প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এবং আমার মতামত

নবাগত লেখক আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটা যেভাবে সারাদেশে সারা তুলেছে তাতে আমি সত্যিইই আনন্দিত। তবে বইটা পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। বিজ্ঞানের নানা অসংগতি তুলে ধরে বইটাতে ইশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেস্টা করা হয়েছে এবং নাস্তিকদের বাঁশ দেওয়ার জন্য কিছু সত্য এবং কিছু হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটার অনেক যুক্তি দেখে যেমন হেসেছি তেমনি অবাক হয়েছি বাংলাদেশিরা এসব মেনেও নিচ্ছি। এটা নিশ্চিত যে লেখক অনেক পড়াশুনা করে বইটা লিখেছেন এবং নিজের কাজটা ভালভাবেই করেছেন।তসলিমা নাসরিন প্রতিভাবান হওয়া সত্বেও যেভাবে ইসলাম বিরোধি লেখে, অশ্লীল কিছু লেখে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি আরিফ আজাদও একই কাজ করেছেন। তিনি শুধু বিজ্ঞানের এখনো সাফল্যহীন অংশগুলোকে তুলে ধরে বলতে চাইছেন বিজ্ঞান পরাজিত হয়েছে!!!!!হা হা হা। পুরো বইটাতে নাস্তিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি এটা সত্য। তবে যেহেতু আস্তিকতা এবং নাস্তিকতা দুটোই পরস্পর বিরোধী বিষয় এবং উভয় পক্ষেই যথেষ্ট যুক্তি থাকতেই পারে।সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইশ্বর বিশ্বাসীদের পক্ষ নিয়ে লেখক নিজের প্রচারের কাজটা ভালভাবেই সম্পন্ন করলেন। তিনি শুধু ধর্মের পক্ষের যুক্তিগুলা উপস্থাপন করলেন এবং

নাস্তিকদের

পরাজিত করার উদ্যেশ্য নিয়ে ভারত বাংলা সিনেমা থেকে জিতের বিশ্বাস বিষয়ক উক্তি লিখতেওও দিধ্বা করেন নি।তার ফায়দা পেয়েছেন। এদেশের এতদিন বিজ্ঞানে অজ্ঞ হুজুর সম্প্রদায় তার বইটার প্রশংসা এমনভাবে করলেন যেন বিজ্ঞান জগত উল্টে দিয়েছেন আরিফ আজাদ। আরিফ আজাদ ডারউইনের তত্বের কয়েকটা অসামঞ্জস্যতা উল্লেখ করে (অসামঞ্জস্যতা মেনে নিতে বিজ্ঞান কখনোই দিদ্বা করেনা) ডারউইনের মতবাদ ভুল প্রমাণ করতে দিধ্বা করেন নাই।হাস্যকর!!! আমরা গুজবে বাংগালি। একটা বই ভাল লাগলে তার রিভিউ দিতেই পারি কিন্তু শুধু ইসলামের পক্ষে লিখেছে বলে কিছু না ভেবেই লেখককে আউলিয়া বানানো কি ঠিক??? আমার কাছে মনে হয় আরিফ আজাদ ভাল লেখক হতে পারেন তবে তিনি তসলিমা নাসরিনের মত একই কাজ করেছেন নিজের বই এর প্রচারের জন্য তবে একটু ভিন্ন তরিকায়। এছাড়া আরিফ আজাদ একজন জামাত পন্থি।

৪ thoughts on “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এবং আমার মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *