পাক-ভারত যুদ্ধ : কাশ্মীরে উপেক্ষিত মানবতা


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা নানান ধারায় প্রবাহিত। সময়টা চলছে অঘোষিত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রাক্কাল। চলিত বিশ্ব আজ নানান মাত্রিক সংকট, সংঘাতে জর্জরিত। পৃথিবী নামক নীল গ্রহটির উপর যেন ভর করেছে কোনো অশুভ অশরীরী প্রেতাত্মা। যাঁর তাণ্ডবলীলায় ভস্মীভূত গোটা পৃথিবী। এখানে নিস্তার নেই কারও। কি হিন্দু-মুসলমান, বুদ্ধ-খ্রিস্টান, কি আস্তিক-নাস্তিক, কি ধনী-দরিদ্র, কি উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্ত কি কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ। চর দখলের ষড়যন্ত্র আর স্বার্থের কাছে সব কিছু পরাজিত। পরাজিত ভ্রাতৃত্ব। পরাজিত মনুষ্যত্ব। পরাজিত বিবেক। পরাজিত নীতি-নৈতিকতা। পরাজিত মানবতা। তবে আর পৃথিবী মানুষের রইলো কী করে? হ্যাঁ- পৃথিবী আজ অমানুষের। পৃথিবী আজ সবলের। পৃথিবী আজ অন্ধের (হৃদয়ে যাঁর চোখ নেই)। মানুষ মাত্র এখানে অমানুষের অধঃপতি। দুবর্ল সবলের দয়া। দৃষ্টি আছে যাঁর সে অন্ধের অনুকরণীয়। মৃত্যু এখানে খেলা। রক্ত এখানে তৃষ্ণার জল! অথচ এ পৃথিবী তো হওয়ার কথা একটি পিপঁড়ার জন্যও নিরাপদ। কারণ এটি সৃষ্টির সেরা প্রাণী মানুষের গ্রহ। আজকের ক্রান্তিকালে জীবনানন্দ-ই যেন বড্ড প্রাসঙ্গিক,

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

বৈশ্বিক এই ক্রান্তিকালে সর্বত্রই যুদ্ধবিগ্রহ। সর্বত্র চলছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া থেকে তুরস্ক, ইরাক থেকে সিরিয়া, ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইল, আফগানিস্তান থেকে খিরগিস্তান। কোথাও যেন দু-দণ্ড শান্তি নেই। অশান্তির ভূত চেপে বসেছে সর্বত্র। এশিয়া তথা এই বৈশ্বিক বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে একটু ভিন্ন ছিলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। যদিও অপ্রিয় বাস্তবতা, বৈশ্বিক বিরাজমান পরিস্থিতির ভিন্নতা এখন আর প্রিয় স্বদেশকে বলা চলে না। এটি এখন বৈশ্বিক ক্রান্তিকালেরই অংশ! এর হেতু কারণ আমাদের অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা এবং ভৌগলিক পার্শ্ববর্তীতার দরুণ পারস্পরিক আগ্রাসন। তাই আমাদের চারপাশ জুড়ে ঘটে চলা সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর, বৃহত থেকে বৃহত্তর প্রতিটি ঘটনা অন্তঃসার দৃষ্টিতে উপলব্ধি করতে হবে। এবং এর ইতিবাচক প্রভাব গ্রহণ করে, নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সর্বোচ্চ আত্মরক্ষায় স্বচেষ্ট থাকতে হবে। অবশ্যই চারপাশটি হতে পারে আমাদের দু কদম দূর, সহস্র নটিকেল মাইল কিংবা দেশ থেকে দেশান্তরে। আমাদের চারশাশ জুড়ে ঘটে চলা নানান ঘটনার মধ্যে সঙ্গত কারণে পাক-ভারত দাঙ্গা আমাদের ভাবনার ব্যতিব্যস্ততার একটি। কেননা এটি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের উপর ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারকারী দাঙ্গা। এই দাঙ্গাকে কোনভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বৈরিতার সূচনা মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিত্তোর ১৯৪৭ পরবর্তী। যে বৈরিতা এখনো দুই দেশের সম্পর্কে সমভাবে বিদ্যমান। ভারত উপমহাদেশ বিভক্তির পর নানান কারণ, নানান ইস্যু নিয়ে পাক-ভারত বহুবার একে অপরের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত ছিলো। এ যুদ্ধ কখনো শীতল সামরিক আবার কখনো ছিলো কূটনৈতিক। পাক-ভারত সম্পর্কের টানা-পোড়েন আরও নতুন মাত্রা যুগ করে সাম্প্রতিক কাশ্মীর ইস্যু। যদিও দেশ ভাগের পর থেকেই কাশ্মীর ইস্যুর উদ্ভব। মূলত কাশ্মীর নিয়ে দু-দেশের বিপরীত দুই মেরু ও দ্বৈত নীতির অবস্থান কাশ্মীরের ভবিষ্যত্‍ অস্পষ্ট। দখল দারিত্বের ষড়যন্ত্রে পাক-ভারত উভয় পক্ষ চাই অমীমাংসিত কাশ্মীর তাঁর। এতে যা যা প্রয়োজন তা তা করবে দুই দেশ।

সমাঝোতার রাজনীতিতে নয়, তাঁরা চাই বারুদের প্রকম্পে যে এগিয়ে কাশ্মীর ভোগ তাঁর। যাঁর দরুণ প্রতিদিন সহস্র প্রাণের অপচয় ঘটছে গোটা কাশ্মীরে। পাক-ভারতের অমানবেতর যুদ্ধ মধ্যখানে পিষ্ট হচ্ছে মানবতা। এ যুদ্ধে কখনো পাকিস্তান জয়ী হচ্ছে আবার কখনো জয়ী হচ্ছে ভারত। কিন্তু মানবতার জয় হচ্ছে না। কাশ্মীরে লাঞ্চিত বিবেক, উপেক্ষিত মানবতা। লেখার ইতিকথায় জানা যাঁবে কাশ্মীর যুদ্ধের উদ্ভব-বিকাশ ও পরিধি। তাঁর আগে জানা যাঁক কাশ্মীর নিয়ে লোককথার কিছু তথ্য। প্রাকৃতিক নৈসর্গিত সৌন্দর্যের কারণে কাশ্মীরকে বলা হয় ভূ-স্বর্গ বা পৃথিবীর স্বর্গ। কাশ্মীরের রোমান্থিত ভালোলাগা ঘিরে রচিত হয়েছে অনেক কল্পকথার উপন্যাস। অনেক কবির ভাবনার অন্তর্জালে আটকেছিলো এই কাশ্মীর সৌন্দর্য। কাশ্মীরের নয়ানাভিরাম সুন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে মোগল বাদশাহ হুমায়ুন লিখেছেন ‘দুনিয়াতে যদি কোথাও স্বর্গ থাকে/তবে এইখানে এইখানে’। জনশ্রুতি আছে, কাশ্মীর মানে হলো শুষ্ক ভূমি। দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলহন এর লেখা কাশ্মীরের ইতিহাস রাজতরঙ্গিনী থেকে জানা যাঁয়, কাশ্মীর উপত্যকা পূর্বে একটি হ্রদ ছিলো। হিন্দু পুরাণ মতে সৃষ্টির দেবতা ব্রক্ষার পৌত্র মহাঋষি কশ্যপ বারমূলা (বরাহমূল) পাহাডের একাংশ কেটে হ্র্দের জল নিষ্কাশন করেন। কাশ্মীর সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর কশ্যপ ব্রাক্ষণদের সেখানে বসতি স্থাপন করার জন্য আমন্ত্রণ করেন। এই কাহিনী স্থানীয় ঐতিহ্যে আজও বিদ্যমান। কাশ্মীর শুষ্ক ভূমি হওয়ার ইতিহাস এই কাহিনী থেকে উদ্ভব বলে ধারণা করা হয়। এবং এই অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থাও অনেকটা তাই নির্দেশ করে। ঐতিহাসিক মতে এও বলা আছে সপ্তদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরকে কাশ্মীর নামকরণ করেন মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীর। ইতিহাস অধ্যায়নে জানা যায়,১৮১৯ খ্রীষ্টাব্দে শিখ মহারাজা রণজিৎ সিং কর্তৃক কাশ্মীর বিজয়ের পূর্বে এখানে রাজত্ব ছিলো পাশতুন উপজাতীয় দুরানী রাজবংশের। প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধের পর লাহোর চুক্তি অনুসারে কাশ্মীর ইষ্টইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে। যাঁর কিছুদিন পরেই অমৃতসর নামের একটি চুক্তির মাধ্যমে জম্মুর রাজা গুলাব সিং-কে বিক্রি করে দেয়, এর ফলে জুম্মুর রাজা গুলাব সিং জুম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা উপাধী লাভ করেন। সে সময় থেকে ব্রিটিশ কর্তৃক দেশভাগের আগ পর্যন্ত হিন্দু মহারাজাদের অধীনে কাশ্মীর শাসিত হয়। যদিও জম্মু ও লাদাখ অঞ্চল ব্যাতিত সমগ্র রাজ্যে মুসলমান জনসংখ্যার আধিক্য ছিলো বেশি। ১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক শাসকরা ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘদিবস শাসনের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধের মাধ্যমে বিতাড়িত হয়ে চলে যান, তখন তাঁরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের হাতে ভারতকে প্রধানতঃ দুটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্পণ করে যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু অধ্যুষিত জনগণ নিয়ে যার একটি ভারত, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত জনগণ নিয়ে অপরটি পাকিস্তান। যা ৪৭’এর দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলে খ্যাত। আবার সাতচল্লিশ উত্তর পাকিস্তান স্বাধীন স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্র হলেও সেখানে ছিলো দুভাগে বিভক্ত। ধর্ম বাদে ভাষা সংস্কৃতি, নৃ-তাত্ত্বিক বৈচিত্র্যতার কারণে একটি ছিলো পূর্ব পাকিস্তান অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান। যদিও দ্বি-খণ্ড, কিন্তু একই সরকার, একই রাষ্ট্রে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান ছিলো সমভুক্ত।তৎপরবর্তী পশ্চিম পাকিস্তানের নিষ্পেষিত যাঁতাকল থেকে মুক্তিলাভে ১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে বিশ্বে মানচিত্রে নব রাষ্ট্রে আবির্ভূত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পেছনে ভারতের ছিলো অন্তিম সহযোগিতা। সে ইতিহাস নয়, আমাদের জানার প্রয়াস কাশ্মীর সমস্যা। সহস্র যুগ ধরে জম্মু-কাশ্মীর ছিলো স্বাধীন স্বতন্ত্র দেশীয় রাজ্য। দেশভাগের সময় ত্রি-পক্ষীয়ভাবে (ভারত, পাকিস্তান, ব্রিটিশ) সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, রাজা দ্বারা শাসিত দেশীয় রাজ্যমসূহ এবং যেসব রাজ্য ভৌগলিক ও প্রশাসনিকভাবে ব্রিটিশ শাসিত ভারতভুক্ত ছিলো না, সে রাজ্যগুলো তাঁদের স্বাধীন ইচ্ছে মতো ভারতে ও পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে। অথবা স্বাধীন স্বতন্ত্র থাকবে পারবে। এ সিদ্ধান্তে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভাগ্য ও রাষ্ট্রীয় চরিত্র নির্ধারণের পূর্ণ এখতিয়ার তাঁদের জনগণের উপর ন্যস্ত থাকে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় এবং ভৌগলিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও নৃ-তাত্ত্বিক বিচারে কাশ্মীর উপত্যকা পাকিস্তানের পক্ষে থাকার কথা। তবে এখানে কিন্তু থেকে যাঁয়। জম্মু ও কাশ্মীর যেহেতু ব্রিটিশ শাসকদের নিযুক্ত একজন বহিরাগত ডোগরা রাজা হরিকেষণ সিং বহাল ছিলেন। সেহেতু কারণে কাশ্মীর যেমন পাকিস্তানভুক্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পক্ষে যাঁয়নি তেমনি ভারতের পক্ষেও যাঁয়নি। পাক-ভারতের স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারণের প্রশ্নটি মুখ্য হয়ে ওঠে। মূলত সেই সময় থেকে কাশ্মীর সমস্যার উদ্ভব ঘটে। যা এখনো ফের কাশ্মীর জুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে যাঁচ্ছে। পাকিস্তানের উপজাতীয় পাঠান মুজাহিদরা কাশ্মীর দখল করে নিচ্ছে। এই অজুহাতে আতঙ্কিত মহারাজা হরি সিং-কে ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য করা হলে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে তাঁদের সেনাবাহিনী পাঠিয়ে রাজ্যটি নিজেদের আয়ত্বে আনে। ভারতের আবেদনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানি মুজাহিদদের কাশ্মীর অগ্রাভিযান মাঝপথে থমকে যাঁয়। মোট উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশ আজাদ কাশ্মীর হিসেবে ভারতের দখলমুক্ত হয়। বাকি দুই তৃতীয়াংশ জুম্মু ও কাশ্মীর ভারত তাঁদের সামরিক শক্তি দিয়ে আজ অবধি দখল করে রেখেছে। জাতিসংঘের দলিলে কাশ্মীর আজও একটি বিরোধপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যু। জাতিসংঘের তদারকীতে কাশ্মীরে একটি গণভোট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পাক-ভারত যুদ্ধবিরতি বলবৎ হয়। জাতিসংঘের এই গণতান্ত্রিক মধ্যস্থতাকে ভারতই প্রথম স্বাগত জানায়। কিন্তু শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নতি না হওয়া এবং অনুকূল অবস্থা তৈরি না হবার অজুহাতে ভারত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মীরে গণভোট অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের আয়োজন করেনি। এরই মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে পাক-ভারত একাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। পাক-ভারতের এহেন আগ্রাসী মনোভাব কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মনে করে তাঁদের জন্য পাকিস্তান কিংবা ভারত কোনো দেশই নিরাপদ নয়। তাই তাঁরা চাই স্বাধীনতা। কাশ্মীরের স্বাধীনতাপন্থিরা স্বাধীনতার লক্ষ্যে পথ বেছে নিয়েছে বিদ্রোহকে। যাঁর বেশিরভাগ জনগণই তরুণ। কাশ্মীরী স্বাধীনতাপন্থিদের আবার ভারত গাল ভরা তকমা দিয়েছে আত্মঘাতী জঙ্গি সংন্ত্রাস হিসেবে। কাশ্মীরের স্বাধীকার আন্দোলনের আইকন হয়ে উঠেছিলেন বুরহান ওয়ানি নামের এক তরুণ। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তাঁর মৃত্যু ঘটলে কাশ্মীর ইস্যু আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এর আগেও ২০১০ সালে দীর্ঘ ৪ মাসের আন্দোলনে এ অঞ্চলে প্রাণ হারায় ১১০ জন তরুণ ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে। কাশ্মীর সমস্যা ও পাক-ভারত যুদ্ধ এখন নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমপ্রতিক্রিয়া ও সমইস্যু। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কেউ কেউ তাঁদের নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে কাশ্মীর দাঙ্গার ফল বিরূপ প্রভাব সঞ্চার করবে বলে সরব। আবার কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থন্বেষী চরিত্র বহিঃপ্রকাশে সরব। যুক্তরাষ্ট্র-ভিযেতনাম-চীন-রাশিয়া বিভিন্ন কারণ নিয়ে কেউ পাকিস্তান সমর্থন, কেউ ভারত সমর্থনেপুষ্ট। নিজেদের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাক-ভারত মদদপুষ্টতায় ব্যস্ত। কোনো দেশ অস্ত্রব্যবসা ভালো জমাতে পাক-ভারত যুদ্ধ উসকে দিচ্ছে, আবার কোনো দেশ রাজনৈতিক পায়দা লুটতে। অথচ কাশ্মীরে যে প্রতিদিন বন্দুকের শব্দে ভোর হচ্ছে, মরানাস্ত্রে মানবতা ঝাঝরা হচ্ছে তা নিয়ে এ সমস্ত দেশের ঢুঁ শব্দ নেই। বর্তমান কাশ্মীর বাস্তবতায় প্রতিয়মান হয়, পাক-ভারত দুই দেশই গুরুত্ব দিয়েছে জনগণের চেয়ে জমিনকে। ফলে যে কোনো উপায়ে দখলই ছিলো তাঁদের মূল আগ্রহ। বিতর্কিত কাশ্মীর পাক-ভারত যাঁর দখলে যাক তা কোনোভাবেই কাশ্মিরীদের ভাগ্য সহায়ক নয়। এটি ঐতিহাসিক সত্য। একমাত্র স্বাধীনতার পথই কাশ্মীরের চূড়ান্ত মীমাংসা। অন্তত মানবিক দায়বদ্ধতার খাতিরে পাক-ভারতের উচিৎ ভূমি দখলের উম্মুখতা পরিহার করে কাশ্মীর সিদ্ধান্তে সমঝোতায় আসা। যে সমঝোতায় অগ্রাধিকার পাবে মানবতা। জয় হবে মানুষের।

(ভূল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মার্জনা করবেন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *