আমি ইসলামের হেফাজতকারী।

আমরা রাস্তায় নামি বেহেস্তের টিকেট হাতে নিয়া। তারপর আগুন দেই মসজিদে বেহেশত নিশ্চিত করার জন্য। এইবার আর চিন্তা নাই। বেহেশত আমাদের পকেটে। কিন্তু ওরাতো আমাদের দাবী মানে নাই। দাবী না মানলে বেহেস্তে গিয়া শান্তি পামু কেম্মে? বেহেশত পকেটে জানার পরও আমাদের দাবী মানে নাই? ওরা নাস্তিক। সবগুলার কল্লা ফালানো দরকার। আহ! কি শান্তি এইগুলারে মাইরা। ফটিকছড়ির ভাইরা হবেন ফেরদাউসের সর্দার। এইবার সত্যিই আর কুনু চিন্তা নাই।

আগে চাবি পাইতাম হুজুর সাঈদি, গোলাম কিংবা আল্লামা সাকার(!) কাছ থাইকা। কিন্তু এখন তাদেরকে বন্দী কইরা রাখছে নাস্তিকরা। দুষ্টুরা সাঈদিকে এখন মেশিনম্যান বলে বেড়ায়। বড়ই আফসোসের ব্যাপার! উনি যা করছেন এইটাতে কুনু পাপ নাই। উনিতো শুধু বেহেস্তে হুরদের সাথে মোলাকাতের আগে প্র্যাক্টিস করছিলেন কেম্মে কি করা লাগব। শিক্ষিত মানুষরা এম্নিতে অনেক প্র্যাক্টিক্যাল হয়। যাহোক, উনারা না থাকার কারনে চাবির ভান্ডার এখন আল্লামা শফী ব্লগপুরীর কাছে।

আমার ধর্মের হেফাজত এখন নির্ভর করছে আল্লামা শফী ইবনে ব্লগপুরীর উপর। চাবি বিষয়ক জামেলা শেষ করার পর উনি সবাইরে ডাকলেন এক জরুরি বৈঠকে। এইতো গত রাতের কথা।
দুই প্যাক ওরস্যালাইন খাওয়া শেষ করে হেলিকপ্টারে চড়ে উনি এসে উপস্থিত হলেন আমাদের মাঝে। এসেই প্রথমে যা বললেন শরীরের লোম দাড়াই গেল, চোখে আর পানি ধরে রাখার মত অবস্থা রইল না। ঘোষণা দিলেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তিনি ইসলামকে হেফাজত করবেন। সুবহানাল্লাহ! মানুষ এত ভাল হয়!
“বেহেস্থে শুধু আমাদের মত বয়স্করা গেলেই হবেনা মাদ্রাসায় পড়ুয়া অবুঝ বাচ্চা পোলাপাইনদেররকেও চান্স দেওয়া লাগব” বাচ্চা পোলাপাইনদের মাঠে নামানোর আদেশ দিয়েই তিনি ঘোষনা দিলেন যে আগামীকালের জেহাদে তিনি অংশ নিবেন না। নিরাপত্তার অভাব!
মাথার ভেতর ঘুরপাক খায় কাহিনী কি? একটু আগে বললেন ধর্ম রক্ষায় জীবন দিয়া দিবেন এখন বলেন নিরাপত্তার অভাব! ধুর! এইসব নিয়া চিন্তা কইরা লাভ নাই। আমার টিকেট আমি পাইয়া গেছি মাওলানা ঘরে বইসা ওরস্যালাইন খাওক বা জাহান্নামে যাউক আমার কি?

পরের দিন মাথায় লুঙ্গি বাইন্ধা নামলাম জেহাদে। নাইমা দেখি মাথা এক্কেবারে ফাঁকা, জিহাদটা করমু কার বিরোদ্ধে? রাস্তায় কয়েকটা গ্যাংগাম স্টাইলে নাচ দিয়া মনে হইল আরে বেহেস্তে যামু কিন্তু ইসলামতো কায়েম করা হয় নাই! কি সর্বনাশ! কিভাবে ইসলাম কায়েম করা যায় চিন্তা করতে করতে মাথা গেল আউলাইয়া। অবস্থা তখন রাস্তার পাগলা কুত্তার চেয়েও খারাপ। কোন দিশা না পাইয়া দিলাম মসজিদে আগুন লাগাইয়া।
সাথের সবাইকেও দেখলাম পাগলা কুত্তা হইয়া গেছে। কয়েকজন মিইলা পাশের দোকানগুলাতে দেখলাম মনের আনন্দে আগুন লাগাইতাছে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে আগুনে!
পরিচিত এক বড় ভাইকে দেখলাম বায়তুল মোকাররমের সামনে এক বাসে দিলেন আগুন। উনি যে একজন খাঁটি ইমানদার সে বিষয়ে কুনু সন্দেহ নাই। ঈমান আগুন হয়ে বের হয়ে সবকিছু জ্বালাই দিতেছে। কি চমৎকার দৃশ্য। ঈমানি আগুনের এত সৌন্দর্য!

কিছুক্ষন পর যখন নাস্তিক পুলিশ আর বেহায়া কয়েকটা নারীর প্যাদানি খাইয়া লুঙ্গি মাথায় তুইলা দিলাম দৌড়, ফোন দিলেন আরেক বড় ভাই। বললেন মকাকরেল থেকে শুরু কইরা বেইলী রোডের মোর পর্যন্ত ল্যাম্প পোস্ট ভাইঙ্গা তারপর আগুন লাগাই দেয়া হইছে ভাইয়ের তদারকিতে। তারপর হাসতে শুরু করলেন বিকট শব্দে। মনে হইল ফোনের মধ্যে দিয়া মুখ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়ে আসতেছে।
আরো কিছু ঘটনা বললেন কিভাবে ঈমানদার ভাইয়েরা নয়াপল্টনে ৭১ টিভির গাড়ি ভাংচুর ও ঈমানি আগুন ধরাই দেয়; রামপুরা, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় কিভাবে আমাদের জেহাদি ভাইদের তান্ডবে ৯টা গাড়ি ভাংচুর হয়। গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারে হামলা করা হলে জান বাঁচাতে কিভাবে মানুষ দৌড় শুরু করে ঘটনাটা বলে আবার হাসতে শুরু করেন। এইবার গন্ধটা মনে হইল আরো প্রকট।

ফোন রাখার পর দেখি ক্ষিদা লাগছে অনেক। এর আগের বার এরশাদ চাচায় অনেক খাবার পাঠাইছিলেন কিন্তু এইবার কিছুই না। উনার মতিগতি বোঝা বড়ই কঠিন।
সাথের এক পিচ্চির কাছ থাইকা একটা কলা নিয়া মুখে দিলাম। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এখনও আগুন জ্বলছে। জানতে পারলাম বাবুবাজার ব্রীজের কাছে ২ টি টোলঘর ভাংচুর ও বক্সে আগুন দেয়া হইছে। নিঃসন্দেহে খুশীর সংবাদ।
আমার কাছে কোন ককটেল ছিলনা তয় আমার সাথের ভাইদের সাহস অনেক সাথে ককটেলও কয়েক বস্তা। পুলিশের দিকে অবিরাম চলছে ককটেল বিস্ফোরণ। সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের গাড়িতে আগুন দেওয়ার পরেই পুলিশের সাজোয়া গাড়িতে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু এর আগেই এক ভাই শুরু করলেন মোহনা টিভির গাড়িতে হামলা। উনার মুখ থেকেই পরে শোনলাম পল্টনের কেএফসিতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে ১ জন পরিবহন শ্রমিকসহ ৩ জন।

সবগুলা দৃশ্য মিলাইয়া চিন্তা করে দেখলাম ৭১এ আমাদের ঈমানদার বাব-চাচারা মিলে যে শান্তিরক্ষা কমিটি বানাইছিল তাদের ঈমানি তাণ্ডব দেখার সৌভাগ্য হয় নাই তো কি হইছে? শান্তিরক্ষা বাহিনীর চেয়ে আমাদের হেফাজতে জামাত কিংবা জামাত রক্ষা বাহিনীর ভাইয়েরা কোন অংশে কম না। কুরআন পুড়াইয়া আমরা ইসলাম কায়েম করুম! বেহেশত আমরার বাবার!

৮ thoughts on “আমি ইসলামের হেফাজতকারী।

  1. আল্লামা শফী ব্লগপুরী

    আল্লামা শফী ব্লগপুরী

    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  2. উনারা দেখতেছেন, উনাদের পিয়ারা
    উনারা দেখতেছেন, উনাদের পিয়ারা ফাকিস্তানে-আফগানিস্তানে প্রতিদিন মসজিদ, মার্কেট, অফিস, আদালত বাসা-বাড়ি, নির্বাচনী ক্যাম্প ইত্যাদি জায়গায় কি সুন্দর বোমা হামলাসহ গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে ! দেখতে বড়ই সুন্দর লাগতেছে ! সেজন্য উনারা এদেশে পিয়ারা ফাকিস্তান-আফগান স্টাইলে প্রাকটিস করার চেষ্টা করছে আর কি! !!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *