মৃত ২

অনেকটা রক্তচক্ষু নিয়েই অজগর সাহেব তার সামনের চেয়ারে বসা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছেন। অজগর সাহেব একজন সাইকোলজিষ্ট। এই ছেলেটার মতো এমন প্রবলেম নিয়ে এর আগে কেউ তার কাছে আসেনি। অজগর সাহেব এর মনে হচ্ছে ছেলেটা মজা করছে, তাই তার খুব রাগ হচ্ছে, কিন্তু তিনি রাগটা প্রকাশ না করে ছেলেটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেন,
–ওকে, আমি তাহলে তোমাকে তোমার কথা রিপিট করি,
-জি করুন,
–তোমার নাম অন্ত
-জি
–আচ্ছা তোমার পুরো নাম কি?
-আমার পুরো নাম, ডাকনাম সবই অন্ত।
–এইটা কিভাবে সম্ভব? তোমার নাম কে রাখছে? তোমার বাবা না মা?
-জি কেউ না, আমার নাম আমিই দিছি।

অজগর সাহেব এবার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেলেন, যে ছেলেটা মজা করছে, তার সারা শরীরের রক্ত আস্তে আস্তে চোখে চলে আসছে, রক্তচক্ষু থেকে আরো বড় ও ভয়াবহ অর্থ বহনকারী একটা শব্দ দরকার তার এই মুহূর্তে। কিন্তু তিনি তা পাচ্ছেন না। যথেষ্ট ঠান্ডা গলায় বললেন,
–তোমার বাবা মা তোমার কি নাম রাখছিলো,
-আসলে আমি আমার বাবা মা কে দেখি নাই, কারা বাবা মা তাও জানি না। কিভাবে বড় হইছি তাও জানি না। তবে ছোটবেলায় একবার বুঝতে পারছিলাম, আমার একটা নাম দরকার, তখন নিজের নাম রেখে দিলাম অন্ত। ব্যাস।

আজগর সাহেব চাচ্ছেন ছেলেটা তাড়াতাড়ি বিদায় হোক, রাত কম হয়নি, কিছুক্ষন আগেই তার মেয়ে তাকে কল দিয়ে বলেছিলো, তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে। আজ আবার তার মেয়ে রান্না করবে। সবাই একসাথে খাবে। গত সপ্তাহে একবার মেয়ে রান্না করেছিলো, মাংসে লবন না দিয়ে, দিয়েছিলো চিনি, সেই দিনের কথা চিন্তা করে অজগর ঢোক গিল্লেন, আজ আবার কি না কি করে বসে,
–তাহলে অন্ত সাহেব এইবার মেইন পয়েন্ট এ আসি,
-জি আসুন,
–আপনে মৃত
-জি
–কিভাবে মারা গেলেন?
-গতকাল আমাকে গুলি করা হয়েছিলো,
–তো আপনার ক্যাপটা সরাচ্ছেন না কেন? দেখি কোথায় গুলি লাগলো
-আপনি ভয় পাবেন
–আমি ভয় পাবো না
-আপনি ভয় পাবেন
–তাহলে এই মুহূর্তে আমি একজন মৃত ব্যাক্তির সাথে কথা বলছি?
-জি
–এইটা কিভাবে সম্ভব?
-কয়টা সম্ভাবনার কথা আপনি জানেন,
–দেখুন অন্ত সাহেব, ফাজলামি করবেন না
-মোটেই না
–তো আপনি মৃত, মৃত মানুষদের কাছে যান, আমার কাছে কেন আসলেন?
-আমাকে আপনার মেয়ে পাঠিয়েছে,

আজগর সাহেবের রাগ এবার আর কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না, উনি বেশি রেগে গেলে তুই তোখারি শুরু করেন,
–তো বল, আমার মেয়ে তোকে কেন পাঠাইছে?? আর তুই আমার মেয়েকে কিভাবে চিনস?
-না, পরিচয় হল মাত্র ২০-৩০মিনিট আগে, সে আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছে একটা খবর দেয়ার জন্য,
–আমার মেয়ে সারাদিন বাসা থেকে বের হয় নাই, তোরে পাইলো কই?
-মৃত মানুষরা বাসা থেকে বের হওয়া লাগে না,
–কুত্তার বাচ্চা তুই কি বলতে চাস?
-আপনার মেয়ে রান্না করতে যেয়ে রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে ফেলেছিলো, আগুনে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়, আপনার মেয়ে মারা যায়, সে আমাকে পাঠিয়েছে আপনাকে খবরটা দেয়ার জন্য,

অজগর সাহেব ড্রয়ারটা খুলবেন, ওখানে উনার একটা অবৈধ পিস্তল আছে। উনি মাত্র আধা ঘন্টা আগেও তার মেয়ের সাথে কথা বলেছেন, তার মেয়ে তাকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে বললো, আর এই ছেলে কি না…..

হঠাত ফোনের সাউন্ড বেজে উঠলো, উনি ফোনটা কানে নিলেন,
–হ্যালো

–জি অজগর সাহেব বলছি,

–কি??? কখন? কিভাবে আগুন লাগলো?

সাথে সাথে তিনি সামনের চেয়ারের দিকে তাকালেন, সেখানে কেউ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *