নারীবাদ বা feminism

Justin Trudeau বলেন তিনি feminist, James Cameron বলেন তিনি humanist, feminism humanism এর অধীনেই আসে। আমার কাছে মনে হয় প্রকৃতিপ্রদত্ত ক্ষমতা আর সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে বেড়ে ওঠা বোধ থাকলে নারীবাদিতা নিয়ে আলোচনা বাহুল্য। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে তা বাহুল্য তো নয়ই বরং অতীব গুরুত্বপূর্ণ ।সব মানুষ, গোত্র, সমাজ, ধর্ম, অঞ্চল এক নয় বিধায় বৈশ্বিক ভাষায় feminism একটা strong brand হয়ে গেছে।

সমস্যা হয় যখন হিন্দি সিনেমায় ‘ মে তান্দুরী মুরগী হু ইয়ার, মুঝে খা লে’ টাইপ গান হয়, শিক্ষা ও সভ্যতায় অবগাহন না করা দর্শক বস্তুতই মুরগীর খোঁজে রাস্তায় নেমে পড়ে আর নাচগান করা সেলিব্রেটি অভিনেতা অভিনেত্রীরা feminism এর ধ্বজা উড়ায়।

আপনি চাইলেই কাল থেকে ময়ূরকে বলতে পারবেন না যে ময়ূরী দেখলে সে যেন দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পেখম না মেলে, কিংবা বর্ষাকালে ব্যাঙ কে ঘ্যাংগর ঘো ডাকানো থেকে থামাতে পারবেন না। বাইসন, ভেড়া থেকে শুরু করে শিম্পাঞ্জি গড়িলা ইত্যাদির মধ্যে প্রাণঘাতী মল্লযুদ্ধও দেখেছেন। প্রকৃতিকে অস্বীকার করবেন কিভাবে? মাথায় ১৫০০ গ্রাম ঘিলু আছে তো কি হয়েছে, প্রেমে পড়লে কি করতে পারবেন না তার লিস্ট দেখবেন খালি। ঠিক একইভাবে শারীরিক মানসিক শক্তি প্রদর্শনের ব্যাপারটাও প্রেমোত্তর কালে হয়ে যায়। হওয়াটা ঘোরতর অনুচিৎ। কোন কিছুর দোহায় দিয়ে সে অন্যায়কে আড়াল করার পক্ষপাতি আমি নই। সমাজবিজ্ঞানীদের উপর আমার অনেক আস্থা, নিশ্চয়ই তারা সভ্যতার উৎকর্ষতার সমান্তরালে পুরুষ নারীর সম্পর্ক কে আরো সুন্দর, সৃষ্টিশীল এবং গতিশীল করার উপায় বাতলাবে। তা পুরো মানবতাকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে, অন্যান্য প্রজাতির জীব ও মানবকূল উৎকর্ষের দিকে যাবে।

কিন্তু ধনতান্ত্রিক বিশ্বে feminist শব্দটার মধ্যে আমি একটা প্রকৃতিবিরুদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদের গন্ধ পাই। ব্যবসায়িক ফায়দার গন্ধ পাই।
আমার বোঝার ভুল হতে পারে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, অভিজ্ঞতার অভাব ইত্যাদি হতে পারে। আমার ভুল হলেই আমি খুশী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *