প্রতারণা অথবা হত্যাকান্ড

আমাকে বারবার জীবন থেকে জীবনের ফাঁদেই পড়তে হচ্ছে
মৃত্যু শুধুই প্রতারণা করছে আমার সাথে
চারটে বাঘ আর তিনটে বুনো শুয়োরের
ধ্বস্তাধস্তি চলছে আবছা জ্যোৎস্নায়
আমার মিথ্যে জিভ থেকেই সত্যের আহবান বের হয়ে
ঝলসে দিচ্ছে মানুষের বাচ্চাদের
তাদের কান্না শুনে বধির হয়ে যাচ্ছে আমার কান
আনন্দে সাততলা অব্দি লাফিয়ে উঠছে আমার জিভ
প্রেমিকার কষ্ট দেখে আনন্দে কেঁদে উঠেছিলাম আমি
চুমু খেতে গিয়ে জিভ শুকিয়ে আসছিলো আমার
চারিদিকের ভিজে স্যাঁতসেতে অন্ধকার থেকে
আমি দানব না যিশুখৃষ্ট বুঝতে না পেরে।
রেস্তোঁরায় ভিড় করছে মানুষেরা
আজ আর কোনো রাস্তা খঁজে পাচ্ছে না কেউ সরলভাবে হাঁটবার
সব রাস্তাই লুটিয়ে থাকে নির্জনতা,
সব কার্পেটের নিচ দিয়ে গড়িয়ে যায় ধুলোর ঝড়
সব জীবনের মধ্যেই থাকে ভয়ংকর কাঁপানো অর্থহীনতা, শূন্যতা,আঃমৃত্যু অথবা বঞ্চিত মৃত্যু!!
অপমৃত্যুও ফেরার হয়ে পালাচ্ছে আমার ভয়ে
কেননা আমি বুঝে গেছি মৃত্যুর দমবন্ধ ভান
কেননা আমি মৃত্যুর কাছে গিয়েছিলাম সরল চোখে
ভয়ে কুঁচকে গিয়েছিল তার চোখ
অন্ধ চোখে কঁদে উঠেছিল মাথা নিচূ করে
এবং খালি হাতে নির্জন রোদে ফিরতে হল আমাকে জটিল চোখে
নিজেকে নিজের থেকেও লুকিয়ে রাখতে পারছি না আর আমার নপুংসকতা দেখে কি তুমি হেসে উঠেছিলে-আমার ভালবাসা??
ভয় আর ভালবাসার মধ্যে শুয়ে তুমি ফিরে গেলে ভয়ের কাছে,
বাঁচার তাগিদে তুমি ফিরে এলে মগজের কাছে।
ফালতু মগজের জ্যামিতিক অঙ্ক থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলাম আমি বিশৃঙ্খলায়,
সভ্যকে ঘৃণা করেও লুকিয়ে রইলে সভ্যতার মধ্যে!!

টেলিফোনের মধ্যে দিয়ে রোজ ১১ কোটি চুমু
এপার-ওপার করছে পৃথিবীময়
রেলের লাইনের মোটা তার বেয়ে উড়ে যাচ্ছে ৭৪ কোটি মাছি
আমার শরীরের চারিদিকে অসংখ্য ‘টোপ’
নিজেকে ঝাঁঝরা করে জীবনের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে
খেলতে চাইলাম,
কিন্তু তোমার প্রতারণা থেকে ভালবাসা আলাদা করতে পারিনি!!
আমি ভাবছি আমাদের প্রথম অভিসম্পাতের কথা
আমি ভাবছি আমাদের শেষ চুম্বনের কথা।
আমি বুঝতে পারছি মানুষ মানুষকে ভালবাসতে পারছে না
মানুষ মানুষকে কোনোদিনই ভালবাসেনি।
উঁচু বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ছে হৃদয়সুদ্ধ লাশ,
আমি দেখতে পাচ্ছি প্রয়োজন কিরকম মাথা নাড়া দিয়ে উঠছে আকাশের দিকে।
আমার ধর্ম কি মনে করতে পারছি না কোনোদিন বুঝিনি বলে,
স্হায়ী-অস্হায়ী যুদ্ধ চলছে মানুষের আগুপিছু
বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসছে রজনীগন্ধার ডাল
মদের মত রক্তের ফেনা থেকে তৈরি হচ্ছে আঁশটৈ ক্ষুরধার ভালবাসা!!
আমি ক্রমশ প্রেম থেকে শরীরহীনতায় ভাসছি,
প্রেমিকার প্রিয় কোন মুখ জ্বলে উঠছে,বেফাঁস যাচ্ছে প্রয়োজনমত।
অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঢেলে দিচ্ছি আমার বর্তমান,
কবিতা আমার বুক থেকে শুষে নিচ্ছে আমার আয়ু।
অসুস্থ ভালবাসা ফিরিয়ে আনবার জন্য-
আমার সকল উত্তাপ জড়ো করে তৈরি করলাম লাল গোলাপের পালক,
ব্যবসায়িক উৎপাদন থেকে কুড়িয়ে নিলে তুমি একমুঠো প্রতারণা।
আগুনের উল্কা ছুড়ে দিলে আমার গায়ে
শিশুদের মত হেসে উঠলাম আমি
পুড়ে গেল আমার সমস্ত শরীর
আকাশ ঘেঁষে ছুটে গেল আমার ক্রোধ!!

স্বাধীনতার হাতে হাত রাখতে পারছে না কেউ ভয়ে
আমার আর সবার মাঝখানে গজিয়ে উঠছে একটা সুদীর্ঘ গভীর ফাটল।
আমি বুঝতে পারছি আমার দ্বারা কিছুই হবে না,
নিজেকেও তেমন করে ভালবাসা হল না আমার।
এই এক জন্মেই কি হাঁপিয়ে উঠছি আমি??
এক সঙ্গেই হাসছি আবার হাসছি না,
উফ! ক্লান্তি ক্লান্তি – অক্লান্ত আওয়াজ – আঁকাবাঁকা গন্তব্য,
ফাসেঁ আটকালো – ক্ষুধা – ভালবাসা – ঘৃণা।
কেবল বোঝা বয়েই জীবন চলে যায় ১০১% লোকের,
আত্মাকে খঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সমস্ত শরীর ছেঁকেও।
বিপ্লব,উত্তেজনা,নারী, সংঘর্ষ,হিংস্রতা,বন্য,নীরবতা নাচছে
আমি একবারও নিজের দিকে তাকাতে পারছি না ফিরে।
মানুষের কোনো কাজই করে উঠতে পারলাম না আজ পর্যন্ত।
অব্যবহার্য হয়ে কুঁকড়ে শুয়ে আছি লাল চোখে।
মগজে চোরাই কারবার চলছে গুপ্ত ক্ষমতার,
রক্তের মত গড়িয়ে পড়ছে আমার ভালবাসা, আমার অসহায়তা।
মানুষের রক্তাক্ত শরীরের পাহাড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে
অক্ষম আর পরাধীনতা।
মানুষের ক্ষীণ শরীর বেয়ে শরীর ঘিরে শরীর ধরে চলেছে,অসংখ্য বিশৃঙ্খল শৃঙ্খলা!!

আমি কোনো দিনই ভালবাসতে চাইনি
মস্তিষ্ক নড়ে ওঠে চাপা হিংস্রতায়
বুকের ভেতর চাপা ক্রোধ
রক্তের উত্তেজনা থেকে তৈরি হচ্ছে বন্যতা,
অস্তিত্বহীন আত্মার পায়ে স্বেচ্ছায় প্রণাম রেখেছিলাম।
চার মাস জঘন্য নীরবতার পর আঁৎকে উঠে কুঁকড়ে গিয়েছিলো মোমবাতিটা!!
মানুষের সাহসিকতা কে ভুল করে সন্দেহ করতে শিখেছি।
ভুল জেনে ভুল মানুষের সঙ্গে মিশে
আমি চালাক হতে ভুলে যাচ্ছি স্বেচ্ছায়।
স্রোতের সঙ্গে সঙ্গে চতুরতা,মূর্খতাও গড়িয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে
মাঝে মাঝে আমার মুখ আমি নিজেই চিনতে পারিনা,
সত্যই এখন কোনো স্পষ্ট মুখ খঁজে পাচ্ছি না..!!

__প্রতারণা অথবা হত্যাকান্ড//নাহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *