কুরআনে কি ভুল নেই? পর্ব- ৩

অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।-সূরা মরিয়মঃ২৭-২৮।
উক্ত আয়াতদ্বয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যিশু মাতা মরিয়ম হারুন (আ) এর বোন।অর্থাৎ মেরি ছিলেন মুসা (আ) ও হারুন (আ) এর বোন।
এবার দেখি সূরা আত-তাহরীমের ১২ নং আয়াতে কি বলা হয়েছেঃ
” আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন। ”
এই আয়াতেও একই কথা বলা হয়েছে একটু ভিন্নভাবে।এই আয়াতে মরিয়মকে মূসা (আ) এর বোন অর্থাৎ ইমরানের কন্যা বলা হয়েছে।
এরপর সূরা আল -ইমরানের ৩৫ এবং ৩৬ নং আয়াত লক্ষ করি একই কথা বলা হয়েছেঃ
” এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত। অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।”
এই আয়াতেও মেরিকে ইমরানের কন্যা তথা মূসা (আ) ও হারুন (আ) এর বোন বলা হয়েছে।
প্রকৃত পক্ষে মূসা,হারুন ও মরিয়ম ভাইবোন ছিলেন।কিন্তু যিশু মাতা মরিয়ম এদের থেকে আলাদা ছিলেন এবং মূসা (আ) এবং যিশুর মধ্যে ১৫০০ বছরের ব্যবধান ছিল।কিন্তু উপরিক্ত আয়াতগুলো প্রমান করে যে কোরআন লেখক যিশুমাতা মরিয়ম এবং মূসা (আ) এর বোন মরিয়ম সম্পর্কে কনফিউজড ছিলেন।এথেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে কোরআন ঈশ্বর প্রেরিত কোন কিতাব না।
তথ্যসূত্রঃ
1. http://www.quraanshareef.org/
2. https://unityteacher.wordpress.com/…/differences-of-moses-…/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *