#অযাচিত_বাক্যব্যয়…! পার্ট- #অনুভূতি_জঙ্গল(১)

২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২সালের এইদিনেই রোপিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে’র বীজ, যে বীজ ১৯৭১এর ১৬ডিসেম্বর-এ এক ফলবান বৃক্ষে পরিণত হয়েছে, প্রত্যাশার সীমা অসীম ছিলনা, হয়তো আরো বেশি হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা কিন্তু হয়নি, কারণ আমরা বাঙালিরা অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে জানি, কিন্তু বেশি প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা মুক্ত নিজেকে রাখতে পারিনা সচরাচর; সত্যি বলতে এ আমাদের স্বভাবজাত, আর এ স্বভাবই হয়তো আজ এই নতুন বাংলাদেশ (অনেকের চোখে ডিজিটাল বাংলাদেশ, আমার চোখে কারিগর দিকেই) দেখতে পাচ্ছি; লা ব্যাকরণাদি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক আন্দোলন- এ সবই আজ কোন না কোনভাবে বিতর্কের মাঝে পড়ে গেছে, প্রশ্ন হচ্ছে কেন?

শিক্ষার গুনগত মান বজায় রাখা ও নকলমুক্ত পরীক্ষাকেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে যে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রচলন আমাদের শিক্ষার্থীদের কতটুকু শিক্ষিত করছে, এটা কতটুকু ফলপ্রসূ হচ্ছে তা নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে, বহুমুখী শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের যেমন বহুভাগে বিভক্ত করে ফেলছে, সাথে শিক্ষা এখন জ্ঞান অর্জন বা নৈতিকতা গঠনকে এড়িয়ে নিজেকে পেশাজীবী মানসিকতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যার দরুন শিক্ষা আজ সবথেকে ভালো পণ্য, সার্টিফিকেট সেটা যেকোনভাবে অর্জিত হোক না কেন টাকা/আত্মীয়করণ ছাড়া চাকরী হবেনা- এভাবনা একজন নিম্নমধ্যবিত্ত কে কতটুকু হতাশাগ্রস্থ করে সে উপলব্ধি করতে পারে, প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা এমন হলো কেন?

রাজনীতি নিয়ে আজ আর কেউ কথা বলতে যতটা না আগ্রহী তার থেকে বেশি আগ্রহী কিভাবে কোন রাজনৈতিক দলের আস্থাভাজন হওয়া যায়, এর জন্য সে হেন কর্ম নেই যে করতে পারবেনা, তারপর ক্ষমতাধারী হওয়া তাকে এতটাই অন্ধ করে তোলে যে যেকোন মানবতা বিরোধী কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেনা, কারণ সে অভ্যস্ত, রাজনীতিবিদ বা ক্ষমতাধরদের বাংলাদেশের আইন কিচ্ছুটি করতে পারবেনা(ব্যতিক্রম আলোচ্য নয়); আইনের প্রতি রাজনীতিবিদদের আস্থাহীনতা জনমনেও পরে, তাই একের পর এক মানবতাকে ধ্বংসকারী পদক্ষেপ নেয়ার পরও বিচারহীনতা এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তিতে প্রণোদনা যুগাচ্ছে, প্রশ্ন হচ্ছে আইনব্যবস্থা এমন কেন?

আমরা পরিবর্তনকে কতটুকু গ্রহণ করতে পারি, এটা একটি প্রশ্ন, আচ্ছা আমরা বাঙালিরা ঠিক কত বছর ধরে এত অনুভূতিপ্রবণ, আমাদের অনুভূতি জাগ্রত হয় কখন, কোন ঘটনাগুলো আমাদের অনুভূতিকে সবথেকে বেশি স্পর্শ করে, কেন করে, কেন সব বিষয় করেনা, করলেও কোনটার ক্ষেত্রে আমরা সবথেকে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হই; এমন হাজারো প্রশ্ন তৈরি করা সম্ভব, আর উত্তর খুঁজতে গেলে ধোঁয়াশা, অস্পষ্টতা, অসম্পূর্ণতা ছাড়া প্রাপ্তি কিছুই নাই, আর যে প্রাপ্তিটুকু হওয়ার কথা সেটাও নেতিবাচক আর আগ্রাসী মনোভাবের কাছে বারবার নতিস্বীকার করেছে; আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করি, এরমাঝে আধ্যাত্মিক কৌশল আর সুশীল ভদ্রোচিত কৌশল, প্রথম পক্ষে- কিছু নিত্যনৈমিত্তিক কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের সকল আবেগ, উত্তেজনা, রাগ, দ্বেষ, ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এত ব্যস্ত যে এদের মধ্যে একটুআধটু চুন থেকে পান খসলেই কারো উপর চরাও, এমনকি প্রয়োজনে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করবেনা(হোক সে পিতামাতা, ভাইবোন কিংবা অনাত্মীয় কেউ); আর অপর পক্ষের মানুষগুলো চিন্তা চেতনায় এতটাই প্রগতিশীল যে- এদের কট্টরতা অন্য যেকোন মানবতাবিরোধী গোষ্ঠীর কট্টরতাকেও ছাড়িয়ে যায়; ১ম পক্ষের চমৎকার দিক তারা আর যাই হোক সবাই এক গোয়ালের গরু, মানে নিয়ন্ত্রণ থাকুক বা না থাকুক, নিয়ম মেনে চলুক বা না চলুক, এদের বিশ্বাস(যা ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত) হালকা একটু বাতাসে নড়ে উঠলে সব্বাই ঝাপিয়ে পড়বে, যেন যুদ্ধে নেমে গেছে; আর ২য় পক্ষে রয়েছে কথিত নারীবাদী(যারা মূলতঃ পুরুষ বিদ্বেষী, পুরুষতন্ত্র নয়), কথিত মুক্তমনা(যারা মেধা প্রয়োগ করে সুবিধা আদায়, ভার্চুয়াল ইমেজ তৈরী করা বিদেশগমন উদ্দেশ্যে, আর একটু অবস্থাসম্পন্ন নারী- বিশেষ করে ডিভোর্সি, ব্যক্তিজীবনে অসুখী তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে জৈবিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার জন্যে), কথিত প্রগতিশীল(যারা বাম রাজনৈতিক আদর্শকে সবথেকে বিতর্কিত করেছে তাদের আদর্শিক বিভাজন দ্বারা); এ বাংলাদেশ- এ দু’পক্ষ ছাড়াও যে মানুষগুলো আজো স্বপ্ন দেখে সোনার বাংলা গড়ার তারা হয়তো প্রকাশ্যে সংখ্যায় কম কিন্ত নেহাত এত কম নয়, শুধু রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য তাদের অপেক্ষা, তারা সমন্বিত হওয়ার প্রচেষ্টারত কিন্তু উপরোক্ত দু’পক্ষ তা হতে দিচ্ছেনা, তবে এটাও তো ঠিক- ইতিহাস তো বলেই #সবকিছুর_একটা_শেষ_আছে_সহ্যেরও_সীমা_আছে মনে রাখতে হবে…!

#চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *