অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন ব্লগার এবং ফেইসবুকারের মুক্তি দিতেই হবে।

১ এপ্রিল ৩ জন ব্লগারঃ রাসেল পারভেজ, সুব্রত শুভ, মশিউর রহমান বিপ্লবকে অপরাধীদের মতো ‘ধর্মীয় অনুভূতি’তে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ, এরপর ৩ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশ এই একই অভিযোগে আসিফ মহিউদ্দীনকেও গ্রেপ্তার করেছে, এরপর আবার ১০ এপ্রিল ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর ফেইসবুক পেইজে ‘লাইক’ দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের দুই ফেইসবুকারঃ বিজয় চন্দ্র, পার্থ সারথী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিডিয়া বিভিন্নভাবে এই সংবাদ প্রচার করছে। বহিঃবিশ্বের দেশগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ব্লগারদের মুক্তির ব্যাপারে বাঙলাদেশের সরকারকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু সরকার তা মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ব্লগারদের গ্রেপ্তার করার পর অনলাইনে অনেকে মুখ বন্ধ করে ভয়ে নীরব আছে; অনেকে আবার ‘ছদ্মবেশী আস্তিক’ হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ব্লগারদেরকে ‘ধর্মবিদ্বেষী’ ট্যাগ দিচ্ছে, অনেকে আবার নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘ধর্মবিদ্বেষী’ ট্যাগ দিচ্ছে। ধর্মবিদ্বেষী নিয়ে অনলাইনে এই কয়েক মাসে অনেক কথা হয়েছে, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে; এপ্রিল মাসে অনেক বেশি হয়েছে। আর এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই না।

যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা সবাই আমাদেরই বাঙালি ভাই, আমাদেরই আপনজন, আমাদেরই সহযোদ্ধা। তারা জেলে কী কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, সেটা শুধু তারাই জানে। সেই কষ্ট উপলদ্ধি করার ক্ষমতা অন্য কারোর নেই। আপনারা আরামে, নীরব থেকে অথবা তাদের ঘাড়ে দোষ দিয়ে জীবন চালাচ্ছেন। কিন্তু তারা জেলের মধ্যে বন্দী, তাদের চিন্তা- চেতনাকে জেলের মধ্যে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আর আপনারা খুব সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। অন্তত আমরা আপনাদের মতো নই।

এভাবে ভয় পেলে কখনো অসাম্প্রদায়িক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখা যাবে না, এভাবে ভয় পেলে কখনো মুক্তভাবে নিজের মত, চিন্তা-চেতনা প্রকাশ করা যাবে না। এভাবে নীরব থাকলে একের পর এক সবাইকে গ্রেপ্তার করবে। তখন কথা বলার মতো কেউ থাকবে না। বাঙলাদেশে এখন কেউই নিরাপদ নয়, কারোর জীবনের নিরাপত্তা নেই। অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু এটাই শেষ সময় নিজেদের নিরাপত্তা ছিনিয়ে নেওয়ার। বহিঃবিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাঙলাদেশে ব্লগারদের মুক্তির ব্যাপার নিয়ে তুলনামূলকভাবে খুব কম কথা বলা হচ্ছে। অনেক ইশু নিয়ে কথা বলা হয়েছে, লাইক কামানো হয়েছে। এটাই শেষ সময় গর্জে উঠার। গর্জে উঠুন!

ফেইসবুকে প্রতিদিন বিভিন্ন ইশু নিয়ে লেখা হয়। প্রতিদিন নূন্যতম ১ টি করে স্ট্যাটাস দিন গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন ব্লগার ও ২ জন ফেইসবুকারদের জন্য। ১০ লাইন লিখতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই, ১ লাইনই লিখুন। গ্রেপ্তারকৃত ব্লগারদের ও ফেইসবুকারদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইল পিকচার রাখুন(প্রোফাইল পিকচার পরবর্তীতে নির্বাচন করা হবে)। অনেক কিছু করেও সরকারের কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। এবার সরকারের সাড়া পেতেই হবে। সকলকে অনুরোধ করছি ৪ জন ব্লগার ও ২ জন ফেইসবুকারদের মুক্তির ব্যাপারে কথা বলার জন্য এবং ইভেন্টটি শেয়ার করার জন্য।

এবারের গর্জে ওঠা আমাদের বাকস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য, এবারের গর্জে ওঠা গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন ব্লগার এবং ২ জন ফেইসবুকারের মুক্তির দাবিতে, এবারের গর্জে ওঠা আমাদের বাঙালি ৪ ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে। জয় আমাদের হবেই হবে। মানুষ, মনুষত্ব, মানবতার জয় হোক!

৮ thoughts on “অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন ব্লগার এবং ফেইসবুকারের মুক্তি দিতেই হবে।

  1. প্রকাশ্য রাজপথে হাজার হাজার
    প্রকাশ্য রাজপথে হাজার হাজার মহা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন পুড়িয়ে ব্লগপুরী শফি আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা যদি বহাল তবিয়তে থাকতে পারে, তাহলে ইসলামের প্রতি কটুক্তির অপ্রমাণিত অভিযোগে মুক্ত চিন্তার ব্লগারদের কেন কারাগারে আটক রাখা হয়? তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার সরকারের নিকট জোর দাবি এই মুহুর্তে আটক ব্লগার এবং ফেইস বুকারদের মুক্তি দেয়া হোক….মনে রাখবেন এই মুক্ত চিন্তার মানুষগুলোই আপনাদের পক্ষের! হেফাজতিরা কোনদিন আপনাদের সহ্য করতে পারেনি আর কোন দিন সহ্য করবেও না…. জয় বাংলা

  2. আমার সাথে হয়তো ইস্টিশনের
    আমার সাথে হয়তো ইস্টিশনের অনেকেই একমত হতে পারবেন না। তবুও বলছি, হ্যাঁ, সুব্রত শুভ আর রাসেল পারভেজে মুক্তি আমিও চাই। কিন্তু, আসিফ আর বিপ্লবের না। দেশে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে একটা আসিফই যথেষ্ট।

    আমি জামাত আর আসিফের মানসিকতায় কোন পার্থক্য দেখি না। দুঃখিত..

    1. জামাত আর আসিফের মানসিকতায় কোন

      জামাত আর আসিফের মানসিকতায় কোন পার্থক্য দেখি না

      কথা সত্য :বিগবস:

  3. বড় বড় চোর বাটপারের জামিন হয়,
    বড় বড় চোর বাটপারের জামিন হয়, অথচ ব্লগারদের জামিন হয় না। এই দেশে লিখলে ধর্ম অবমাননা হয়, কিন্তু ধর্মালয় ও ধর্ম গ্রন্থ পুড়ালে কিছুই হয় না। সেলুকাস।
    অবিলম্বে সকল ব্লগারের মুক্তি চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *