মেয়েদের গা ছুঁলেই কি ক্ষয়ে যাবে!

ছোট বেলায় বাবা বলেছিল, ছেলেরাই মেয়েদের রক্ষক। সেই বাবার সাথে গলিপথ দিয়ে হেটেযাবার সময় পেছন থেকে একটা সাইকেল থেকে একটা হাত মেয়েটির পাছায় গোল হয়ে ঘুরে দূরে মিলিয়ে গেল। মেয়েটি চমকে উঠে চিৎআর করে বলেছিল বাবা ওই লোকটা, ওই লোকটা
বাবা রাগে দিশেহারা হয়ে এমন চিৎকার অরে উঠলেন যে লোক জমে গিয়েছিল আর সব রসালো মন্তব্য!
ওই হাতটা, ওই নোংড়া পেছনে হাত বোলানো লোকটার হাতটা ভেংগে দিতে ইচ্ছে করেছিল। কে ভাংবে হাতটা? বাবা তুমি ঠিক বলোনি ছেলেরা ওই হাত ভাংতে পারেনা, এমনকি বাবারাও পারেনা।
কি হয়? ছুলেই কি মেয়েদের গা ক্ষয়ে যায়?
না, ছুলেই গা ক্ষয়ে যায় না! মেয়েদের শরীর হাওয়াই মিঠা না যে ছুলেই না চুপসে যাবে, ক্ষয়ে যাবে। কিন্ত কি জানেন, ভিড় বাসে আপনি যখন মনের আনন্দে মেয়েটির পেছনে হাত বুলালেন কয়েকবার, মেয়েটির শরীর ক্ষয়ে যায়নি। এমন ঘেন্না ধরে গিয়েছিল যা সারা জীবন মেয়েটি বয়ে বেড়াচ্ছে। আপনাদের দেখলেই ‘দু’ পেয়ের জায়গায় ‘চার’পেয়ে মনে করে মেয়েটি। সুযোগ খোজে। সুযোগ আর একটু সাহস পেলে আপনার হাতটি ভেংগে দেবে। সেই ঘেন্না বড়ই মারাত্মক!
খুশবন্ত সিংহের বইয়ে পড়েছিলাম,
মেয়েদের পেছনটা যদি বেশ গোলাকার হয়, আমি হাতের তালু বুলিয়ে দেওয়ার অধিকার চাইবো। যদি ওটা হুব বড় বা ছোট হয় আমি চাইবো একটা আঙ্গুল ওই খাজে ঢুকিয়ে দেওয়ার স্বাধীনতা।
ছিঃ
কেন লেখেন এসব?
এই লেখককে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করেছিল, আপনার বোন না থাকতে পারে, মেয়ে না থাকতে পারে, প্রেমিকা না থাকতে পারে, মা নিশ্চয় আছে। খোজ নিয়ে দেখুন এই লেখা পড়ে আপনার মায়ের আত্মসম্মানে কতটা লেগেছিল, খোজ নিয়ে দেখুন আপনার মা নিশ্চয় নিজের পেছন ‘অরক্ষিত’ ভেবে ঘেন্নায় আপনার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিতে চেয়েছিল।
কেন? কেন এই কাজটা করতে হবে আপনার? কেন আমার বুকের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে? কেন কাপড়ের ফাক দিয়ে আমার শরীর দেখার চেষ্টা করা হবে? কেন পা ফাক করে বসলে আমার পায়ের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হবে?
আপনারা কি শকুন যে স্কুল ড্রেস পরা বাচ্চা মেয়ে থেকে শুরু করে শাড়ি পরা মধ্যবয়েসি নারী সবার শরীর ‘চোখ’ দিয়ে খুবলে খাবেন?

১১ thoughts on “মেয়েদের গা ছুঁলেই কি ক্ষয়ে যাবে!

  1. পড়লাম আপনার লেখা। লেখকদের
    পড়লাম আপনার লেখা। লেখকদের পুরুষতান্ত্রিকতা মনে হয় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর! ভেতরের পুরুষতান্ত্রিকতাই যদি দূর করতে না পারবে তাহলে লেখতে যাওয়া কেন!

    1. লেখকদের পুরুষতান্ত্রিকতা বলতে
      লেখকদের পুরুষতান্ত্রিকতা বলতে আপনি কি এবং কাকে মিন করেছেন ক্লিয়ার না, ক্লিয়ার করলে উত্তর দিতে পারতাম

      1. দুঃখিত, যে আমি ঠিক মত বোঝাতে
        দুঃখিত, যে আমি ঠিক মত বোঝাতে পারি নি। আপনার লেখার এক জায়গায় আপনি কোন এক লেখকের লেখা উদ্ধৃত করে বলেছেন আপনি নাকি সেই লেখককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন লেখেন এই সব। এধরনের পুরুষ লেখক হয়ত আমাদের চারপাশে আরো আছে। আমি লেখকদের পুরুষতান্ত্রিকতা বলতে তাদেরকেই বুঝিয়েছি। এমনকি অনেক বড় বড় লেখকদের মধ্যেও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে পুরুষতান্ত্রিকতা। যেমনঃ এই সময়ের সৈয়দ শামসুল হক।
        যাহোক, এখন মনে হয় কিছুটা হলেও ক্লীয়ার করতে পেরেছি।

  2. পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে উঠা
    পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে উঠা একজন পুরুষের১ মানুষ হয়ে উঠা এত সহজ ব্যাপার না।

Leave a Reply to শামীমা মিতু Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *