আগস্ট ও বাঙালি

আগস্ট মাস বাঙালি জাতির জন্য অন্যতম মাস।তাই মাস এর শেষ এ এই লেখা।

আগস্ট মাস বাঙালি জাতির শোকের মাস।
বাংলা মহান নেতা এই মাসেই হত্যার শিকার হয়েছে শুধু তাই নয় তার মেয়ে হামলার শিকার হয়েছে।এই শোকের মাসে শোক পালন দেখলে নিজের মাঝেই তীব্র ক্ষোভ আর ঘৃণা তৈরি হয়।হবেই না বা কেন।আচ্ছা সুন্দর দেশটাকে ময়লা করে শোক পালনের যুক্তি কোথায়।কোথায় যুক্তি আছে যে দেশের মানুষ খাবার পায়না সে দেশে লোক দেখানোর জন্য ১০০ টা গরুর কুরবানি করে খাওয়ানো।যদি চান তবে মন থেকে সেই নেতাকে স্মরণ করুন পারলে না হয় মনে মনে একবার কদমবুসি করে নিন
এখন আসা যাক মূল কথায়।
১৫ আগস্ট নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের ব্যানার আর ফেস্টুন এর ছড়াছড়ি নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাকে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর টা খুব মজা ছিল।তিনি বলেছেন যে প্রচারের জন্য নেতারা করতে পারে।আচ্ছা যেই নেতাকে তার এলাকার মানুষ রা চেনে না, চেনাতে হয় বড় বড় পোস্টার লাগিয়ে সে নেতাই বা হয় কিভাবে।নেতা মানেইতো জনদরদী নেতা মানেই মানুষের কাছের মানুষ। সেই নেতারই বা কি দরকার যে নিজের এলাকার মানুষগুলোকে চেনেনা তাদের খবর রাখেনা।মামুষগুলোও তাকে চেনে না।অসহায় একটা মানুষকে দেখলে নাক সিটকে ওঠে। বঙবন্ধুতো কোন ব্যানার লাগায়নি লাখ লাখ মানুষ তার নামের ব্যানার নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে হাজির হয়েছিল।তবে এ কেমন রাজনীতি যেখানে মৃত্যু কে বেচা হয় ভোটের জন্যে।
এখন আসা যাক দ্বিতীয় প্রসঙ্গ এ।
১৫ আগস্ট এই দলেরই নেতা ১০০ গরু খাইয়েছেন। যেই দেশের মানুষ মধ্যে ক্ষতির আসায় নতুন ব্যবসা শুরু করে না যেই দেশে এত বেকার সেখানে এটা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। আপনি একশ গরু একদিন না খাইয়ে সেই অর্থ কিছু মানুষের আজীবন খাওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হতো না???
হয়তো যতগুলো মানুষ একদিনে খেয়েছে ততোগুলো না হলেও চার ভাগের এক ভাগ কিন্তু আজীবন খেতে পারতো।
আচ্ছে নেতাদেরই বা দোষ কি!
আমরাই তাদের এমন বানিয়েছি।
আগে একটা উদাহরণ দেই।
হাতিরঝিল কয়েক লাখ কোটি টাকার প্রজেক্ট। সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু থাকবে কতদিন?!হাতে রাখা চিপসের প্যাকেটটা ৫০ মিটার দূরের ডাস্টবিন এ ফেলে কি হবে ফেলি না হাতিরঝিলটায়।ময়লা পানিটা একটু পরিষ্কার হয়েছে আবার ময়লা করি!ময়লা হবে, দূর্গন্ধ হলে নাক টা চেপে ধরে প্রশাসনের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করবো।ব্যাটারা আমাদের টাকায় চলে পাবলিকের কাজ করেনা।
আরে ভাই,হ্যা!দুর্নীতি হয় কিন্তু কিছু কাজ তো হয়।সেটা ঠিক রাখার দায়িত্ব কি আমাদের নেই???
ঢাকার যানজট নিয়ে সবাই কথা বলি কারে বসে থাকা মানুষগুলোকে মনের মাঝে শতশত গালি দেই। কেননা যানজট এর অন্যতম কারণ প্রাইভেট কার।সেই আমরাই যখন মাসিক বেতন লাখ পার করি, একটা নতুন গাড়ি রাস্তায় নামানো চেষ্টা করি।আমরা বাঙালি।
আচ্ছা ভোটের সময় ঠিক ই আমরা প্রার্থীদের লুটে খাই।আমরা বলছি কেননা যেই গুটি কয়েক মানুষ খায় তারাও আমাদের অংশ। তবে নেতা কেনই বা দুর্নীতি করবেনা।সরকারি যা বেতন তাতে তার খরচের টাকা ২০ বছরেও উঠবে কিনা সন্দেহ।
দুর্নীতি আমরাই শুরু করি।আচ্ছা আমরা কে???
আমরা বাঙালি। সাধারণ বাঙালি যারা সব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য খারাপ পথটা বেছে নেয়।
শেষ করা দরকার। কেননা আমার আগেও অনেকে এ নিয়ে বলেছে বলবে তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।
শেষ করার আগে একটা বিষয় তোলা প্রয়োজন। বাবার সাথে প্রতিদিন রাতে খবর দেখার সময় বিভিন্ন বিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সেমিনার হয় তা দেখানো হয়।খুব আশ্চর্য হই যখন দেখি এই সেমিনার টা যাদের জন্য করার তারা বিজ্ঞ ব্যক্তিদের কোন কথা আদৌ বুঝতে পারে কি না।
যেই কৃষকে নিয়ে আপনারে সেমিনার করে দিনশেষে পেট পুরে খেয়ে আর কিছু টাকা নিয়ে বাসায় ফেরেন সেই কৃষক কি আপনাদের কথা বোঝে? সে কি দুবেলা খেতে পারে???
আপনাদের সেমিনার গুলো যদি করেন তবে সাধারণ মানুষ গুলোর জন্য করুন।সাধারণ মানুষ মানে আমরা যারা নিজেদের নাম দিয়েও মনের কথা বলতে পারে না পাছে লোকে কিছু বলে এই ভয়ে।যারা চায় দেশটাকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে।নতুবা সেমিনারের প্রয়োজন নেই।কেননা তনু মাটিতে মিশে গেছে,কোটি টাকা এখনো ফিলিপাইন এ রয়ে গেছে, শত শত শিশু রাস্তায় ঘুমিয়ে পরেছে।।যদি কখনো সময় হয় তবে রুম এর এসিটা বন্ধ করে গভীর রাতে বের হন।হতে পারেন কিছু সময়ের জন্য হিমু।হিমু হয়ে না হয় মানুষের কষ্টগুলো একবার দেখে আসুন।এরপর নতুন কোন সেমিনার এ যোগ দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *