উল্টা করে বলি

যদি এভাবে বলা শুরু করি আসলে সার্বিক বিচারে বাংলাদেশের বাটলারের আউট উদযাপন অশোভন ছিল, তাহলে মাইর একটাও মাটিতে পরবেনা, সব আমার পিঠেই পড়বে। আমরা বাংলায় খাই, বলি, করি, ঘুমাই, অর্থাৎ সবই বাংলায়। খেলার মাঠে বাল, মাদারচোত, চোদনা…..ইত্যাদি শব্দ হরহামেশাই ব্যবহার হয়, হাত মুঠো করে সামনে পিছনে নিয়ে নাচের মুদ্রাও খুব চালু। আমাদের ভালবাসার ক্রিকেট তারকারাও বাংগালী, তারা কমবেশী আমাদের মতই। বিদেশ বিভুই ঘুরে তারা কিছুটা বেশী দেখেছে ও শিখেছে। কিন্তু দিনশেষে তো আমরা আমরাই।

কিছুদিন পশ্চিমে থেকে দেখেছি এরা উত্তেজিত, আনন্দিত, দু:খিত ইত্যাদি সময়ে কিরকম ব্যবহার করে। ফুটবলের উত্তেজনা ছাড়া আর কোন বহি:প্রকাশে এরা সরব নয়। আমরা সবকিছুতেই প্রচারমূখী এবং প্রকাশমূখী। আমাদের বাচ্চারা সারেগামা বাজাতে পারলে মঞ্চে তুলে দেই একটু বাহবা পাওয়ার জন্য, এরা সেরকম না। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা কথা না, আমরা আমরা, ওরা ওরা। হ্যাঁ, মনে একটা ফিল্টারিং সিস্টেম আছে , নিজের কাছে কোনটা ভালো লাগে সেটা গ্রহনের বা সমর্থনের, খারাপ লাগলে বর্জনের। তো সেই বিচারে আমার দেশের ছেলেরা বাটলারের আউটের পর যে ওর দিকে মুখ করে একটা সমবেত নৃত্য দেখাল সেটা আমার কাছে নির্ভেজাল উদযাপন মনে হলেও হতে পারে ( আসলে হয়না) কিন্তু ওদের কাছে না। বিষয়টা কিঞ্চিৎ থেকে বেশী দৃষ্টিকটু, চরমভাবে ইম্যাচুরিটি দোষে দুষ্ট।

এখন আসি বড় প্রসংগে। শ্রদ্ধেয় রকিবুল হাসান বলেছেন মুখে আঙ্গুল দিয়ে আরেকটি প্রকাশভংগী করতে পরেরবার প্রতিবাদস্বরূপ, অনেকেই সম্মত হয়েছেন। এর আগে বিষয়টা মাঠে থেকে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত গিয়েছিল। এবার ছড়াবে আন্তর্জাতিক মন্ডলে এবং আমাদেরকে আবেগপ্রবণ না বলে বলবে প্রতিশোধমনস্ক বোকা জনগন। আমরা প্রকাশভংগীতে ইম্যাচিউর্ড। ‘ দৌড়া বাঘ আইলো, ….টাইপের স্লোগান আমাদের চেয়ে সবল বা দূর্বল কোন দলই লেখেনা।

আবেগ দিয়ে গঠনমূলক কাজ আমরা হাজারটা করি, কিন্তু দু একটা বোকামি হয়ে যায়, যেটা হঠাৎ হয়ে যায় না, প্ল্যান করেই হয়। প্ল্যান করে বোকামি আসলেই বোকামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *