দর্শনের সহজ পাঠ – ৪: পিরো – আমরা কিছুই জানিনা ( শেষ পর্ব)


দর্শনের সহজ পাঠ – ৪:
পিরো – আমরা কিছুই জানিনা ( শেষ পর্ব)

তারুণ্যে পিরো ভারত ভ্রমণ করেছিলেন, হয়তো এই অভিজ্ঞতাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল অপ্রচলিত একটি জীবনাচরণ বেছে নেবার জন্য। ভারতের অ্যাধাত্মিক শিক্ষক আর গুরুদের ঐতিহ্যবাহী একটি ধারা আছে, যারা নিজেদের চরমতম এবং প্রায় অবিশ্বাস্য শারীরিক প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে নিয়ে যান, যেমন, জীবন্ত কবর, শরীরের সংবেদনশীল অংশ থেকে ভারী কিছু ঝোলানো বা কোনো রকম খাদ্যগ্রহন ছাড়া বহু সপ্তাহ বেঁচে থাকা ইত্যাদি, শুধুমাত্র তাদের মনের ভিতরের স্থিরতা অর্জন করার জন্য। দর্শনের প্রতি পিরো’র দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই কোনো মিস্টিক বা অতীন্দ্রিয়বাদীর মত, তবে যে কৌশলই তিনি ব্যবহার করুন না কেন সেটি অর্জন করার জন্য, তিনি যা প্রচার করতেন, অবশ্যই তিনি সেই অনুযায়ী আচরণও করতেন। তার স্থির মানসিক অবস্থা তার চারপাশের সবার উপর একটি গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কোনো কিছু নিয়ে যে তিনি বেশী ব্যতিব্যস্ত হতেন না, কারন ,তার মতামত অনুযায়ী, চুড়ান্তভাবে সব কিছুই নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গি বা মতামতের উপর। যদি কোনো সুযোগই না থাকে সত্যটাকে উদঘাটন করার জন্য, অযথা অস্থির হবার কোনো কারণ নেই। তাহলে আমরা নিজেদের সব ধরণের দৃঢ় বিশ্বাস থেকে দুরে রাখতে পারবো; কারণ দৃঢ় স্থির বিশ্বাসগুলোর সাথে সবসময়ই সংশ্লিষ্ট থাকে বিভ্রান্তি বা ডিল্যুশন।

আপনার সাথে যদি পিরো’র দেখা হতো, সম্ভবত আপনি ভাবতেন, তিনি উন্মাদ এক ব্যক্তি। এবং হয়তো কোনো একভাবে তিনি অবশ্যই তা ছিলেন। কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি আর তার আচরণ ছিলো সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি ভাবতেন যে, নানা ধরণের স্থির বিশ্বাস শুধুমাত্র অযৌক্তিক এবং যা আপনার মনের শান্তির জন্য প্রতিবন্ধকতা স্বরুপ। যদি সবকিছু এমনই তো হবার কথা, এই হিসাবে আপনি তা গ্রহন করে নেন, সেটি হবে বালির উপর বাড়ি বানানোর মত। আপনার চিন্তার ভিত্তিগুলো আপনি যেমনটা ভাবতে ভালোবাসছেন যে, খুব মজবুত, সেটি আদৌ তেমন নয়, এবং সেগুলোর আপনাকে সুখী করার সম্ভাবনাও খুব ক্ষীণ।

পিরো খুব চমৎকারভাবে তার এই দর্শনকে সারসংক্ষেপ করেছিলেন তিনটি প্রশ্নের আকারে, সুখী হতে চান এমন কারো এই প্রশ্নগুলি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা উচিৎ:

সত্যিকারভাবে আসলে সব কিছু কেমন?
কি ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের গ্রহন করা উচিৎ সেগুলোর প্রতি?
যে কিনা সেই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহন করেছেন, কি হতে পারে তার সাথে?

পিরোর উত্তরগুলো ছিল খুব সরল এবং সুস্পষ্ট। প্রথমত, আমাদের পক্ষে কখনোই জানা সম্ভব না পৃথিবীটা আসলেই সত্যি কেমন – এটি আমাদের ক্ষমতার বাইরে। বাস্তবতার আসল প্রকৃতিটি কি কেউ কোনদিনও জানতে পারবে না। এই ধরনের জ্ঞান, মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব না, সুতরাং বিষয়টি ভুলে যান পুরোপুরিভাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি পুরোপুরিভাবে সাংঘর্ষিক প্লেটো থিওরী অব ফর্ম ও বিশ্বাসের সাথে যে, দার্শনিকরা বিমূর্ত ভাবনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, এর পরিণতিতে, আমাদের উচিৎ হবে না কোনো একটি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ‘প্রতিশ্রুত’ হওয়া। কারণ আমরা কোনো কিছুই নিশ্চিৎভাবে জানতে পারিনা, সে কারণে কোনো বিষয় সংক্রান্ত বিচার করার প্রক্রিয়া ‘স্থগিত’ করে, কোনো কিছুর প্রতি প্রতিশ্রুত বিশ্বাস না নিয়েই আমাদের জীবন কাটানো উচিৎ। প্রতিটি বাসনা যা আপনি অনুভব করেন তা প্রস্তাব করে কোনো একটি কিছু অন্য সব কিছু অপেক্ষা উত্তম। আর অসুখী হবার মত পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যখন আপনি যা চান, তা পান না। কিন্তু আপনার পক্ষে জানা সম্ভব নয় কোনো একটি কিছু অন্য কোনো কিছুৃ থেকে ভালো কিনা। সুতরাং, তিনি মনে করতেন, সুখী হতে হলে আপনার উচিৎ হবে সব ধরণের বাসনা থেকে নিজেকে মুক্ত করা এবং এর ফলাফল কি হবে সে বিষয়ে আদৌ কোনো চিন্তা না করা। এটাই হচ্ছে সঠিকভাবে বাঁচার উপায়। কোন কিছুইতে কিছু যায় আসে না, এই বিষয়টাকেই শনাক্ত করা। এভাবে, কোনো কিছুই আপনার মনের পরিস্থিতির উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেনা, মনের ভেতর সেই প্রশান্তি আপনি অনুভব করতে পারবেন। তৃতীয়ত, যদি আপনি এই শিক্ষা অনুসরণ করেন, এটাই আপনার সাথে ঘটবে- আপনি শুরু করবেন নির্বাক হয়ে, এর কারণ সম্ভবত আপনার জানা থাকবেনা কোনো বিষয়ে কি বলতে হবে। অবশেষে, আপনিও সব চিন্তা থেকে মুক্ত হবেন। পিরোর মতে জীবনে আপনি কিংবা যে কেউ এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারে না, এটি প্রায় ধর্মীয় অভিজ্ঞতার মত।

এটা হলো তত্ত্বটি। পিরো’র জন্য আপাতদৃষ্টিতে এটি কাজ করেছিল, বাকী মানবজাতির বেশীর ভাগ অংশের জন্য এটি একই পরিণতির কারণ হবে, এমন প্রত্যাশা করা যে কারো জন্যই খুব কঠিন কাজ হবে। আমাদের মধ্যে খুব অল্প কয়েকজনই পারবেন তার প্রস্তাবিত সেই ধরণের নির্লিপ্ততা অর্জন করতে। এবং সবার সেই ভাগ্যও হবে না, তার মত অত্যন্ত খারাপ কোন ভুল থেকে বাঁচানোর জন্য তার নিবেদিত বন্ধুদের একটি দল থাকবে। বাস্তবিকভাবে, যদি সবাই তার পরামর্শ অনুসরণ করতেন, তাহলে কেউই অবশিষ্ট থাকতেন না, পিরো’র সংশয়বাদীদের তাদের নিজেদের থেকেই রক্ষা করার জন্য এবং এই পুরো দর্শনের ভাবনাটাই দ্রুত হারিয়ে যেত, যেমন তারা একে পর এক খাদের কিনারা থেকে নিচে ঝাপিয়ে পড়তেন, বা চলন্ত কোন যানবাহনের সামনে দাড়িয়ে যেতেন অথবা হিংস্র কুকুরের আক্রমনের শিকার হতেন।

পিরোর এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল দূর্বলতা হচ্ছে তিনি ‘আপনি কোন কিছু সম্বন্ধেই জানতে পারবেন না’ এই ভাবনা থেকে সরাসরি উপসংহারে উপনীত হয়েছিলেন, ‘সে কারণে আপনার উচিৎ হবে কোন কিছু বিপদজ্জনক কিনা সেই বিষয়ে আপনার সহজাত প্রবৃত্তি আর অনুভূতিকে অবজ্ঞা করা।’ কিন্তু আমাদের এই সহজাত প্রবৃত্তি আমাদের রক্ষা করে নানা ধরনের সম্ভাব্য বিপদ থেকে। তারা হয়তো সবসময় বিশ্বাসযোগ্য হয় না ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই না যে আমাদের উচিৎ হবে সেগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা। এছাড়া এমন কি পিরো’রও সরে আসার কথা যখন কোন কুকুর তাকে আক্রমন করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ে: তার পক্ষে পুরোপুরিভাবে তার শরীরের স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া এড়ানো সম্ভব না, তিনি যতই চেষ্টা করুন না কেন। সুতরাং পিরো’র মত সংশয়বাদী হয়ে বাঁচতে চেষ্টা করা হতে পারে বিভ্রান্তি কর একটি পথ। এমনকি এটিও স্পষ্ট নয় এভাবে জীবন কাটালেই কেউ, পিরো যেমন বলেছিলেন সেরকম মানসিক প্রশান্তির সন্ধান পাবেন। সুতরাং পিরোর সংশয়বাদিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা সম্ভব। আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে চাইতে পারেন, প্রশান্তি কি আসলেই অর্জন করা সম্ভব কিনা সেই সব ঝুকি নেবার মাধ্যমে যা পিরো নিয়েছিলেন। পিরোর জন্য হয়তো বিষয়টি কাজ করেছে, তাহলে কি প্রমাণ আছে এটি আপনার জন্য কাজ করতে পারে? আপনি হয়তো শতকরা একশ ভাগ নিশ্চিৎ হতে পারবেন না যে, একটি হিংস্র কুকুর আপনাকে কামড়াবে কিনা, কিন্তু যথেষ্ট বুদ্ধিমানের কাজ হবে সেই সতর্কতা গ্রহন করা, যখন আপনি কিনা শতকরা নিরানব্বই ভাগ নিশ্চিৎ।

যদি আমি আমার চারপাশের পৃথিবী সম্বন্ধে কোনো দৃঢ় বিশ্বাস ধারণ না করি, তাহলে কি আমরা প্রতিটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো না অজ্ঞতা আর সংশয় নিয়ে? আমরা যদি সহানুভূতির সাথে পিরোর দৃষ্টিভঙ্গিটা দেখি, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার অবিচল থাকার কাহিনীগুলো পর্যালোচনা করি, যেমন কঠিন অস্ত্রোপচারের যন্ত্রণা নির্বিকারভাবে সহ্য করা, ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে তিনি যন্ত্রণাকে কোনো খারাপ জিনিস হিসাবে বিবেচনা করতেন না। যে কোনো তুচ্ছ কাজ করার ব্যপারে তার আগ্রহ ( যেমন আস্তাবলের কোনো পরিষ্কারের কাজ) বিশেষ কিছু কাজ মূল্যহীন হতে পারে এমন কোনো বিশ্বাসের অনুপস্থিতিরই প্রতিফলন। পিরো আমাদের বলছেন যে কোনো মতামত বিশ্বাসকে এড়িয়ে চলতে, যে শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি হচ্ছে doxa ( এই একই শব্দ প্লেটো আর অ্যারিস্টোটলও ব্যবহার করেছেন); তবে অবশ্যই প্লেটো আর অ্যারিস্টোটল সবধরনের অজ্ঞতাকে পরিহার করতে বলেছেন, সত্যিকারের বিশ্বাসের সাথে সন্তুষ্ট হতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না আমরা জ্ঞান আর বোঝাপড়াটা অর্জন করতে না পারি। কিন্তু পিরোর মত সেটি অসম্ভব।

প্রথমে মনে হয় পিরো যে সাহসী দার্শনিক থিসিসটা প্রস্তাব করছেন যে সেটি হচ্ছে সব জিনিসের প্রকৃতি নির্নয় করা সম্ভব না। পিরো আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবী করেছেন যে, কোনো জিনিসের প্রকৃতি সম্বন্ধে যানা সম্ভব না। আর সেকারণে কোনো ধরনের বিশ্বাস ধারণ করার আগে আমাদের ভাবতে হবে। কিন্তু তার আত্মবিশ্বাসটাও তো একটি বিশ্বাস।, পরের সংশয়বাদীরা খানিকটা সতর্ক হয়ে নিশ্চিৎ করে তারা শুধু কোনো কিছু সম্বন্ধে তাদের বিচার স্থগিত করেন কোনো কিছুর ব্যপারে জানা সম্ভব কিনা সেই প্রশ্নে। সংশয়বাদীদের সমস্যা ঘণীভূত হয়ে যখন আমরা বুঝতে পারি যে আসে পিরো যা বলছে সেটি হলো তিনি কোনো বিশ্বাস ধারণ না করে খাকতে পারবেন এবং এই বিশ্বাস ধারণ না করাই তাকে স্বাধীনতা আর উদ্বেগহীন জীবন দেবে, ও তিনি সুখী জীবন আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন। কিন্তু স্পষ্টতই তার জীবন দেখলে মনে হয় সেটি সুখের কিছু ছিল না, আর এমন জীবন কি আদৌ সম্ভব। একটা উদহারণ দেখুন, আমার চারপাশের পরিবেশে কোনটি খাওয়া যাবে বা যাবে না সেই ব্যপারে আমি আমার বিচার স্থগিত রেখে কি আমি না খেয়ে মারা যাবো? এই ধরনের চিন্তা পিরো জীবন কাহিনীর যে বর্ণনা আমরা পাই তাকেও সংক্রমিত করেছে। আমার শুনেছি কিভাবে তার ছাত্ররা তার পিছন পিছন ঘুরতো যাতে তিনি কোনো বিপদে না পড়েন, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা এই গল্প থেকে পাই, সেটি হচ্ছে যে বিশ্বাস ছাড়া জীবন মনে হবে পুরোপুরিভাবে অসম্ভব, অন্তত মানুষের জন্য। হয়তো পিরোও একমত ছিলেন। একটি গল্প বলছে তিনি একবার কুকুরকে দেখে ভয় পেয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, যা তার সেই বিশ্বাসকে উন্মোচন করেছিল কুকুর বিপজ্জনক। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে তিনি বলেন, মানবতার জন্য কারো পক্ষে নিজেকে উৎসর্গ করা বেশ কঠিন। তবে প্রমাণ বলছে পিরো আসলে আমাদের জন্য তেমন কোনো প্রমাণ রেখে যাননি তিনি সমস্যাটি সমাধান করতে পেরেছিলেন বা চেষ্টা করেছিলেন।

সৌভাগ্যজনকভাবে সংশয়বাদীদের নতুন ধারা আবির্ভাব ঘটেছিল, তারা দুটি সমস্যা নিয়ে কাজ করেছিলেন – সংশয়বাদীতা একধরনের প্রতিশ্রুতি ও কেউ বিশ্বাস ছাড়া বাচতে পারেনা। এই নতুন ধারাটি সূচনা প্লেটোর অ্যাকাডেমী থেকে। অবশ্যই প্লেটো ও পরবর্তী উত্তরসূরীরা তাদের কবরে নড়ে উঠেছেন তার অ্যকাডেমী এখন সংশয়বাদীরা পরিচালনা করতে। তবে তারা পিরোর দিকে তাকাননি, তারা তাকিয়েছিলেন সক্রেটিসের দিকে, যিনি দাবী করেছেন তিনি শুধু জানেন যে তিনি কিছু জানেন না। নতুন অ্যাকাডেমীর এই সংশয়বাদীরা এমনকি ভেবেছেন, তারা কি সেটুকু জানেন কিনা।

দর্শনের ইতিহাসে সব সংশয়বাদীরা পিরো’র মত এমন চরম পন্থার ছিলেন না। মধ্যপন্থী সংশয়বাদিতার একটি চমৎকার ঐতিহ্য আছে, যেমন সব ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আমরা যা বিশ্বাস করি তার স্বপক্ষে প্রমাণগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করা এবং সবকিছুই সবসময় সন্দেহ করে বাচার প্রচেষ্টা ছাড়াই এই সংশয়বাদ তার কাজ করতে পেরেছে। এই ধরনের সংশয়বাদীর প্রশ্নগুলোই দর্শনের প্রাণ। সব মহান দার্শনিকই এই অর্থে সংশয়বাদী ছিলেন। এটি ডগম্যাটিজম বা প্রশ্নাতীতভাবে কোনো কিছু মেনে নেয়ার মতবাদ বিরোধী। যারা কিনা এই ধরণের যুক্তিহীন বিশ্বাস ধারণ করেন তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী হন যে একমাত্র তারাই সত্যিটা জানেন। দার্শনিকরা এই সব মতবাদগুলোকেই চ্যালেঞ্জ করেন। তারা জিজ্ঞাসা করেন কেন মানুষ বিশ্বাস করে তারা যা বিশ্বাস করে, কি ধরনের প্রমাণ আছে তাদের সেই মতামত আর উপসংহারগুলোর সমর্থনে। এটাই সক্রেটিস এবং অ্যারিস্টোটল করেছিলেন এবং বর্তমান সময়ের দার্শনিকরাও সেটি করে থাকেন। কিন্তু তারা এই কাজটি করেন না শুধুমাত্র বিতর্ক করার খাতিরে। মাঝারি মাত্রার দার্শনিক সংশয়বাদিতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্যের কাছাকাছি পৌছানো অথবা নিদেনপক্ষে উন্মোচন করা, কতটা কম আমরা জানি বা জানা সম্ভব হতে পারে। এই ধরনের সংশয়বাদী হবার জন্য আমাদের কারোরই পাহাড়ের খাদের কিনার থেকে পড়ে যাবার ঝুকি নেবার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনার প্রয়োজন আছে বিব্রতকর প্রশ্ন করার জন্য তৈরী থাকা এবং মানুষ আপনাকে যে উত্তরগুলো দেবে সেগুলো খুব সমালোচনামূলক নীরিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভাবা।

( পিরো ও প্রাচীন সংশয়বাদ নিয়ে পর্বটি সমাপ্ত)

(চলবে)

ব্যবহৃত ছবি:

ষোড়শ শতাব্দীর শিল্পী Petrarca-Meister এর আঁকা ছবি, Pyrrho in a Stormy Sea; পিরো (নীল কাপড়) মূল মাস্তুলের সাথে হেলান দিয়ে দাড়ানো, উদ্বেগহীন, যখন অন্যরা ভয়ে সন্ত্রস্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *