ইউটোপিয়া: কম্বোডিয়ায় কসাই পল পট

কমরেড পল পট।কম্যুনিস্ট খেমাররুজ নেতা এবং কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী (১৯৭৫-১৯৭৯)। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা সংঘটনকারী ঘৃণিত শাসক।চীনপন্থি কম্যুনিস্ট’রা পল পট প্রসঙ্গ উঠলেই মুখে তালা মেরে বসেন।চীনের সমাজতান্ত্রিক লাইনের পল পট ছিল সোভিয়েত রাশিয়া বিরোধী সঙ্গতকারনে ভিয়েতনামকে প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করে।

খোরামরুজ নেতা পল পট এতটাই রক্তপিপাসু ছিল যে ৮০ লক্ষ লোকের মধ্যে প্রায়১০ থেকে ৩০ লক্ষ লোক হত্যা করেছিল তার কম্যুনিস্ট সরকার বলে ধারনা করা হয়।” টোটালিয়ান ডিক্টেটরশিপ ” বা পূর্ণ একনায়কতন্ত্র কায়েম করে কম্বোডিয়াকে কৃষি বিপ্লবের আদলে ইউটোপিয় রাষ্ট্রে পরিণত করা উদ্দেশ্যে শহরের লক্ষ লক্ষ মানুষকে বহিঃবিশ্ব থেকে বিছিন্ন করে গ্রামে কৃষিকাজে বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়।প্রতিষ্ঠা করা হয় যৌথ খামার,মুদ্রা বিলুপ্ত করা হয়,নিষিদ্ধ হয় ধর্মপালন। ব্যক্তিগত কোন সম্পত্তি রাখা নিষিদ্ধ হয়।শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী যারা পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এদেরকে বিশেষ নির্যাতন ক্যাম্পে আটকে রেখে অত্যাচার করে করে হত্যা করা হয়।এসব নির্যাতন ক্যাম্পেন এর মধ্যে এস-২১ সবচেয়ে কুখ্যাত। এটি নম্পেন এ অবস্থিত। বিভিন্ন অনুসন্ধানে ২০,০০০এর মত গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।শিশুরা পর্যন্ত তাদের নির্মমতা থেকে রক্ষা পায়নি।গণকবরে পাওয়া শিশুদের মাথার খুলি দেখলেই বোঝা যায় কতটা অমানবিক ছিল খেমাররুজরা।হাজার হাজার বন্দীকে দিয়ে কবর খুঁড়িয়ে সেই কবরেই তাদের জ্যান্ত কবর দিত।পরিকল্পিত খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ছিল এদের আরেক নির্মম পন্থা।অপুষ্টি আর চিকিৎসার অভাবে পল পটের শাসনামলে মোট জনসংখ্যার ২৫% মৃত্যুবরণ করে। পল পটের ইউটোপীয় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে নিষ্ঠুরতম গণহত্যা তার সাক্ষী হয়ে আছে খুলি যাদুঘর আর বধ্যভূমি গুলো।

কম্যুনিস্ট এই স্বৈরাচার মারা যায় ১৯৯৮ সালে গ্রেফতার থাকা অবস্থায়।এছাড়াও দুই খেমাররুজ নেতার গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।

কম্যুনিস্টদের কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।কম্যুনিস্ট শাসনের কালো অধ্যায়ের এই দায় আপনারা এড়াতে পারবেননা।ইতিহাসের সত্য স্বীকার করেই নিজেদের আন্দোলন এগিয়ে নেবেন এই প্রত্যাশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *