হিন্দু- মুসলিম- বিধর্মী নাম সমাচার

আমাদের দেশের ( বাংলাদেশ ) বাঙালি মুসলমানরা শ্রীনাথ, রাম, তাপসী, লীলা এসকল নাম শুনলে রি রি করে উঠেন হিন্দু নাম, হিন্দু নাম বলে। আচ্ছা ভাই, হিন্দু নাম, মুসলমান নাম এইসব কি জিনিস। হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ নিজেদের সন্তানদের নাম রাখেন স্রেফ বাঙলা শব্দে। শ্রী অর্থ সুন্দর, নাথ অর্থ কর্তা। যিনি সুন্দরের কর্তা তিনিই শ্রীনাথ। রাম রাত্রির একটা বিশেষণ পদ। রামী স্ত্রী লিঙ্গ। তাপসী সাধিকা ও স্ত্রী অর্থে প্রয়োগকৃত শব্দ। লীলা হচ্ছে প্রমোদ, খেলা। প্রচলিত প্রয়োগ রহস্যঘেরা কর্মের ক্ষেত্রে হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এরকম প্রায় সকল নামই আমাদের প্রাচীন বাঙলা শব্দ থেকে উৎসারিত। অপরপক্ষে মুসলিম বাঙালী বা অন্য জাতীয় মুসলমানরাও নিজেদের সন্তানের আরবি নাম রাখতে পছন্দ করেন। যেমন, সুন্না, ফেরদৌস, আফরা, সাইয়ারা ইত্যাদি। একইভাবে সুন্না হচ্ছে সুন্নীর সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য, সুন্না অর্থ নবীর সুন্নত বা বিধান/আচরণ, আফরা অর্থ সাদা, সাইয়ারা অর্থ তারা। শুধু হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানই নয়, যেকোনো ধর্মাবলম্বীগণই তাদের সন্তানদের নাম স্বধর্মগ্রন্থ বা ধর্মমানুষদের নাম অনুযায়ী রাখতে পছন্দ করেন। এখানে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নামগুলো কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পদ বনে গেছে। কেনোনা যেকোনো অর্থবাচক নামই ধারণ করে পৃথিবীর প্রাচীন কৃষ্টি ও ভাষার মমতা। তাই এইসকল সকল নামই সকল জাতীর সকল ভাষার সকল মানুষের। যদি আমরা বাঙলা নামকে হিন্দুনাম জ্ঞান করি, তবে আমাদের বাঙলা ভাষা বলা থেকেই সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে। তার কারণ, নাম তো নাম, হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোও বাঙলা ভাষার প্রাক্তন সংস্কৃতরূপে লেখা। আসলে, আরবি ভাষায় যেমন খারাপ শব্দ ( অভ্যাসগত অর্থে ) আছে, বাঙলায় আছে, উর্দুতে আছে, হিব্রুতেও আছে। সব থেকে বেছে আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখবো বিশ্বসুন্দর। আরবি নাম মানেই ইসলামিক, বাঙলা নাম মানেই হিন্দু, ইব্রীয় নাম মাত্রই খ্রিষ্টান নাম, এধরণের ধারণা থেকে মুক্তি লাভ করুক মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *