সাভার ট্র্যাজেডি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

১। সাভারের পৌর মেয়র সাময়িকভাবে বরখাস্ত। ভবন ধসের পর তিনি পৌরসভা থেকে রানা প্লাজার সকল ফাইল সরিয়ে ফেলেন। উল্লেখ্য, পৌর কর্তৃপক্ষ রানা প্লাজার ১০ তলার লে আউট অনুমোদন করে যা তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত। লে আউট তৈরি করেন রানার ব্যক্তিগত প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। লে আউট অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন রানার বাবা আব্দুল খালেক (কলু খালেক) যিনি স্থানীয় বাজারে ক্ষুদ্র পরিসরে তেল বিক্রি করত।

২। সাভারের ইউ এন ও কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩। ঐ ভবনের নকশাকারী রানার ব্যক্তিগত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাককে ২ মে গ্রেফতার করা হয়েছে। অত্র ভবন ঝুকিমুক্ত আছে এই বিবৃতির শর্তে ভবন ধসের আগের রাতে অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল রানার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে আব্দুর রাজ্জাক।

৪।বুয়েট ও ঢাবির বিশেষজ্ঞ দল ধংসস্তুপ পরিক্ষা করে দেখতে পান, কংক্রিট মিশ্রণে সিমেন্ট ছিলই না। কংক্রিট এতোটাই দুর্বল যে হাতের হালকা চাপেই ভেঙে যাচ্ছিল। পিলারগুলিতে রড দিয়ে তৈরি রিং ৪ টির জায়গায় দুইটি ব্যবহার করা হয়েছে। ভীমগুলো অতি দুর্বল। পুরো ভবন ছিল জলাশয়ের উপর। ভারি যন্ত্র- জেনারেটর চালু করা ভবনে কম্পন শুরু হত।

৫। ৮ম শ্রেনি পাস ফেন্সিডিলের ব্যবসায়ী রানার এই ভবনের ৪৭% জমিই ছিল জোরপূর্বক দখলকৃত। সাভারে তার আরো দুটি ভবন আছে যার একটি ফাটলের কারণে সিলগালা করা হয়েছে। এই ভবনের নিচতলার ব্যাংক এশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করত রানা। অপর ভবনের দোতলায় থাকত তিনি। বাকি তলাগুলো ভাড়া। ভাড়াটিয়ারা অতিষ্ট হয়ে নেমে যাচ্ছে বাসা থেকে। বাসার তত্বাবধানে এখন বাসার পরিচারিকা। এই রানার দুটি ইটভাটা আছে যার ইট অত্যন্ত নিম্নমানের। ইটভাটার শ্রমিকরা দেখালো ইটের অবস্থা। ইট হাত থেকে মাটিতে জোরে ফেলার সাথে সাথে দু টুকরা হয়ে গেল। এই রানা ব্রিক দিয়েই তৈরি হয় রানা প্লাজা। রানার গ্রামের বাড়ির ভবনেও ধরেছে ফাটল।

৬। রানা যুবলীগের কেউ না এরকম একটা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এম পি। তিনি শেখ হাসিনার কানেও দিয়েছেন এই মিথ্যা তথ্য। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যে সাভার যুবলীগ কমিটির লিস্ট ধরিয়ে দেন তা ভুয়া, ডান পাশে তারিখের ঘর থাকলেও কোন তারিখ ছিল না সেখানে। আসল লিস্ট পাওয়া যায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার কাছে। এই রানা সেই লিস্টে যুগ্ম আহ্বায়ক। এই সত্যতা নিশ্চিত করেন সাভার যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী।

৭। ঐ ভবনে ৫ টি গার্মেন্টসে কতজন লোক কাজ করত তার সঠিক কোন তথ্য নেই বি জি এম ই এর কাছে।অনেক খাতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনকভাবে হাজিরা খাতাগুলা পাওয়া যায়নি ভবনের ভেতর থেকে।
৮। ২৪ তারিখ ঘটনার সময় থেকেই ফ্যান্টম গার্মেন্টসের এম ডি ডেভিড ম্যায়ের পলাতক।

৯। মুরাদ জং অস্বীকার করলেও রানার সাথে তার ছিল খুব ভাল সম্পর্ক। এমনকি রানার বাসায় নিয়মিত যেতেন মুরাদ জং।

১০। রানার বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছে দুর্বলভাবে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ৩৩৭, ৩৩৮, ৩০৪ (ক) ধারায় মামলা সাজানো হয়েছে। এগুলো জামিনযোগ্য ধারা যেখানে অধিক শাস্তি ৫ বছরের জেল। তবে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বলছে, মামলা ৩০২ ধারায় রিলেট হতে পারে কিন্তু সেখানেও অধিক দণ্ড ২০ বছরের জেল। মামলার তদন্ড কর্মকর্তা করা হয়েছে রানার নিকটজন সাভার থানার সাব ইনস্পেক্টর কায়সারকে।

কয়েকটি তথ্য পেয়েছি একুশের চোখ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

৪ thoughts on “সাভার ট্র্যাজেডি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

  1. শুয়োরের বাচ্চাকে ধরে এনে
    শুয়োরের বাচ্চাকে ধরে এনে বাইপাইলের মোড়ে ছেঁড়ে দেওয়া উচিৎ। বাকিটা গার্মেন্টস শ্রমিকরাই বুঝে নেবে।

  2. সোহেল রানা বর্তমান সময়ের
    সোহেল রানা বর্তমান সময়ের আলোচিত/সমালোচিত একজন নায়ক; তার হাত ধরে অনেকেই উঠে আসছেন বর্তমানে।
    দেশের প্রচলিত নিয়মে যদি; তার বিচার হয় তাহলে জেনে রাখুন; জেল থেকে বের হয়ে এই রাক্ষসটা আপনাদের চিবিয়ে খাবে।
    ওর বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই; যে কোন সাধারন মানুষ কিনবা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে যে কেউ; চাইলে মামলা করতে পারবে। ব্যক্তি উদ্যোগে মামলা হোক।

  3. শ্রমিকদের নিয়ে শোষন
    শ্রমিকদের নিয়ে শোষন ধারাবাহিকভাবে আর কতদিন চালাবে মালিকরা? এর খেসারত দিতেই হবে। মালিকদের এখনই সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে। আর সরকার যদি শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার, কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ, নায্য মজুরীর ব্যবস্থা করতে না পারেন, গার্মেন্টস খাত পুরাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

    সবার সুমতি হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *