জানি তোমরা লজ্জা পাচ্ছ

শান্তির
খোজে
ছুটে
চলে
মানুষ!
কিন্তু
বাস্তবতা বড় নির্মম! শান্তি নামক
বিষয়টিকে যে কোন পরিবেশে খুঁজে
পাওয়া কিংবা প্রতিষ্ঠা করা অত্যান্ত
কষ্টসাধ্য। তেমনই এক কষ্টসাধ্য ও অশান্ত সময়
পার করছি আমরা। এক কথায় বর্তমানে
অশান্তির আগুনে জ্বলছে প্রিয়
বাংলাদেশ। রাজনৈতিক ভাবে সৃষ্ট
অশান্তির আগুনের লেলিহান শিখা
ছিটকে গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের
গায়ে!এখানেই শেষ নয়!
যে শিক্ষাকে জাতীর মেরুদণ্ড বলা হয়
সেই মেরুদণ্ডকেও ভেঙে দিচ্ছে
রাজনৈতিক আবেশে তৈরি অশান্তি।
তবে এটা সত্য যে, আমাদের দেশে যে
পরিমাণে অশান্তি বিরাজ করছে এর
থেকে অনেক-অনেক বেশি অশান্তি
আছে পৃথিবীর নানা দেশে। সে সব
দেশে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিদিন
অসংখ্য মানুষ প্রান হারাচ্ছে।বিভিন্ন
সংগঠনের সাথে সংঘর্ষ, গৃহযুদ্ধ কিংবা
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র অনেক দেশকে
অশান্ত করে রাখছে। এইরূপ অশান্ত
বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের জন্য গর্বের
বিষয় হল, পৃথিবীর অনেক দেশের
অশান্তিকে দূর করে শান্তির বারতা
পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের হাজার
হাজার সূর্য সন্তানেরা।
জাতিসংঘের গর্বিত শান্তিরক্ষী
হিশেবে আমাদের দেশের বীর
সন্তানেরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করছে
পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কিন্তু লজ্জার
বিষয় হল, যে দেশের সন্তানেরা পৃথিবীর
বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মাঝে শান্তি
প্রতিষ্ঠা করছে, বর্তমানে সেই তাদের
দেশই অশান্তির আগুনে জ্বলছে! এই
বাস্তবতায় ভিনদেশে আমাদের দেশের
বীর সন্তানদের যদি কেউ বলে ” হে
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী, তোমাদের
দেশের সাধারণ মানুষ নাকি চরম
অশান্তিতে আছে? ওখানে নাকি এখন
প্রায় প্রতিদিন মানুষ মরে? ” এরকম
অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের
সম্মুখীন হলে তারা কি লজ্জা বোধ করবে
না? তাদের আত্যমর্যাদা কি নতজানু হবে
না? এ প্রশ্ন অশান্তি সৃষ্টিকারী হাতে
গোনা কয়েকশত মানুষের কাছে। সেই
সঙ্গে দেশে অশান্তি কে বা কারা সৃষ্টি
করছেন সে মূল্যায়ন করতে গিয়ে
“দলকানার” খেতাব নিতে চাইছি না।
কিন্তু এটা পরিষ্কার ভাষায় বলছি যে,
দেশে বর্তমানে অশান্তি চলছে। যেটা
দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ তথা
আমরা প্রত্যাশা করি না। প্রত্যাশা করে না
পরবাসে থাকা মানুষেরাও।
আর আমরা যারা এই বাংলাদেশে বসবাস
করছি এক কথায় আমরা রাজনীতির নগ্ন
খাঁচায় বন্দী। হাত-পা কিংবা শক্তি থাকা
সত্ত্বেও আমরা ধ্বংসাত্মক রাজনীতির
কাছে জিম্মি হয়ে আছি!
যারা দেশের বাইরে আছে। স্ত্রী
সন্তান কিংবা পিতা মাতাকে ছেড়ে
কঠোর পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাচ্ছে।তাদের কাছে প্রতিদিন
পৌঁছে দিচ্ছি নতুন নতুন অশান্তির বার্তা!
যা শুনে তোমরা হয়ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
নিয়ে দিন পার করছ! হয়ত ঐ দূর দেশ থেকে
আশীর্বাদ করছ মা-মাটি কিংবা এই
দেশের জন্য। হয়ত তারা
মায়ের মত প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের
চলমান অশান্তি তথা রাজনৈতিক সংঘাত-
সংঘর্ষ দেখে লজ্জাও পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *