সুখের সাংবাদিক

আজকাল দেখি ওরা রোজ রোজ
টাকা দিয়ে সুখ কিনতে যায়,
কিনতে যায় বললে অবশ্য শব্দের ভুল প্রয়োগ হয়,
তারচেয়ে বরং বলা চলে, ওরা সুখ খুঁজে যায়।
আমি চুপচাপ দেখি। আর হাসি, তবে শব্দ করি না
আমি দেখি পাখীরাও হাসছে, শেষবিকেলের
কাঁঠবেড়ালিটাও হাসছে কিংবা ক্লান্ত শালিকটা।
ওরা কিভাবে বুঝবে ট্রামে ঢাক্কা খাওয়ার ঠিক আগে
কতটা সুখে ছিলেন জীবনানন্দ দাশ, কিংবা
মধুসূদন যখন আবার ফিরে এলেন!
কিভাবে বুঝবে পুরীর প্রতিটা বালুদানায় কতটা সুখ আছে
কিভাবে বুঝবে দার্জিলিংয়ের নিঃসঙ্গ ট্রামগুলোর গল্পটা।
সেদিন গ্রামে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ দেখি ছোট্ট চায়ের-
দোকানটায় বেশ ভীড়। সবুর নামের দোকানীটা বেশ ব্যস্ত।
আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই সুখ নিয়ে গল্পে মশগুল
তামুক পাতা টানছে আর হেসে হেসে ধানের দুঃখ তাড়াচ্ছে।
সেদিন দেখি পাড়ার বড়ভাই কাঁদছে, তার সতের মাস
বয়েসি প্রেমিকা হত্যা করেছে ভালবাসা। অথচ,
এই ভালবাসা হত্যা, এটাও কি একটা নারীত্বের সুখ নয়?
রোজ রোজ কত সুখের বিকিকিনি হয়ে যাচ্ছে
খোঁজ রাখেনা কেউ।
চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ, অন্ধকার বাড়িতে জ্বেলে দেয়া আলো
নদীতে কুপের আলোয় জাল ছোঁড়া,
সন্ধ্যার আজানের মায়াকাড়া সুর
আমি কতই না সুখ দেখি প্রতিরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *