যারা মুতাহ করবে না বা মুতাহ সমর্থন করবে না ,তারা মুনাফিক মুর্তাদ

কোরান ও হাদিসের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে যে পালন করবে না , সে খাটি মুমিন না , আর তার কপালে মরার পর
৭২ কুমারী নারীও নাই। এই পোষ্ট পড়ার আগে একটা সহিহ ইসলামী সূত্র ভালভাবে মনে রাখতে হবে। তা হলো – কোন বিধান যদি আল্লাহ হালাল করে বা চালু করে , তাহলে সেই বিধান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ রদ বা বাতিল করতে পারে না। এবারে আসল কথা বলা যাক। কোরান হাদিসের বহু সংখক বিধানের একটা বিশেষ বিধান হলো মুতা বিয়ে করা , কোরান বলেছে –


কোরান ও হাদিসের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে যে পালন করবে না , সে খাটি মুমিন না , আর তার কপালে মরার পর
৭২ কুমারী নারীও নাই। এই পোষ্ট পড়ার আগে একটা সহিহ ইসলামী সূত্র ভালভাবে মনে রাখতে হবে। তা হলো – কোন বিধান যদি আল্লাহ হালাল করে বা চালু করে , তাহলে সেই বিধান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ রদ বা বাতিল করতে পারে না। এবারে আসল কথা বলা যাক। কোরান হাদিসের বহু সংখক বিধানের একটা বিশেষ বিধান হলো মুতা বিয়ে করা , কোরান বলেছে –

সুরা নিসা -৪:২৪:—————-এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

কোরান বলছে পকেটে অর্থ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে বিয়ের উদ্দেশ্যে, পরস্পরের সম্মতিতে কোন মেয়েকে সাময়িক বিয়ে করে, মৌজ লুটে অত:পর তার পাওনা গন্ডা পরিশোধ করে দিতে হবে এবং পরে তাকে তালাক দিতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে , এখানে তালাক দেয়ার কথা কোথায় বলা হয়েছে ? তাহলে তাদেরকে ভাবতে হবে , কেউ কি কখনও পকেটে টাকা নিয়ে বিয়ে করতে রাস্তায় বেরয় , বিয়ের পর কি কেউ মজা লুটে (ভোগ) অর্থ পরিশোধ করে ? অর্থাৎ প্রকাশ ভঙ্গি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এটা আসলে বিয়ের নামে বেশ্যাবৃত্তি। বিশ্বাস হচ্ছে না এ কথা ? তাহলে প্রকৃত বিয়ের ব্যাপারে কোরান কি বলেছে সেটা দেখা যাক –

সুরা নিসা -৪:৪:আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।

সুরা মুমতাহিনা -৬০:১০: ———তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

এখানে কত সুন্দরভাবে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করার কথা বলছে , একথা বলে নি পকেটে অর্থ নিয়ে বিয়ের জন্যে বেরিয়ে পড়তে। এছাড়া এবার ৪:২৪ এর ব্যখ্যা ইবনে কাসির থেকে দেখা যাক —-

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাহ বিয়ে শরিয়তের বিধান ছিল। কিন্তু পরে তা রহিত হয়ে যায়। ———– মক্কা বিজয়ের সময় নবী(সা) বললেন- হে মানবমন্ডলি আমি তোমাদেরকে মুতাহ এর বিধান দিয়েছিলাম, তবে জেনে রাখ , কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ সেটা হারাম করে দিয়েছেন —-(সূত্র: পৃষ্ঠা নং-৩৪৬, তাসফির ইবনে কাসির-৪র্থ,৫ম,৬ষ্ঠ ও ৭ম খন্ড-http://www.quraneralo.com/tafsir/)

অর্থাৎ বলা হচ্ছে , মুতাহ ঠিকই আল্লাহর বিধান ছিল আর সেটা ছিল ৪:২৪ এর বিধান মোতাবেক , কিন্তু ইবনে কাসির বলছেন , পরে নাকি আল্লাহ তা রদ করে দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টা কি সত্য ? যদি সত্য হয়ে তাকে , কোরানের কোন আয়াত দ্বারা মুতাহ বিয়ে রদ করা হলো ? আছে সেই আয়াত ? কিন্তু মুতাহ বিয়ের বিধান যে আল্লাহ দিয়েছিল তার প্রমান নিচে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৪৩(ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদিস নং-৩২৮০)
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র আল হামদানী (র)…….কায়স (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) এর সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম এবং আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না । আমরা বললাম, আমরা কি খাসী হবোনা? তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করলেন । তারপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র দানের বিনিময়ে আমাদের নির্দিষ্ট কালের জন্য নারীদের বিবাহ করার রুখসত দিলেন । অতঃপর আব্দুল্লাহ (রাঃ) পাঠ করলেনঃ হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন, সেই সমুদয়কে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পসন্দ করেন না ।” (সূরা মায়িদাঃ ৮৭)

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৪৮(ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদিস নম্বর-৩২৮৫)
হাসান হুলওয়ানী (র)……আতা (র) বলেন, জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) উমরা পালন করতে এলেন । তখন আমরা তাঁর আবাসে তাঁর নিকট গেলাম । লোকেরা তাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেসা করল । অতঃপর তারা মুতআ সস্পর্কে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হ্যা, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর যুগে এবং আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর যুগে মুতআ (বিবাহ) করেছি ।

উপরের হাদিসে দেখা যাচ্ছে , আল্লাহ যে সত্যি সত্যি মুতাহ বিয়ে হালাল করেছিল তার সাক্ষ্য দিচ্ছে সুরা মায়দা -৫:৮৭ নং আয়াত আর সেই অনুযায়ী মুহাম্মদের সাহাবীরা মুতাহ বিয়ে করত। তারা মুহাম্মদ , আবু বকর ও ওমরের সময়কালেও মুতাহ বিয়ে করেছে। কোরানের তথা আল্লাহর বিধান দ্বারা মুতাহ হালাল না হলে কি তারা সেটা করত ? কিন্ত পরে দেখা যাচ্ছে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৪৯
মুহাম্মাদ ইবন রাফি (র)……আবু যুবায়র (র) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রাসুলুল্লাহ (সা) এর যুগে এবং আবু বকর (রাঃ)-এর যুগে মুতআ বিবাহ করতাম । শেষ পর্যন্ত উমর (রাঃ)আমর ইবন হুরায়সের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেছেন ।

দেখা যাচ্ছে ওমর সেই মুতাহ বিয়ে নিষেধ করে দিয়েছে। কি তাজ্জব কারবার ! যে বিধান আল্লাহ হালাল করল, সেই বিধান ওমর তো দুরের কথা মুহাম্মদই বা কিভাবে হারাম করতে পারে ? আল্লাহর বিধান কি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ , এমন কি মুহাম্মদও রদ বা বাতিল করতে পারে ? পারে না। যদি না পারে , তাহলে ওমর বলল আর সেটা রদ হয়ে গেল ? ইসলাম কি ওমরের বিধান, নাকি আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের বিধান ? আর আল্লাহ যদি মুতাহ এর বিধান দিয়েই থাকে , তাহলে কোন সাহসে সামান্য ওমর সেই বিধান রদ করার স্পর্ধা দেখায় ? তার মানে কি ওমর আসলে নবী মুহাম্মদের কথিত কোরানকে বিশ্বাস করত না ? যদি করত , তাহলে ওমরের এত ঔদ্ধত্য হতো না যে সে আল্লাহর নির্দেশকে বাতিল করার বিধান জারি করত। সেই কালে আজকের মত কোন নাস্তিক পাওয়া সম্ভব ছিল না যে দোজখের ভয়কে থোড়াই কেয়ার করে কোরানের বিধানকে বাতিল করে দিতে পারত। ওমর যদি আস্তিক হয়ে থাকে , আর যদি মুহাম্মদকে নবী ও তার কোরানকে আল্লাহর কিতাব হিসাবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত , তাহলে কোনভাবেই ওমর সেই কিতাবের বিধান বাতিল করার সাহস করত না। যুক্তির খাতিরে ধরে নেই ,কোরান আল্লাহর বানী, আর যেহেতু কোরানে এমন কোন আয়াত নেই যা দ্বারা মুতাহ বাতিল করা হয়েছে , তাহলে ওমর কর্তৃক মুতাহ বাতিলের বিধান আমাদের মেনে চলাটা বাধ্যতামূলক তো নয়ই বরং মেনে না চলে , মুতাহ করা বা মুতাহ এর পক্ষে সমর্থন দেয়াটাই হলো খাটি মুমিনের লক্ষন।

অথচ কিছু মুমিন নামধারী লোক সারাক্ষন প্রচার করে , মুতাহ নাকি বাতিল হয়ে গেছে। অর্থাৎ তারা কোরান ও হাদিস বিরোধী কথা বলে , অথচ নিজেদেরকে আবার মুসলমান বলে দাবী করে , এ ধরনের মিথ্যাবাদীরা হলো মুনাফিক , ভন্ড ।

কোরানের এই বিধান মেনেই ইরানে শিয়ারা এই মুতাহ র মাধ্যমে নিত্য নতুন নারীর সাথে হালাল পদ্ধতিতে মৌজ করে , ও নিজেদেরকে খাটি মুমিন হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে। তাই আসো, আমরাও আল্লাহ ও নবীর দেখান পথে মুতা- এর মাধ্যমে নিত্য নতুন নারীর সাথে যৌন ফুর্তি করি , ও খাটি ইমানদার বান্দা হই।

আর যারা মুতাহ বিয়ে বাতিল করা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে , তাদেরকে মুনাফিক মুর্তাদ হিসাবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেয়ামত পর্যন্ত জিহাদ ঘোষনা করি, বলুন সুবহান আল্লাহ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *