প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা

শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, উন্নয়নের জন্য, সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘শিক্ষা’। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় শিক্ষার ভিত মজবুত করা সম্ভব হবে না। এক সময় ধারণা ছিল ‘শিশুরা শুধু খায়, ঘুমায় আর খরচ করে’। টোল, মক্তব, মাদ্রাসা, পাঠশালার শিক্ষা, ব্রিটিশ ভারতের-পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা, যা ছিল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক টানাপড়েনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান সরকার আর একধাপ এগিয়ে ২৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু গঠন করেন শিক্ষা কমিশন, নির্মাণ করেন অবকাঠামো, যোগান দেন আসবাবপত্র, শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করেন। ধীরে ধীরে শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন যার সুফল ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশু ভর্তি, আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, ১ জানুয়ারি বই বিতরণ, পরিকল্পনা অনুযায়ী উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, একীভূত শিক্ষা চালু, ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণের হার বৃদ্ধি, শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান, বৃত্তির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে পাঠদান, মিড-ডে-মিল চালুকরণ, ডিজিটাল এটেনডেন্স, ওয়াশব্লুক তৈরি, বহুতল ভবন নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি শক্ত অবস্থানে এনেছে বর্তমান সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *