কোথায় গেল সে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

এখন বাংলাদেশে ‘দুর্বৃত্তদের’ হাতে মন্দির ভাঙ্গা ডালভাত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দুদের জমি দখল করা হলো এখন ‘সহিহ ইমানদারের’ দায়িত্ব।হিন্দু মেয়েদের তুলে নিয়ে ধর্ষন করা হলো সোয়াবের কাজ।অথবা যত পার মুসলিম করো। প্রতিবাদ করলে ‘ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে’ বলে ৫৭ ধারার মামলা করে উল্টো ভুক্তভোগীদেরই জেলে পাঠানো ফ্যাশনেবল।মনে প্রানে তাদের মনে করিয়ে দি আরে এটাতো তোদের দেশ না।তারা এ দেশে জন্ম নিয়েছে গনিমতের মাল হিসেবে।নির্বাচনে জিতেছো তো সংখ্যালঘু ধর্ষন কর,নির্বাচনে হেরেছো তাও ধর্ষন কর,চাঁদে ফোন সঙ্গমী হুজুর কে দেখা গেছে তাদের বাড়িতে আগুন দাও,কিমবা পাশের দেশের গুজব রটেছে তবুও আগুন দাও।আমাদের কাছে তারা গ্রিনিপিগ,ইচ্ছামত ধর্ষন করো,আগুন দাও.দখল করো ও মজা নাও।
এর মাঝে কেটে গেল ৪৫ বছর,আরে হঠাৎ মনে পড়ে আরে বাংলাদেশ কই?কই আমার সোনার বাংলা।এতো সেই পূর্ব পাকিস্থান।যখন রেডিও পাকিস্থানে গুজব রটিয়ে নোয়াখালি,বরিশাল ও চিটাগাং এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো হত।তখনও হত এখনও হয়।মাঝখানে ৪৫ ট!সেই দেশে আজ সাম্প্রদায়িক রাক্ষসের আস্ফালন।কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু সময়ে আমার বাংলাদেশকে আমি ঠিক আগের মতই দেখতে চাই। যেই বাংলাদেশে ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন’ পরিস্থির সম্মুখীন একেবারেই দুর্ভাগা না হলে হতে হতো না। যেই বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই ধর্ম ছিল যার যার, কিন্তু উৎসব ছিল সবার।
একটি ভয়াবহ ডাবল স্টান্ডার্ড কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলছে দেশ। এক দিক থেকে ক্ষমতাবান ও প্রগতিশীলতার বুলি কপচানো মানুষগুলো বলছে দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা তুলে দিতে হবে, আবার তাদের কেউ কেউ প্রশ্নপত্রে চরম সাম্প্রদায়ীক জিঘাংসা শিক্ষার্থীদের মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টা করছে।
ধর্মের বানী কোনদিন সন্ত্রাসী বানায় না, বরং ধর্মে ধর্মে রাজনীতির কুটিল অন্ধকারের বীজ বপনকারীরাই ঘৃণার বিশাল বৃক্ষ রোপণ করে চলছে, তারাই জন্ম দিচ্ছে উগ্রবাদী সন্ত্রাসের।
ফারুক ও গণেশ এই মাটিতে হাজার বছর ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দূর্যোগে আনন্দে এক সাথে জীবন যাপন করেছে। কিন্তু আজ কেউ কেউ একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র তুলে দিচ্ছে অন্যকে কোপানোর জন্য। কি ভয়ঙ্কর।
অসাম্প্রদায়ীকতা একটি অবাস্তব শব্দ, তার চেয়ে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি অনেক সহজ ও সুন্দর… এই বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, নাস্তিক, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকলে মিলেই আমরা সুন্দর আগামীর দিকে হেঁটে যেতে চাই।
যে আমাদের মাঝে বিভেদের হাতিয়ার তুলে দিতে চাইবে সেই হাতিয়ার আগে তার মাথায় মারতে হবে আগে।
সিলেটের ইস্কন মন্দিরে আক্রমন কারো কি অনুভূতিতে আঘাত লাগলো না?কেন, সনাতন ধর্মের মানুষদের কি এদেশে বাঁচার অধিকার নেই, ধর্ম পালনের অধিকার নেই?
বাইতুল মোকাররম মসজিদের কার্পেটে আগুন দিলে যেমন কষ্ট পাই মন্দির আক্রমন করলেও তেমনই কষ্ট পাই। কেননা, আমরা প্রত্যেকটি মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইসকন মন্দিরে হামলাটা সম্পূর্ণই পূর্ব পরিকল্পিত। যতটুকু জেনেছি আজান চলাকালে মন্দিরের কীর্তন বন্ধ ছিল। তাহলে ঐ কীর্তন কিভাবে নামাজিদের সমস্যা করলো? নামাজ শেষেই মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা আসে মসজিদে হামলা করা হয়েছে। যার যা আছে তা নিয়েই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এরপর কয়েকটি মসজিদ থেকে একই আহ্বান জানানো হয় এবং শুরু হয় হামলা এবং তাণ্ডব। মন্দিরে হামলার পাশাপাশি হামলা চালানো হয় আশেপাশের দোকানগুলোতেও। এক কথায় একটা ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি করা হয়।
একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, কয়েক মাস আগে এই কাজলশাহ মসজিদ থেকেই মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশকে ডাকাত বলে আখ্যা দিয়ে পুলিশের উপরই হামলা চালানো হয়। আজও একই কায়দায় হামলা চালানো হয় ইসকন মন্দিরে। বলা হয় মসজিদে নাকি হামলা করেছে মন্দিরের লোকজন। অথচ এমন কোন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া দুয়েকজনের সাথে কথা বলেও মসজিদে হামলার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আশেপাশের এলাকার সকলের একই কথা, তারা মাইকিং শুনেই মসজিদ বাঁচাতে এগিয়ে গেছেন।
এই হচ্ছে আমার দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অবস্থা। নামাজের পরপরই যদি হামলা হয় তাহলে তারা কে কিভাবে দেখলো ঐ মসজিদে হামলা হয়েছে? নবাবরোড থেকে রিকাবিবাজার পর্যন্ত সকল মসজিদের মুসল্লিগণ যেভাবে হামলায় অংশ নিলেন তাতে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এতো দূর থেকে তারা কিভাবে জানলেন কাজলশাহ মসজিদে হামলা হয়েছে? সেটা অবশ্যই জানার একমাত্র উপায় ঐ মসজিদের মাইকিং।
একটা গুজব শুনেই যারা অন্য ধর্মের মানুষের উপর হামলে পড়তে পারে তারা কতোটুকু জ্ঞানী? সত্যি বলতে কি, ঐ এলাকার কোন মসজিদেরই ক্ষয়ক্ষতি হবার কোন খবর কেউ দিতে পারেনি। অথচ মন্দির এবং আশেপাশের দোকান ভেঙ্গে চুরমার।
অফ টপিক, আজ রাজাকার মীর কাশেমের ফাঁশি কার্যকরের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি ঘটনার মিল কেউ খুঁজতে যাবেন না। তাহলে সাঈদীর কথা মনে হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *