নারীর ক্ষমতায়ন-ই অর্থনৈতিক উন্নয়ন

বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। সমন্বিত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি। সমন্বিত উন্নয়ন তত্ত্বের মূল দর্শন হচ্ছে- পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো নারী উন্নয়ন। বাংলাদেশের জনগণের অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হলেও বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিসহ অনেক ক্ষেত্রেই এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। নারীর অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন অনেক ধনী দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের একটি। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ সুরক্ষায় আওতায় আনা হয়েছে। তাদের শিক্ষা, সেবা-শুশ্রূষা, চাকুরি, সামজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে তারাও স্বাভাবিক শিশুদের মতো বেড়ে উঠতে পারে। ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী শিশুদের উন্নয়নেও সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়েছে। সেখান থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। নারী ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। নারী ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য এখন আর পাঁচ কিলোমিটার দূরে যেতে হয় না। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই পাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা উপবৃত্তি পাচ্ছে। মেয়েরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়তে পারছে। ডিগ্রিতে পড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যন্ত ছেলের তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। এভাবেই নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *