কার পাপে আজ বাংলাদেশের এই অবস্থা

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামাত কে নিষিদ্ধ করলে দেশের সংকট কাটবে?
আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়না! তবে দেখুন problem টা drill out করে, সমস্যার মূল কারণ কি? বাঙ্গালীর আবার সমূলে সমস্যার সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা নাই, আপাতত চালাইতে পারলেই যেন সে বাঁচে। তাই এবার ড্রিল আউট করে মূল কারণ বের করে তার সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক।

কেন মুক্তিযুদ্ধের পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এই বাংলা আজ এমন! সরাসরি সমস্যার মূল উৎপাটন করে যা পাওয়া যায়, তাহল-
Second Proclamation Order No. IV of 1978 এর বলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশটি বিলুপ্ত হয়। এরপর থেকে ৩৮ অনুচ্ছেদটি দাঁড়ায়ঃ

” জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।”

অথচ ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিলঃ

“জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে; তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সঙ্ঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোন সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোন প্রকারে তাহার তত্পরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না।”

মূল সংবিধানের এই বিধানের কারণে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ইত্যাদি রাজনৈতি দলগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দল বিধিমালা নামে অধ্যাদেশ জারি করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদকে বদলে দেন। একইসঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন।

অর্থাৎ যতই জামাত নিষিদ্ধ করেন না কেন, তারা আবার হিফাজতে, আহলে এমন হাজারো নামে তারা পুনঃসংঘটিত হবে, এরই মধ্যে গবেষণায় তাদের ১৫৩ রকমের ছদ্ধ নামের তালিকা করেছে অর্থনীতিবিদ ডঃ আবুল বরাকত! অর্থাৎ, উত্তরণের একটাই উপায় ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া।
আর কার পাপে আজ বাংলাদেশের এই অবস্থা তা আশা করি বুঝেছেন?

২৪ thoughts on “কার পাপে আজ বাংলাদেশের এই অবস্থা

  1. ”উত্তরণের একটাই উপায় ১৯৭২
    ”উত্তরণের একটাই উপায় ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া।” – একমত পুরা ভাই :থাম্বসআপ:

    1. আর কত রক্তের পর বাঙ্গালী
      আর কত রক্তের পর বাঙ্গালী মুক্ত হবে?
      তবে এই সরকার সুযোগ পাইয়াও কাজটা করল না…
      আফসোস আরও দীর্ঘায়িত হবে, কিন্তু জয় আসবেই!

      :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  2. মিনিস্টার প্যানেল এ এতগুলা
    মিনিস্টার প্যানেল এ এতগুলা আবাল থাকলে কেম্নে করবে এরা !!!!!

    1. ব্যপারটা তা না!! আপনি আজ
      ব্যপারটা তা না!! আপনি আজ রায়-আইন কাজ করবেন তারপরতো ওরা মরন কামড় বসাবে!
      আমাদের গণজাগরণ মঞ্চও প্রথমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার কথা বললেও পরে সড়ে এসেছে! সরকারও একই কারণে তা করে নাই…
      আগে আমাদের জনমত গঠন করতে হবে!!

  3. আওয়ামীলীগের পাপে বাংলাদেশের
    আওয়ামীলীগের পাপে বাংলাদেশের আজ এই অবস্থা। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ৭২-এর সংবিধানে না যাওয়ার খেসারত আজ জাতি দিচ্ছে। আরো কত খেসরাত দিতে হবে সেটাই ভাবছি।

    1. তাহলে এতক্ষণ আমি কি লিখলাম
      তাহলে এতক্ষণ আমি কি লিখলাম বস!! বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর দেশ চলাল ছদ্ধ রাজাকারেরা তার পর ১৯৯৬ সালেই আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধু আর, ৪ নেতা হত্যার বিচার শুরু করল! এইবার অসমাপ্ত যুদ্ধাপরাধের বিচার। ৪২ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামীলীগের শাসন ৪+৫+৪= ১৩ বছর বাকি ২৯ বছরই এইসবের বিপরীতে চলছে!! আমি আওয়ামীলীগের কেউ না বস, কিন্তু নিরপেক্ষ বিচার করলে এইটাকে আওয়ামীলীগের পাপের ফসল বলা যায় না…
      জনমত গঠনই একমাত্র উপায়!!
      রায় যেহেতু আছে সামনে সম্পূর্ণ কাজটা ধীরে ধীরে করতে হবে!!
      ২০-২৫% মানুষের মতকে উপেক্ষা করা যাবে না! সরকার তা করতে পারে না…
      যখন তা ৫-৭% এ নেমে আসবে কেবল মাত্র তখনই এইটা করা উচিৎ!!
      ধন্যবাদ, আপনার মুল্যমান মতের জন্যে!

      1. একক সংখ্যা গরিষ্টতা পাওয়ার
        একক সংখ্যা গরিষ্টতা পাওয়ার পরও যদি ৭২-এর সংবিধান বাস্তবায়ন করার অংক কষেন, তাহলে আর কিছু বলার নাই। এই সুযোগ আর আওয়ামীলীগ পাবে কিনা সন্দেহ আছে। এইবার নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্টতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে ভোটাররা প্রাধান্য দিয়েছিল। সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে আমরা দেখেছি। আর দুর্নীতির কথা নাইবা বললাম। মুলা ঝুলিয়ে পুরো সময়টা আওয়ামীলীগ পার করে দিয়েছে। আবার মুলা ঝুলালে জনগন খাবে এটা কেমনে আশা করেন? সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য। এখন আপনি যদি বলেন- পুরো তিনশটা আসন আওয়ামীলীগ যখন পাবে তখন ৭২-এর সংবিধানে যাবে, তাহলে বলব গোঁফে তেল দিতে থাকেন। গণতন্ত্রের নিয়মটা কি আর সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জনের কারণে কতটুকু সরকার জনগণের দাবীকে মুল্যায়ন করবে সেটা বুঝতে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের উপর পিএইচডি করতে হয় না। বৃক্ষের প্রথম ফল বলে দেয় এই বৃক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কেমন ফলন পাবেন।

        আপনার আশা বাস্তবায়ন হোক এটা চাই। তবে ভবিষ্যতে শুধু নিরাশই হতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

        1. আমি ভোটের রাজনীতির কথা বলি
          আমি ভোটের রাজনীতির কথা বলি নাই…
          আমি সাধারণ মানুষের মাঝে জনমত সৃষ্টির কথা বলছি!!
          এইযে জামাত-বিএনপি মানুষকে বিব্রান্ত করলে এইটা করে রক্তপাত আরও বাড়বে বলে মনে হয়! আমি মনে করি যখন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে তবেই এটা করা ভাল হবে!! ১৯৯১ আর, ২০১৩ অনেক পার্থক্য…
          আমি মনেকরি অবাধ তথ্য প্রবাহ আগামীতে মানুষকে আরও সচেতন করবে!
          মানুষের মন থেকে সামরিক আর ছদ্ধ সামরিকদের যখন বর্জন করবে তখন কেবল মাত্র এই কাজ গুলো করা সম্ভব!! মাত্র একটা জেনারেশনের ( যারা ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ এর চেতনা ধারণ করে) প্রস্থানেই এর নিশ্চয়তা দিবে…

  4. এক সাথে সবাই আওয়াজ তুলুন, এই
    এক সাথে সবাই আওয়াজ তুলুন, এই মুহুর্তে দরকার, ১৯৭২ এর সংবিধান….. এক দফা, এক দাবি ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবি….

    1. সহমত এইটাই একমাত্র রক্তপাতহীন
      সহমত এইটাই একমাত্র রক্তপাতহীন উপায়…

      ‘এক সাথে সবাই আওয়াজ তুলুন, এই মুহুর্তে দরকার, ১৯৭২ এর সংবিধান…..
      এক দফা, এক দাবি ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবি….’

  5. এক সাথে সবাই আওয়াজ তুলুন, এই

    এক সাথে সবাই আওয়াজ তুলুন, এই মুহুর্তে দরকার, ১৯৭২ এর সংবিধান….. এক দফা, এক দাবি ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবি

    1. সহমত!! আবার যুদ্ধে জেতে হবে
      সহমত!! আবার যুদ্ধে জেতে হবে প্রয়োজনে…
      আওয়াজ তুলুন আবার!! গর্জে উঠুক বাংলাদেশ স্বমহিমায় বারংবার!!

  6. একেবারে মূলে হাত দিয়েছেন।
    একেবারে মূলে হাত দিয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তির সনদ ৭২ এর সংবিধান। তবে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সদিচ্ছা আওয়ামী লীগের আছে বলে মনে হয় না। তাহলে রাজনীতি রাজনীতি খেলার একটা বড় ট্র্যাম্প কার্ড হারাতে হয় যে।

    1. ডঃ সাহেব ভুল করতেছেন! দেশে
      ডঃ সাহেব ভুল করতেছেন! দেশে আপনার আমার মত সংবিধান পড়ে রাজনীতি বিশ্লেষণ করে ১০-১২% মানুষও না। অন্যদিকে যখন ১৯৭৮ এ জেনারেল জিয়া ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি হালাল করল তারপর, লেঃ জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্র ধর্ম করল ৭২ এর সংবিধানে গেলে এই দুইটাই বাদ যাবে, এখন আপনিই বলুন এই সময় কি এসেছে?
      আপনি ৫৫০০০ এর উপরের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি শিখাবেন, আবার ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবেন ব্যপারটা কেমন হবে বলেন তো?
      যদি এই মুহূর্তে এই কাজ করে সরকার তবে গৃহযুদ্ধ কেউ ঠেকাতে পারবে না!!
      আমার এই লিখটা পড়ে দেখুনঃ http://www.istishon.com/node/1261
      হেডিং ছিলঃ ‘অসাড় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও জামাতি সহিংসতা আর সরকারের করনীয়’

  7. লীগের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার
    লীগের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার খেসারত দিচ্ছে আজ পুরো দেশবাসী। তখনই যদি জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হত, তাহলে দেশকে আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হত না…

      1. ১৯৭৮ এ জেনারেল জিয়া ধর্ম
        ১৯৭৮ এ জেনারেল জিয়া ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি হালাল করল তারপর, লেঃ জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্র ধর্ম করল ৭২ এর সংবিধানে গেলে এই দুইটাই বাদ যাবে, এখন আপনিই বলুন এই সময় কি এসেছে?
        আপনি ৫৫০০০ এর উপরের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি শিখাবেন, আবার ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাবেন ব্যপারটা কেমন হবে বলেন তো?
        যদি এই মুহূর্তে এই কাজ করে সরকার তবে গৃহযুদ্ধ কেউ ঠেকাতে পারবে না!

        জনমত না গড়ে ওইসব মাদ্রাসায় ছাগল উৎপাদন বন্ধ না করে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ মুছন, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, আর রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া আত্মহত্যায় সামিল!! না বুঝতে চাইলে কিছুই করার নাই…

        1. একারণেই কওমি মাদ্রাসা
          একারণেই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাটাই বন্ধ করা উচিত। যদি কেউ মাদ্রাসা লাইনে পড়তে চায় তবে, আলিয়া পদ্ধতি তেই। কারণ, কওমি মাদ্রাসায় পড়ে মসজিদের ইমাম আর মুয়াজ্জিন ছাড়া কিছু হওয়া যায় না…

  8. ভয় করলেই ভয়, হাত দিলে কিছুই
    ভয় করলেই ভয়, হাত দিলে কিছুই নয় !!! কথাডা গ্রামের প্রচলিত… তারপরও বলবো বর্তমান সরকারই কেবল হাত দিতে পারে অন্য কোন দল বা গোষ্ঠী নয় ! তাদের(বর্তমান সরকার দলের) এবং আমাদের মত পাবলিকের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হলেও ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাওয়ার বিকল্প নাই…..

    1. আমি মনেকরি না শুধু বিশ্বাসও
      আমি মনেকরি না শুধু বিশ্বাসও করি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণরুপে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নাই…
      কারণ তা হলে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তিনটাই নিষিদ্ধ হয়ে যাবে!
      অর্থাৎ, এইটা করার জন্যে আগে যথেষ্ট জনমত সৃষ্টি করতে হবে!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *