হুশিয়ার পূবের মানুষ

পাকপুর বড় গ্রাম। যথেষ্টই বড়। নানান জাতের মানুষের বাস এই গ্রামে। গ্রামের পশ্চিম দিকটা বর্ধিষ্ণু এলাকা। হাটবাজার, স্কুল কলেজ, ব্যবসা বাণিজ্যে পশ্চিম পাড়া উঁচু জাত। উঁচু হলে যা হয়, ওদের নাকও উঁচু। “আমরাই সেরা” এমন ভাবনা ওদের আছে।
পূর্বপাড়া ক্ষয়িষ্ণু। কিছু তাঁত আর কৃষি দিয়েই ওদের দিন চলে। পূবেদের আবার মাথাগুনতি লোকও বেশী।

আমরা বরং পাকপুর এর এতো ঘটনা পরিক্রমায় না যাই। এরচেয়ে ভালো পূর্ব পাড়ায় ঘটনা সাজাই।

একদিন পূর্বপাড়া বলল আমরা আর পাকপুরের সাথে থাকবনা। আমাদের মহল্লা আমরাই চালাব। পশ্চিমের ওরা চোখ লাল করলো। পুবের ওরা বলল “চোখ লাল করিসনে বাঁদর। তোদের লাল চোখে আমরা পিসাব করি”।
পূবে আযম সাহেবের বাড়ি। মান্যগণ্য লোক। পশ্চিমাদের কাছের মানুষ। আযম সাহেবের সাথে আরও কিছু সুশীল মানুষ আছে। কাদের, সায়িদ ওরাও পশ্চিম পাড়ার দোস্ত। সবাই মাওলানা। ধর্মটা ওরা ভালো বুঝে। যে যেই কাজ করে খায় সেটাতো ওরা ভালো বুঝবেই। তাঁতি তাঁত বুনে খায়। বলা যায় তাঁতযন্ত্রই ওরা গিলে বসে আছে। ওরাও ধর্ম করে খায়, ধর্মকেই গিলে খায়।

একরাতে পশ্চিমের ওরা পূবে এসে আগুন জ্বেলে দিলো। পাকপুরে থাকবিনা তো যমপুরে যা। পূবের ওরাও পাকনা কম না। ২/৪ দিন আগুনে পেঁয়াজু ভাজা হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে নামলো। এদিকে আযম, কাদের, সায়িদ ওরা ঘোট পাকালো। দল গড়ল পশ্চিমাদের উগরে দেয়া নোংরা পয়সা দিয়ে। ওরা ধরে ধরে পূবেদের ছেলেগুলোকে খালেবিলে পুতে ফেলল আর মেয়েগুলোকে পশ্চিমাদের হেরেমে পাচার করলো। এদিকে সময় গেলো। পূবের ওরা পশ্চিমাদের মেরে তাড়িয়ে দিলো। নিজেইরা নিজেদের মহল্লা বানাল। জানা গেলো আযম, কাদের, সায়িদরাও পশ্চিমা দের সাথে চলে গেছে। পূবের ওরা নিজেদের বাবা ভাই এর শোকে গোঙাল আর মা বোন এর সম্ভ্রম হারানোর কষ্টে চোখের পানি ফেলল।
এরপর কত দিন গেলো, মাস গেলো। কত কিছু ঘটলো নতুন মহল্লাতে। একদিন আযম, কাদের, সায়িদরা ফিরে এল। এসেই হয়ে গেলো মহল্লার গুরুজন। স্বজন হারানো মানুষরা চেয়েচেয়ে দেখল আর অভিসম্পাত দিলো।
এরপর আবার কত দিন গেলো, মাস গেলো। সময়ের তো আর কোন কাজ নেই চলে যাওয়া ছাড়া তাই যেতেই থাকে। মহল্লার মানুষরা একদিন ধরেবেধে আনল আযম, কাদের, সায়িদদেরকে। বিচার বসাল। হ্যাঁ, বিচার বসাল। ধরেবেধে খালে বিলে পুতে ফেলল না। পূবের মানুষ জানে বিচার ছাড়া শাস্তি দেয়া যায়না। সভ্য জাতি এটা করেনা।
শুরু হল নরহত্যার বিচার। নির্বিচার সম্ভ্রম হরণের বিচার। আবারও বিষাক্ত লালা ঝরাল নোংরা কুকুরের দল। আবারও জ্বালাল আগুন। আবারও হুঙ্কার দিলো শকুন ওদের পচা মাংস ভরা নোংরা মুখ দিয়ে।

আবারও সময় যাবে। যাওয়া ছাড়া সময়ের আর কাজ কি? পূবের মানুষই ঠিক করবে নরহত্যার বিচার হবে কিনা। মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর বদলা নেবে কিনা। আবারও ঘর ছেড়ে বের হবে কিনা পুরনো সময়ের মতো। নব্য নোংরা পশ্চিমাদের লাল চোখে মূত্রত্যাগ করবে কিনা।

দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রিরা হুশিয়ার।।

হুশিয়ার পূবের মানুষ, হুশিয়ার।

৪ thoughts on “হুশিয়ার পূবের মানুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *