দেখে নিন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৯ মে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। ৮ মে বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কথা জানান। সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপুকে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জানান, আগামীকাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে। বিষয়টি তিনি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ উভয় পক্ষের আইনজীবীদের জানাতে বলেন।

গত বছরের ৪ জুন এই ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ গঠন করেন। ১৫ জুলাই থেকে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৮ জন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন পাঁচজন। এ বছরের ২৪ মার্চ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২ এপ্রিল থেকে আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে। ১৬ এপ্রিল যুক্তি উপস্থাপন পর্ব শেষ হয়।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান,বিচারপতি মো.মজিবুর রহমান মিয়া ও মো.শাহিনুর ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ কামারুজ্জামানের পক্ষে দেওয়া আসামিপক্ষের যুক্তি গত ১৬এপ্রিল খণ্ডন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায়ের আগেই একবার দেখে নিই এই কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১২ সালের ৪জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা এবং হত্যা,নির্যাতন,দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত ধরনের ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগ: একাত্তরের ২৯ জুন সকালে কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদররা শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার রামনগর গ্রামের আহম্মেদ মেম্বারের বাড়ি থেকে বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে আহম্মেদনগরে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সারা রাত নির্যাতন করে পরদিন হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ: কামারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নানকে প্রায় নগ্ন করে শহরের রাস্তায় হাঁটাতে হাঁটাতে চাবুকপেটা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ: একাত্তরের ২৫ জুলাই আলবদর ও রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং নারীদের ধর্ষণ করে। এটি কামারুজ্জামানের পরামর্শে পরিকল্পিতভাবে করা হয়। সেদিন ওই গ্রামে ১২০ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দিন থেকে সোহাগপুর গ্রাম ‘বিধবাপল্লী’ নামে পরিচিত।

চতুর্থ অভিযোগ: একাত্তরের ২৩ আগস্ট কামারুজ্জামানের নির্দেশে আলবদর সদস্যরা গোলাম মোস্তফাকে ধরে সুরেন্দ্র মোহন সাহার বাড়িতে স্থাপিত আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে কামারুজামান ও আলবদররা তাকে গুলি করে হত্যা করেন।

পঞ্চম অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধকালে রমজান মাসের মাঝামাঝি কামারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা শেরপুরের চকবাজার থেকে লিয়াকত আলী ও মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে বাঁথিয়া ভবনের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাদের নির্যাতনের পর থানায় চার দিন আটকে রাখা হয়। পরে কামারুজ্জামানের নির্দেশে ওই দু’জনসহ ১৩ জনকে ঝিনাইগাতীর আহম্মেদনগর সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে লিয়াকত, মুজিবুরসহ ৮ জনকে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের কাছে সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। কামারুজ্জামান ও তার সহযোগী কামরান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ষষ্ঠ অভিযোগ: একাত্তরের নভেম্বরে কামারুজ্জামানের নির্দেশে আলবদর সদস্যরা টুনু ও জাহাঙ্গীরকে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। টুনুকে সেখানে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। জাহাঙ্গীরকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সপ্তম অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধকালে ২৭ রমজান কামারুজ্জামান আলবদর সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহের গোলাপজান রোডের টেপা মিয়া ও তার বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম দারাকে ধরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় আলবদর ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরদিন সকালে আলবদররা ওই দু’জনসহ সাতজনকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নিয়ে হাত বেঁধে সারিতে দাঁড় করান। প্রথমে টেপা মিয়াকে বেয়নেট দিয়ে খোঁচাতে গেলে তিনি নদীতে লাফ দেন। আলবদররা গুলি করলে তার পায়ে লাগে। তবে তিনি পালাতে সক্ষম হন। কিন্তু অন্য ছয়জনকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

এই রাজাকারটার মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কিছু আশা করছি না।

ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই
রাজাকারের ফাঁসি চাই।

১০ thoughts on “দেখে নিন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

  1. অত অভিযোগ দেখুম না । নরপশুটার
    :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: অত অভিযোগ দেখুম না । নরপশুটার বিচার চাই না , নির্বিবাদে ফাসি চাই

  2. একাত্তরের ২৫ জুলাই
    আলবদর

    একাত্তরের ২৫ জুলাই
    আলবদর ও
    রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের
    নিয়ে শেরপুরের সোহাগপুর
    গ্রামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়
    এবং নারীদের ধর্ষণ করে।
    এটি কামারুজ্জামানের
    পরামর্শে পরিকল্পিতভাবে করা হয়।
    সেদিন ওই গ্রামে ১২০ জন
    পুরুষকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দিন
    থেকে সোহাগপুর গ্রাম ‘বিধবাপল্লী’
    নামে পরিচিত।

    কতটা ভয়ঙ্কর।

  3. এই জানোয়ার’টার বিচারের
    এই জানোয়ার’টার বিচারের রায়
    বীরাঙ্গনার শাড়ীতে ঝুলিয়ে ফাঁসি চাই

    জয় বাঙলা

  4. এই রাজাকারের বাচ্চার
    এই রাজাকারের বাচ্চার সর্বনিম্ন শাস্তি ফাঁসি। এরে পায়ে দড়ি বেঁধে গাড়ির পিছনে বেঁধে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত হেঁচড়ে হেঁচড়ে নেওয়া উচিৎ। :তুইরাজাকার:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *