প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়বদ্ধতা

অতীতে বাংলাদেশে কোন সরকারই তার রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খুব বেশি আন্তরিকতার পরিচয় দিতে পারেনি, ব্যতিক্রম রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকার। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায় উজ্জীবিত এ সরকার বিগত বছরগুলিতে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পূরণে তাই নেয়া হচ্ছে নানা মেগা প্রকল্প। চট্টগ্রামকে দেশীয় অর্থনীতির আগামী দিনের প্রধান চালিকাশক্তি করার অংশ হিসেবে এবার সেখানে একটি ২০ তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য নির্মিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশেই ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে ২০ তলা ভবনের নকশা তৈরির কাজ সেরে ফেলেছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (সিএইচইসি)। সরকারের গৃহিত কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, আনোয়ারায় চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত বহুগুণে বেড়ে যাবে, বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই ভবন নির্মানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে একই ছাদের নিচে যাতে সব ধরনের সেবা পাওয়া যায় তার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এই ভবন নির্মাণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মাল্টিপারপাস কাজে ব্যবহারযোগ্য এই ভবনে দেশি-বিদেশি যেকোন বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামে গিয়ে যাতে থাকতে পারে সে জন্য থাকবে আন্তর্জাতিকমানের রেস্ট হাউস, থাকবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অফিস, থাকবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজ করতে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সেরও সুব্যবস্থা। বর্তমানে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্পটি পূর্ণগতিতে এগিয়ে চলছে। ৭৭৪ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি পর্যায়ের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছেই রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড ও কাফকো। প্রস্তাবিত কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দূরত্ব হবে মাত্র দুই কিলোমিটার। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরে অর্থনৈতিক এই অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। চীনা রাষ্ট্রপতির ঢাকা সফরে যতগুলো চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে, তার মধ্যে বড় একটি অংশই থাকবে চট্টগ্রামকে ঘিরে। বর্তমান গণমুখি সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণের ধারাবাহিতায় নিরলসভাবে যেভাবে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে তাতে সোনার বাংলা বিনির্মাণ আজ আর কোন সুদূরের স্বপ্ন নয়, এক বাস্তবতা। অব্যাহত অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নে গৃহিত নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে অচিরেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে স্বনির্ভর সোনার বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *