কাশিমের কান্না অন্যদের জন্য কী শিক্ষা হতে পারে?

মীর কাশেম কাঁদছে!
হ্যা, খবরে সেটাই এসেছে। মীর কাশেম জেনে গেছে- আজ রাতটাই এই পৃথিবীতে তার শেষ রাত। বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে দেখা করবে; এটাই হবে তার সাথে সন্তান-সন্তুতি স্ত্রী পরিজনের সাথে শেষ দেখা। দেখা করার পর তিন ঘন্টা- চার ঘন্টা- পাঁচ ঘন্টা কিংবা তারও কিছুটা বেশি সময় সে পৃথিবীর বাতাস বুকে নিবে।

তারপর ….
তারপর আর পারবে না নিঃশ্বাস নিতে।
তারপর আর দেখতে পাবে না স্বজনদের।
তারপর আর কথা হবে না নিজ বলয়ের বন্ধুদের সাথে।
তারপর আর ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ থাকবে না; থাকবে না কোলাহল মূখর পৃথিবীতে তার প্রিয় প্রাণটা!
নিজের প্রাণটা আর মাত্র কয়েক ঘন্টা আছে; বেঁচে আছে মাত্র কয়েক ঘন্টা! এই যে কিছু সময় পরই মৃত্যুর স্বাদ তাকে নিতে হবে – এই যে ভীতি- এই যে শংকা! এই যে মৃত্যুর আগে আর এক মৃত্যু- এর যে বেদনা- সেকি মৃত্যুর চেয়ে কোনো কিছুতে কম!
মীর কাশেম ফাঁসির আগে; যতক্ষণ বেঁচে আছে- প্রতি পলে মৃত্যুস্বাদ নিচ্ছে। কাঁদছে। ভাবছে ‘কেনো আমার আজ এই বন্দি দশা; কেন আমার এই অস্বাভাবিক মৃত্যু?
আমার কি নেই। অর্থ-বিত্ত-বৈভব-ধণ-জন কি আমার কম ছিলো? কেন তবু সব অর্থ- সব বিত্ত সব সহায় সম্পত্তির বিনিময়েও আমার মৃত্যু রদ করা গেলো না! কেন গেলোনা? তবে কি স্বজনেরা চেষ্টায় খামতি রেখেছে কোথাও?’
না মীর কাশেম, তোমার স্বজনেরা চেষ্টায় ফাঁক রাখেনি। তারা সেরা আইনজীবি নিযোগ করেছে, তারা সেরা ক্ষমতাধরকে কিনেছে – কাজে লাগিয়েছে। এসব – আরো যা যা সম্ভব- সব কিছু তোমার জন্য- তোমার কৃতকর্মের দায়ে প্রাপ্ত ফাঁসির দন্ড ঠেকাতে তারা করেছে, এই শান্তনাটুকু তুমি অন্তত খুঁজতে পারো।
তোমার কি মনে পরে তোমার আজ যেমন বেঁচে থাকার জন্য আকুতি; মনে হচ্ছে- ‘নিয়ে যাক ওরা আমার হাজার কোটি টাকার সম্পদ- তবু আমি বাঁচতে চাই- চাই আরো কিছুদিন পৃথিবীর আলো-বাতাসে অবাধ বিচরণ করতে’ – ঠিক তেমনি তোমার কাছে অসংখ্য মিনতি এসেছিলো; প্রাণ বাঁচানোর জন্য। তুমি চরম নির্দয়ভাবে তাচ্ছিল্যের সাথে সেই আবেদন অবজ্ঞা করে কতজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলে?
মনে পরে, মীর কাশেম?
সেই দিনের সেই উপলব্ধিটা আজ তুমি বোঝো। বোঝো সেটা কতটা নির্মম-হৃদয়বিদারক আর অসহায় ছিল।
আজকের দিনে তোমার অসহায়তা যদি তুমি সেদিন উপলব্ধি করতে পারতে- তাহলে তুমি অতটা নির্মম-পৈশাচিক হতে পারতে না। আজকের দিনটাও তোমার কোনোদিন হয়তো আসত না।
এবার বুঝলে তো- মীর কাশেম? বুঝলে তো- আজ যা হতে যাচ্ছে, যা যা হচ্ছে, সব তোমার সেদিনের পাপের ফল!
শুধু তুমি নও; তোমার সেদিনের সকল অনুসারী-সহযোগীও আশাকরি বুঝতে পারছে।
শেষে আর একটি কথা, স্বর্গ-নরক, জান্নাত-জাহান্নাম, বেহেস্ত-দোজখ যাই বলো না কেন- বিশ্বাস করো না কেন, মনে রেখো, প্রতিটা জীবনের সকল পাপ-পুণ্যের বিচার সবাইকে এই দুনিয়াতেই পেতে হয়- পেতে হবে। এর অন্যথা কিছু হবার নয়।
সুতরাং যত চেষ্টাই করো না কেন- তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত তুমিই করো।

২ thoughts on “কাশিমের কান্না অন্যদের জন্য কী শিক্ষা হতে পারে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *