পাকিদর্শণ

ব্রিটেনে থাকলে আপনার পাকিস্তানীদের সাথে কথোপকথন হবেই, ট্যাক্সি, মাংসের দোকান, মুদির দোকান ইত্যাদি জায়গায়। বন্ধুত্ব করবেন কিনা এটা আপনার ব্যাপার। সেটা আরেক প্রসংগ। তো আমার পাড়ার মুদির দোকানদার পাকিস্তানী আর সে জানে আমি বাংলাদেশী। খুব ভালো একটা ছেলে। পাকিস্তানের অনেক কিছুই তাকে বিব্রত করে, কিন্তু নিজের দেশ বলে কথা, স্বয়ংক্রিয় আত্মপক্ষ সমর্থন এসেই যাবে, যায়ও।

তো সে আজকে আমাকে বলল যে আমরা গাদ্দারি করলাম ওদের সাথে। কিভাবে জিজ্ঞেস করাতে বলল আমরা ইন্ডিয়াকে সাপোর্ট দিচ্ছি। সার্কের কথা উল্লেখ করল, বললাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অযাচিত নাক গলানোর কথা নিয়ে। বুঝালাম পাকিস্তানের অখন্ডতা সমর্থন আর যুদ্ধাপরাধ এক না।উত্তরে বলল আমরা ১৯৭১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কারাবন্দী রেখে কোন এক ৯২ বছরের বুজুর্গকে মেরে ফেলেছি। বললাম কিছু ইতিহাস, কিন্তু তার মাথায় গেঁথে যাওয়া সত্য অন্যরকম, আমাদের ছাগুদের মত। কিন্তু তাকে ছাগু বলবনা, সে পাকিস্তানী, তার দেশপ্রেম তাকে যা বলায় করায় সে তাই বলে। বাংলার আলো বাতাসে বড় হওয়া ছাগু সে না। খারাপ দেশমাতার সন্তান হয়েও মাকে সে ভালবাসে।

আরেকটা ঘটনা, গেলাম নাপিতের দোকানে, সেও পাকিস্তানী, মাথায় শয়তানী ঘুরতেছিল, জিজ্ঞেস করলাম যা হচ্ছে তা কোন দিকে গড়াবে ইত্যাদি, কথা পাড়লাম আরকি, সে সতর্কভাবে বলল না ভাল হচ্ছেনা, এই অঞ্চল তথা বিশ্বের জন্য খারাপ ইত্যাদি। আমারে জিজ্ঞেস করলো আমি ইন্ডিয়ান কিনা, বললাম বাংলাদেশী। তো আর যাই কোথায়, বাংলাদেশী মানে তো হাফ পাকিস্তানী, তো বিশাল হাসি দিয়ে বলল এটম বোম মেরে ইন্ডিয়াকে উড়িয়ে দিতে তাদের দুই মিনিট লাগবে। মনে মনে অনেক কিছু বললাম, মুখে বললাম ‘হু’। শত হলেও ক্ষুর তো তার হাতে। আমারে ইন্ডিয়া মনে করে আবার কেঁটেকুঁটে না দেয়।

২ thoughts on “পাকিদর্শণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *