েছে সেটাকেও আমরা বিতর্কিত করেছি; করেছি বললে ভুল হবে, করানো হয়েছে, এতে আমাদের মধ্যে বিভাজন বেড়েছে, লাভবান হয়েছে আমাদের দেশের চলমান রাজনীতিবিদ ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী (যারা ধর্মের নামে মা-বাবা, ভাইবোন, পরিবার-পরিজন, এমনকি নিজেকেও হত্যা করতে পারে);
আপসোস হয়, আমাদের দেশে বিজ্ঞান লেখক রয়েছে অনেক, কিন্তু #অভিজিৎ_রায় এর মত করে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এ সামাজিক বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হয়তো আর পাবো না, আমরা হয়তো পাবোনা ধর্মের কর্তৃত্ব কত অধর্মের সৃজন করেছে তার সারল্যপূর্ণ ব্যাখ্যা #রাজীব/#অনন্ত/#বাবু’র মতো করে কেউ দিবেনা, আমরা এমন #নিজাম’কে পাবো কিনা জানিনা যে তাঁর শরীরকে মানবতার জয়গানের প্ল্যাকার্ড বানিয়ে ছিল, আমাদের সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোর অধিকার কথাবলার মতো #জুলহাসান’ও পাবোনা আর #দীপন-এর মত সাহসী প্রকাশক পাওয়া প্রায়শই কঠিন, কারণ সে প্রকাশনাকে ব্যবসার পাশাপাশি আদর্শিক জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতো; এ ব্যর্থতা আমাদের জাতিকে কৃষ্ণপক্ষীয় পরিস্থিতিতে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আপসোস আমরা বুঝতেও পাচ্ছিনা;
আমাদের বিভাজন দিনদিন বাড়ছে, মুক্তচিন্তার মানুষগুলো আজ পরস্পরের চিন্তার কারণ হয়েছে, উগ্রতাবিহীন যে সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখারর জন্য যে মানুষগুলো জীবন দিল, তারা কিন্তু পারতো চুপ করে থাকতে, তারা থাকেনি, তারা তাদের শান্ত মস্তিষ্কজাত যুক্তি ও তথ্যের আলোকে ধর্মের বিষবাষ্পের বিস্তারণ স্থবির করতে চেয়েছিল, নারীবাদীতার নাম করে পুরুষতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে, পুরুষবিদ্বেষী নারীবাদ সৃষ্টি করতে চায়নি, উগ্রতা দেখিয়ে বিদেশগমনের জন্য অ্যাসাইলাম প্রাপ্তির আশাও করেনি- এগুলো দেখেও যদি আমরা নিজেকে না পাল্টাই তবে অর্থহীন হবে সব, একসময় যারা আছি তাদের জন্য বলার কেউ থাকবেনা…!

#TrueNeverDie…!
#OurReligionIsHumanity…!
#WordCannotBeKilled…!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *