বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পণ্য জামদানি শিল্পে নতুনমাত্রা

বিশ্বে বাংলাদেশের যে কয়েকটি পণ্য সুপরিচিত, জামদানি অন্যতম। এটি বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পণ্য মসলিনের পঞ্চম সংস্করণ। জামদানি জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ায় দেশীয় ঐতিহ্যগত সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গেল।প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙালী নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নক্সা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি বলতে সাধারণত শাড়িকেই বোঝানো হয়। বর্তমানে তৈরি নানা পোশাকের সমারোহ থাকলেও জামদানি শাড়ির প্রতি বাঙালী নারীর দুর্বলতা এখনও অমলিন। জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, পর্দা প্রভৃতিও তৈরি করা হত। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নক্সীওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এছাড়া, মুঘল নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হতো।বাংলাদেশ স্বাধীনতা পাবার পরে ঢাকার ডেমরায় জামদানি পল্লীর তাঁতিদের আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়। তবে মেধা ও পারিশ্রমিকের অভাবের কারণে তাঁতিরা আর এ পেশায় আসতে চাইছেন না। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার অচল তাঁতগুলো প্রাচীন গৌরবগাঁথার নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে। কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়িরও একই দশা। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে জামদানি পল্লী স্থাপিত হয়েছে। মিরপুর বেনারশী পল্লীতে তৈরি শাড়ি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, চায়না, আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানি করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও রয়েছে জামদানির চাহিদা। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে বাংলাদেশের এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। আর এই গতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল জিআই সনদ। সম্প্রতি সরকারী বিভিন্ন উদ্যেগে জামদানি শিল্প পেয়েছে নতুন মাত্রা। ফলে আশা করা যায় জামদানি শিল্পের আবার সুদিন ফিরে আসবে এবং অর্থনীতিতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

১ thought on “বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পণ্য জামদানি শিল্পে নতুনমাত্রা

  1. জামদানি শিল্পটি দেশের বাইরেও
    জামদানি শিল্পটি দেশের বাইরেও ব্যাপক সমাদ্রিত। এটা অতীতে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পণ্য ছিল। তবে সরকারি সহায়তা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পণ্যটি আবার তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *