বোন-ভালোবাসার অপর নাম

আমার কল্পনা

আমার তো কোন বোন নাই! আমি কারও ভাইও না!
ছোটবেলায় কল্পনার তুলিতে আমি তাকে আঁকতাম, অনেক রঙে রাঙ্গিয়ে তুলতাম।
বোন শব্দটা বেশ ছোট, তবে আমার কাছে এটি হীরার একটি প্রতিশব্দ, হয়ত সোনার অপর নাম।
আমি কখনও আমার বোনকে ‘তুমি’ বলে ডাকতে পারতাম না, সবসময় ‘তুই’
বলেই ডাকতাম। তাকে দেখে ‘তুমি’ কথাটা আমার  মুখ দিয়েই কখনও বের হতো না।
‘তুই’ কথাটা শুনলে সে কেন যেন খুব আনন্দ পেতো।
কল্পনায় আমি তার পায়ের নূপুরের আওয়াজ শুনতে পেতাম,
বৃষ্টির প্রতিটা কণায় তার আওয়াজ পেতাম।
সকালে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য সে নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করতো।
সে তো ছিল এক শিল্পী, তার প্রতিটা আবিষ্কারই ছিল শৈল্পিক নিদর্শন।
সে আমার সাথে ঝগড়া করতো, সে আমার সাথে কখনও কখনও কথা বলতো না।
আমি যখন ক্লাস এইটে পড়তাম দীর্ঘ সময় ধরে সে আমার সাথে কথা বলে নি।
তার মুখে ‘ভাই’ কথা শোনার জন্য আমি নিরব চিত্তে বসে থাকতাম।
তাকে ফোন দিতাম, তার মুখে ‘ভাই’ কথাটা শোনার জন্য, তবে শুনতে পেতাম না।
আমার বোন তো ছিল একটা পরী, সারাদিন আমার মাথায় ঘুরে বেড়াতো।
আমার বোন তো ছিল একটা কলম, তাকে দিয়ে আমি সারাদিন লিখতাম।
আমার বোন তো ছিল এক টিসু পেপার, যাকে দিয়ে আমি আমার নিজের অশ্রু মুছতাম।
আমি কল্পনায় সবসময় আমার বোনকে আকতাম। আমি কল্পনায় তার হাত আঁকতাম,
মুখ আঁকতাম, চোখ আঁকতাম, আর আঁকতাম একটা সুন্দর মন। আমি তার মনের
গভীরে যেতে পারতাম। আমি তার মুখ দেখেই সব বুঝতে পারতাম,
আমি তার হাত দেখেই তার কাজের পরিধী বুঝতে পারতাম।

আমি সবসময় কল্পনা করতাম এসব, আমি সবসময় কল্পনার তুলিতে তাকে আঁকে যেতাম , নানা রঙে রাঙ্গিয়ে তুলতাম।
আমি জানতাম এ কল্পনা কখনও বাস্তবে পরিণত হবে না,
তবুও আমি কল্পনা করতাম,
কল্পনার তুলিতে আমি তাকে আঁকতাম- রঙ দিয়ে ভরে দিতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *