হেয়ালিপুর্ন অক্ষর আর কোরান।

আমাদের ধারনা সৃষ্ট্রির শ্রেষ্ঠ জীব আমরা। এই ধারনার পক্ষে যুক্তিও আছে প্রবল।পৃথিবীতে প্রান উন্মেষের ধারনা হিসাবে ডারউইনের বির্বতনবাদকেই এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। আদম ও ঈভের ধারনাটা এখন আর গ্রহনযোগ্য নয়। অভিজ্ঞতা, শিক্ষা আর বাস্তবতার আলোকে মানুষ সত্যটাকে উপলদ্ধি করতে শিখেছে। বৈজ্ঞানিকদের ধারনা পৃথিবীতে প্রানের উৎপত্তি হতেও সময় লেগেছে প্রচুর। এই দীর্ঘপথ পরিক্রমার পর। আর ধর্মের ইতিহাস তো সেদিনের পাচ হাজার বছরের। সময়ের এই বিস্তর পরিমানকে যা দিয়েই প্রকাশ করুন না কেন সবটাই মানুষের জ্ঞানের আলোকে র্নিমিত একক দ্বারা কৃত হিসাবের ফলাফল। এতে প্রকৃতি বা সৃষ্ট্রিকর্তার কিছু আসে যায় না। আর এতে লৌকিক কোন জীবজন্তুরও কোন মাথা ব্যাথা নেই।

সৃষ্ট্রির পেছনে যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কে করল, কেন করল এর উত্তর মানুষ খুজবে, খুজছে আবার খুজতেও থাকবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির অংশ। আর এটাই প্রকৃতির দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার মানুষের জন্য। নিয়মের বাইরে কিছুটি করার উপায় নেই মানুষের। সীমাবদ্ধ মানুষকে সীমাবদ্ধ বলয়ের মধ্যেই বিচরন করতে হয়। পশু,পাখি, কীট পতঙ্গ ভেদে যার যার নিজস্ব কিছু নিয়মের বলয়ে প্রবাহিত হয় তার তার জীবন প্রবাহ। শুধু মাত্র মানুষকেই সমাজবদ্ধ হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। কেননা মানুষই একমাত্র প্রানি যে অসহায় হয়ে জন্মগ্রহন করে ও নিদৃষ্ট সময় সুষ্ঠ পরিচর্যার পরই সে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে। আর সেই কষ্টকর কাজটি সুসম্পন্ন করতে হয় স্ত্রীলিঙ্গের মানুষ গুলিকে পুরুষের সহায়তায়। তবে পুরুষদের অবদান অনেকটা দায়সাড়া গোছের। নারীকেই সিংহভাগ কাজটা করতে হয়। নারীর গঠন প্রকৃতিই এর জন্য দায়ী।

সৃষ্ট্রিকর্তাকে খুজতে গিয়ে মানুষ বার বার ভুল করেছে। সহজ সরল মানুষের ভাবনা প্রবাহিত হয়েছিলো নিজেকে ঘিরেই। তাই আল্লার আকার আকৃতি স্বভাব চরিত্র সবটাই মানুষের মতো হয়ে যায়। আল্লার মধ্যে উপাশনা পাবার প্রবনতা মানুষের মতোই সর্বগ্রাসী রুপে পরিলক্ষিত হয়। মুহাম্মদ সাঃ আল্লার যে ছবিটি একেছিলেন তা সুরা এখলাস নামে কোরান শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। ধর্মমতে এটাই আল্লার শেষ অংকিত ছবি। যেহেতু এটা একটা কবিতা তাই একে ব্যাখ্যা করা যায় নিজের মত করে। এই কবিতার সাথে প্রকৃতির একটি অদ্ভুত মিল খুজে পাওয়া যায়।

রসুল সাঃ কোরানের শুরুতে বা মাঝে মাঝেই হেয়ালীপুর্ন অক্ষরের আশ্রয় নিয়েছিলেন। আলিফ লাম মীম, হা মীম এই জাতীয় অক্ষর ব্যাবহার করে বা অনেকটা জেনেবুঝেই। এই হেয়ালিপুর্ন অক্ষরগুলির কোন অর্থ কোথাও বলা নেই। এর অর্থ নাকি গোপন রাখা হয়েছে তাই কেউ তার প্রকৃত অর্থ জানে না। কিন্তু দুষ্ট লোকেরা ঠিকি এর অর্থ খুজে বের করেছেন তাদের ভাষা হয়তো আপনার বিশ্বাসকে আঘাত করতে পারে। দুষ্টলোকদের সেই ব্যাখ্যা অনেকটা এই রকম, আলিফ =আল্লাহ, লা=নাই, মীম=মুহম্মদ, দুষ্টলোকেরা কি বলতে চাইছে সম্ভবত ওরা বলতে চাইছে মোহাম্মদ সাঃ এখানে বলেছিলেন “ আল্লাহ নাই মুহম্মদ সত্য। রসুল সাঃ সমস্ত কিছুই উপলদ্ধি করেই হয়তো আলিফ লাম মীম দিয়ে শুরু করেছিলেন। বাকীটা নিজের প্রয়োজনে প্রয়োজন মত সাজিয়ে নিয়ে ছিলেন মাত্র। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রষ্ঠ জ্ঞানপাপী। বিষয় চিন্তায় তার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না কি সন্দেহ। তিনি ধন্নাড্য বিবি খাদিজার পায়ে দাড়িয়ে গিয়েছিলেন মাত্র পচিশ বছর বয়সে। তারপর তিনি তার বুদ্ধির ধোয়ায় আচ্ছন্ন করে পৃথিবী জুড়ে ইসলামের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আর তাই সাজিয়ে গুছিয়ে দুনিয়াদাড়ি করার নামই হলো ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *