নাস্তিকতার উপযোগিতা

ছোট কালে স্কুলে পড়েছিলাম, “আপনারে বড় বলে বড় সে নয়, লোকে যারে বড় বলে সেই বড় হয়।” অথচ এদিকে স্রষ্টা নিজেই বলেছেন – তিনিই সর্ব শক্তিমান, সব চেয়ে বড়, শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও সবজান্তা। তাহলে ব্যাপারটা কিরকম দাঁড়ালো?

স্রষ্টা এটাও বলেছেন যে, তার ইশারা ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না। যা প্রায় সকলেই বিশ্বাস করে ও মানে। এসব যদি সত্যি ধরে নিয়ে আসুন আরেকটু গভীরে গিয়ে আলোচনা করি ।

আমরা কী দেখছি? একদিকে মসজিদ, মন্দির, গীর্জার পরিমাণ বাড়ছে। অন্য দিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার, অন্যায়, জুলুম। কেউ এখানে আবার দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে যাবেন না! কারণ বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নাকি দুয়ে দুয়ে তিন কিংবা পাঁচও হয়! যাহোক, অরাজকতা বাড়ার পরিমান দেখে নিশ্চত হলাম স্রষ্টা নিশ্চিত ভাবেই আছে । তবে সে কেমন স্রষ্টা !আসুন আজ সেটাই জানি ।

স্রষ্টার কথা যদি সত্য হয় অর্থাৎ তার ইশারা ছাড়া যদি কোনো কিছুই না হয় তাহলে, এই পৃথিবীতে, মানুষের সমাজে এত এত খুন, ধর্ষণ, অত্যচার, অন্যায়, জুলুম বাড়ার পিছনে নিশ্চয় কোন না কোন শক্তিমানের ইশারা কাজ করে। কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইশারা ছাড়া কোন সাধারন মানুষের পক্ষে এসব কাজ করা কোন ভাবেই সম্ভব কি? আস্তিকীয় বিচারে অসম্ভব। কেননা কথায় আছে – ‘ছাগল লাফায় খুঁটির জোরে।’- অতএব স্রষ্টার উপরের বক্তব্য যদি সত্যি হয় তাহলে এসব কাজের পিছনে তার হাত না থেকেই পারে না । অতএব স্রষ্টা আছে তা প্রমাণিত । আবার এসব কাজে বাইরের কেউ উস্কানী দিয়ে স্রষ্টার বদনাম করার চেষ্টা করছে – এমন অভিযোগও ধোপে টেকে না। কারণ তাহলে তাকে সর্ব শক্তিমান, সর্বজ্ঞানী বলা সাজে না, তাই না? অতএব এসবই তারই মদদে ঘটে। কারণ যারা এসব করছে তারা প্রায় সকলেই তথাকথিত স্রষ্টারই অনুসারী।

এবার প্রশ্ন হলো, স্রস্টার এমন নীতি ও চরিত্র কি মানবতা বিরোধী নয়!? একবার অন্তত ভাবুন । এসব দুর্দশাগ্রস্থ, জীর্ণ, পুরাতন, ভয়াবহ নিকৃষ্টনীতি দেখে একজন সুস্থ বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ হিসাবে কিভাবে স্রষ্টা ও তার মতবাদকে সমর্থন করবেন ? নাকি করা উচিত? যতই ৭২টা হুরের সঙ্গ লাভের লোভ আর আগুনে পোড়ানোর ভয় দেখাক! লোভ সংবরণ ও ভয়কে জয় করতে না পারলে মানুষ আজও সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে আগুনকেই সারাদিন পুজা করতো না কি ? আর হুরের প্রসংগে বলি – যে ১টাতে সন্তুষ্ট হয় না সে ৭২টা কেন ৭২ বিলিয়নেও কি সন্তুষ্ট হবে ? সব থেকে বড় কথা – লোভ, লালসা, ভয়কে যদি জয় করতেই না পারেন তাইলে আপনার ও পশুর মধ্যে পার্থক্য কি ?

যে সত্তা সামান্য নিজের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য লোভ ও ভয় দেখানো নীতি গ্রহণ ও প্রচার করতে পারে সে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত হীন চরিত্রের ও অযোগ্য, যা সভ্য সমাজের জন্য ক্ষতিকর। একনায়কতন্ত্রকে কিন্তু এমন যুক্তিতেই মানুষ পরিহার করে গণতন্ত্রকে আঁকড়ে ধরেছে। আপনারাই বলুন- এমন হীন নীতি ও হীন চরিত্রধারীকে কি মানা যায়? প্রশ্ন রইল আপনাদের কাছে ।

ধর্মে বলা আছে দুনিয়া নাকি পরকালের পরীক্ষাক্ষেত্র। কিসের পরীক্ষা? কার পরীক্ষা? লেখা পড়া করালো কখন যে পরীক্ষা দিতে হবে ? তার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ কেন পরীক্ষা দিবে ? তবে কি তিনি মানুষের সাহায্য প্রার্থী ? তবে যে সবাই বলে তিনি সর্ব শক্তিমান ! তাইলে ? রোগ, শোক, বিভিন্ন দুর্ঘটনা, রক্তপাত, দুঃখ কষ্ট ও মৃত্যু কি পরীক্ষার উপাদান হতে পারে? এসব কি পাগলের পাগলামীর লক্ষণ নয়? আবার মানুষের জীবন, দুঃখ কষ্ট নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা যিনি করেন তিনি কিভাবে সবজান্তা হন ? পাগলকে সর্ব শক্তিমান সর্ব জ্ঞানী বলে মানার মত পাগল এখনও হই নাই । আপনারা হইলে হতে পারেন। এখন আপনারাই বলুন- যার নীতি নিকৃষ্ট, যা মেনে নিতে বিবেক বাধা দেয়, তাকে মানবো কেন ? এসব নিয়ম নীতির জনককে না মানাটা যদি অপরাধ বা অন্যায় হয় তাইলে বিভিন্ন সময়ের মোঘল, বৃটিশ, পাকি, জিয়া, এরশাদের চামচাদের চামচামীতে দোষ দেখেন কেন ? কেন সেই কবিতা পড়েন- আমি বিদ্রোহী রন ক্লান্ত…………। অতএব আমি হয়ে রইলাম স্রষ্টা বিরোধী, নাস্তিক যা কীনা অসামাজিক ও অনৈতিক !!

অন্যকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই ধর্মের সৃস্টি । অথচ সাধারনকে বোঝানো হয় ধর্ম মানুষকে নৈতিক করে গড়ে তোলে । ধর্মের এই ধোঁকা বাজীতে পড়ে সাধারন মানুষ ধার্মিকদেরকে খুব সহজেই অন্ধ বিশ্বাস করে । আর যেখানে অন্ধ বিশাস সেখানেই বিশ্বাস ঘাতকতা । এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ধার্মিক হয়, তাতে করে তারা সহজে সফলও হয় । সাধারণরা এই ধার্মিককে ভন্ড বলে এবং অন্য ধার্মিকের কাছে ধর্ণা দেয় কিন্তু ফলাফল যেই লাউ সেই কদু । ধর্ম ব্যবহার করে অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেংগে খাওয়া ছাড়া সাধারনদের সামান্য একটু নৈতিক লাভের কথা কেউ কইতে পারবেন ? (গনিমতের মালকে নৈতিক লাভ বললে আমার কিছুই বলার নাই) । এর পরেও এই সাধারণদের কিছুতেই ঘুম ভাংগে না । কারন তাদের মাথায় হিরক রাজার সেই এক মন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া আছে – “ধর্ম আছে বলেই মানুষ অমানুষ হয় নাই “। অথচ ধর্মের মহামানবদের চরিত্র জেনে বিচার করলে তাদেরকে মহামানব তো দূর কি বাত, মানুষ বলতেই ঘৃণা হবে । কিন্তু ধর্ম তো বিবেক বের করে আবেগ ঢুকিয়ে দেয়, বিচার করবেন কিভাবে ? ফলে ধার্মিকরা দেখা দেখি মাথা ঠুকে সেই মহামানবদের উদ্দেশ্যে ।

এই যে দেখুন এখন দেশের চারিদিকে ধর্মের রক্ষার জন্য ও ধর্মের শ্রেষ্টত্ব প্রমানের জন্য এক অনুসারীরা অন্য অনুসারীদেরকে শুধু সংখ্যার জোরে হামলা, মামলা ও ধর্ষণের উল্লাসে মেতে উঠেছে । একবার ভাবুন তো- কেউ বোরকা না পড়লেই আপনার ঈমানদন্ড খাড়া হয়ে ঈমান দুর্বল হয়ে যাবে ? তাইলে তাদের ঈমান কি বোরকা নির্ভর ? এই হামলা মামলা ও ধর্ষণই কি ধর্মের নৈতিকতা ? আমি নিশ্চিত যে এটাই ধর্মের নৈতিকতা, না হলে কোন ধার্মিক দল এসব নিয়ে সোচ্চার হয় নাই কেন ? কেন ঘুস, দুর্নীতি ও এসবের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক নাই ? বরং সবাই ক্ষতিগ্রস্থদেরকেই অপরাধী বানাচ্ছে কিন্তু কিসের কারণে ? কারন ঐ ধর্ম । শুধু ধার্মিকদের সংখ্যাধিক্যের কারণেই একটা হিন্দু বা মুসলিম মেয়েকে ধর্ষণ করা বৈধ হয়ে যাবে ? ধর্ম কি আড়াই বছর, ৫ বছরের একটা বাচ্চাকে ধর্ষন রোধ করার শিক্ষা দিয়েছে ? দেয় নাই। বরং এটাকে সুন্নতি ছোয়াবের নৈতিকতা হিসাবেই ঘোষণা দিয়েছে । শুধু আমরা নাস্তিকরাই এসবের বিরোধিতা করছি, মানবতার স্বার্থে । তারপরেও বলবেন আমাদের নৈতিকতা খারাপ ?

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রধর্মের অনুসারীরা এখন মেতে উঠেছে সংখ্যা লঘু নিধনে । দিন যাবে এই প্রবনতা আরও বাড়বে বৈ কমবে না। এতে করে এই বাংলা একদিন হিন্দু শূন্য হবে । অন্যদিকে ইসলামের “মুখ দিয়েছেন যিনি, আহার দিবেন তিনি” আপ্তবাক্যকে পুঁজি করে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ হতেই থাকবে। তখন পূর্বের মত ইতিহাস লেখা হবে – বাংলার শাসক শ্রেণীদের ইসলাম অনুভুতি ও ইসলামের মহত্ত্ব দেখে স্বইচ্ছায় দলে দলে হিন্দুরা ইসলামের সায়া তলে এসেছে । অথচ এটা সত্য যে ,এমন ইতিহাস শুধু দলকানা, নেতা কানা ও ধর্ম কানাদের পক্ষেই লেখা সম্ভব। তাই না ? তখন সেই ইতিহাসের বিরোধিতা করার মত কোন প্রমাণ থাকবে না । শুধু প্রমাণ হিসাবে থাকবে আমাদের এই লেখা গুলি । যদিও এই লেখা গুলিরেও তখন বলা হবে – ইহুদি নাসাদের ষড়যন্ত্র হিসাবে । যাইহোক, আমরা ভবিষ্যতের জন্যই লিখে যাবো । এখন নিজেকেই প্রশ্ন করুন – বিনা বিচারে কাউকে মহামানব ভাববেন ও তার দান দয়ার উপরে বাঁচবেন নাকি নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে যোগ্য হয়ে নিজের যোগ্যতায় বাঁচবেন ।

সব বিচার-বিশ্লেষণ করে এর পরেও যদি তথাকথিত ধর্মের তুলনায় নাস্তিকতাকে খারাপ বলে মনে হয় তাহলে আপনার ভাববার স্বাধীনতাকে সাকিবীয় স্যালুট…

৩ thoughts on “নাস্তিকতার উপযোগিতা

  1. হাহাহা, নাস্তিক হলে তো আর
    হাহাহা, নাস্তিক হলে তো আর কিছুরই আশা থাকেনা, তার চাইতে আস্তিক হলেতো অনন্তকাল হুরভোগ করার একটা সুদূর আকাংখার পিছনে চিল্লা করে করে , মানুষের কাছে পরহেজগার মুত্তাকী, জান্নাতী লোক হিসাবে সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। আর নাস্তিক সাজলে লোকে বলবে হারামজাদা জাহান্নামী, অভিশপ্ত, নাস্তিক। আপনার ব্যবসা বানিজ্যেও কেহ সহযোগিতা করবেনা। দেখুননা জামাত কত দ্রুত ইসলাম এর নাম দিয়ে অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে ফেলেছে। ওসব যুক্তি মানুষেরা কম বুঝতে চায়। তারা লাভের কথা শুনতে বেশী আগ্রহী, এমনকী তার জন্য অজস্র অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করতেও কুন্ঠা বোধ করেনা। দেওয়ান বাগীরা তো পুরাপুরি মিথ্যার ভিত্তির উপর রাজকীয় অবস্থায় আছে। এভাবেই জনগন চলে।

  2. ধন্যবাদ চাকলাদার ভাই, অনেকদিন
    ধন্যবাদ চাকলাদার ভাই, অনেকদিন পরে ব্লগে পেলাম হোক না তা অন্য ব্লগ । মানুষ তো এমনি এমনি বুঝে না , বুঝার মত যোগ্য হতে হয় । এই যোগ্যতা তৈরি করে শিক্ষা । এই জন্য শিক্ষাকে ও শিক্ষিত সমাজকে বলা হতো সম্পদ । অথচ স্বার্থের নির্মমতায় সেই শিক্ষা আজ সম্পত্তি অনেকেই বলে শিক্ষা শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ । তাইলে কেন বুঝবে ?

  3. স্রষ্টা এটাও বলেছেন যে, তার
    স্রষ্টা এটাও বলেছেন যে, তার ইশারা ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না

    শুরুতেই তো কেচিয়ে ফেলেছেন। কোন ধর্মের স্রষ্টা কোন ধর্মগ্রন্থের কোথায় এরকম কথা বলেছেন – দেখাতে পারবেন? নাকি স্রষ্টা আপনাকে দুনিয়ায় পাঠানোর আগে আগে কানে কানে এই মন্ত্র বলে দিয়েছিলেন?

Leave a Reply to মূর্খ চাষা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *