চার লেন হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যুগোপযোগী সুসংগঠিত ও আধুনিক পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ণ্ডরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অত্যাবশ্যকীয় ভৌত অবকাঠামো হিসেবে ণ্ডরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশণ্ডলোর সাথে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির ফলে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকার নতুন সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিদ্যমান সড়কসমূহ প্রশস্তকরণের কাজ হাতে নিয়েছে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আর এই উন্নয়নকে ধরে রাখতে কানেকটিভিটি বাড়াতে সিলেট-ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেটের তামাবিল পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট মহাসড়ক নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো গতকাল। এতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন ও অতিরিক্ত প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান এবং চীন সরকারের অনুমোদিত চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সভাপতি তাং শিয়াওলিং। ১৪ অক্টোবর চীনের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে অর্থ নিশ্চয়তার চূড়ান্ত চু্ক্তি স্বাক্ষর করা হবে। চীন সরকারের অর্থায়নে হচ্ছে সিলেট-ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের কাজ। এই চারলেনের দুইপাশে আলাদা সার্ভিস লেন থাকবে। যেখানে ‘স্লোমুভিং’ যানবাহন চলাচল করবে। চার লেনের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। চীন এ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ২২৬ কিলোমিটার এই সড়কে চার লেন প্রকল্পের মধ্যে ছোট আকারের ৬০টি সেতু, চারটি ফ্লাইওভার ও ২৭টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। সিলেট-ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের কাজ এখন শুরু হলে মাত্র ৩ বছর পরই চার লেন হয়ে যাবে মহাসড়কটি। সিলেট থেকে যে রেমিট্যান্স আসে এ প্রকল্প সম্পন্নের পর তার মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। এছাড়াও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তারা বিভিন্ন খাতে বর্তমানের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। ফলে এই প্রকল্পটি সিলেটবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তখন পর্যটন ও অর্থনীতি দু’টোই বদলে যাবে সিলেটের। বাড়বে জিডিপিও। আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, সুদের হার নির্ধারণ, পরিশোধের প্রক্রিয়া, কমার্শিয়াল এগ্রিমেন্টসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *