সোনালী সময়

বাস্তব জীবনে পদার্পন করে শিখেছি অনেক
কিছু। হরিয়েছি। পেয়েছি। চলছে জীবন।
জীবনেরই মত। একটা সময় ছিল। দিন কাটত
খেলাধুল আর বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোর করে।
দিন পাল্টেছে। পাল্টে গেছে সময়। এখন দিন
কাটে কর্ম ব্যস্ততায়। সেই সন্ধা নদী।
নাটুয়ারপার রাস্তার মাথা। স্কুল মাঠ। কিংবা
বাংলাবাজারের ব্রীজ এখন শুধু স্মৃতি।
জীবনে যে সময়টাকে এখন সব থেকে বেশি
মিস করি, সেটা হল এস.এস.সি পরীক্ষার
পরাবর্তী সময়। বিশাল ছুটি। তিন মাসের।
অনেক রাত করে বাড়ি ফিরলেও কোন বকা
শুনতে হত না। স্বাধীন জীবন। সারা দিন যে
যেখানে থাকিনা কেন সন্ধা হলে ঠিক সবাই
হাজির হতাম সন্ধা নদীর তীরে নাটুয়ারপার
রাস্তার মাথায়। জমিয়ে আড্ডা হত। সারা
দিনের খবর। সারা দুনিয়ার খবর। সবই পাওয়া
যেত এখানে। হালকা ঘাসের উপর যে যেভাবে
পারত বসে যেত। কেউ কারো কোলে শুয়ে
পরত। কউ পিছন থেকে এসে একজনকে চিমটি
কাটত। কেউ কারো কানের উপর টোকা দিত।
পুরো অস্থির এক আড্ডা হত। রাত দশটা
বাজলেই এক এক জন করে উঠে চলে যেত। প্রয়
দিনই আড্ডা মঞ্চো থেকে আমি, সুজন আর
মেহেদী শেষ উঠতাম। অনেক দিনই আমি আর
সুজন অনেক রাত পর্যন্ত কাটিয়েছি ওখানে।
সেই জোছনা রাত। দূরথেকে হাওয়ার সাথে
ভেসে আসা সোহাগ সিনেমার কহোনা পেয়ার
হে গান। জেলেদের মাছ শিকার। কিংবা নদীর
বুকে ডেউ দোলানো সেই খেলা। সবই আজ
স্মৃতি। শত চেস্টা করেও সেই সময় আর ফিরে
পাব না। জীবন যে এক সেকেন্ড ও পেছানোর
ক্ষমতা আমাদের নেই, আর এটাই জীবনের
সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি। —

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *