লোকদেখানো শোক প্রসঙ্গে

(যারা ইমরান এইচ সরকার নয়, শাহবাগ আন্দোলনের চেতনাধারী তারাই শুধু পড়ুন)
৩০ এপ্রিল দুপুরের দিকে মধুর ক্যান্টিনে বসে আছি। হঠাৎ খবর পাই, গণজাগরণ মঞ্চ ১ মে এর শ্রমিক সমাবেশ বাতিল করে নাগরিক শোক সভার আয়োজন করেছে।
পহেলা মে শ্রমিকের দিন। শ্রমিক সমাবেশ বাদে অন্য যে কোন লোকদেখানো সমাবেশের তীব্র নিন্দা জানাই। শ্রমিকশ্রেণির আবেগ ও সংগ্রামের স্পৃহা বুঝতে গণজাগরণ মঞ্চ ব্যর্থ। শোককে শক্তিতে পরিণত ভয়াবহ সুযোগ হারালো মঞ্চ। লুম্পেন মধ্যবিত্তের স্বার্থরক্ষা যে এই মঞ্চের চরিত্র তা পরিষ্কার হল শ্রমিক সমাবেশ বাতিল করার মাধ্যমে। কোন আন্দোলনের অর্জন শ্রমিক শ্রেণিকে বাদ দিয়ে হয়নি, ইমরান এইচ সরকার মনে রাখবেন।

এই মধ্যবিত্ত নাগরিকরা শ্রমিকের আন্দোলন সংগ্রামকে সারাজীবন বেঁধে রেখেছে গোল টেবিল আর মানববন্ধনে। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরাসরি শোষক উচ্চবিত্ত, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থাকে মেনে নেয় আর শ্রমিক শ্রেণিকে উচ্চবিত্তের স্বার্থেই ব্যবহার করতেই সহায়তা করে। এমনকি শ্রমিকের আন্দোলনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও করে। শ্রমিকের আন্দোলন শ্রমিকের নেতৃত্বেই হতে হবে। মধ্যবিত্তের আর্থ- সামাজিক মুক্তির কথা চিন্তা করলেও শ্রমিক শ্রেণির একনায়কত্ব স্বীকার করা ছাড়া কোন উপায় নেই। এ নিয়ে আমি আর বিস্তারিত আলোচনা করব না।
এখন আসি সাভার গণহত্যার উদ্ধার কাজে গণজাগরণ মঞ্চের তৎপরতার বিষয়ে। এদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না বলেই আমি মনে করি, কিন্তু ছিল ভয়ঙ্কর অব্যবস্থাপনা আর ব্যক্তি ফোকাসের ধান্দা। মঞ্চের নেতৃস্থানীয় এক লোক একটি বারের জন্য ধংসস্তুপে উদ্ধারকার্যে ঢুকে ২০ মিনিটে স্ট্যাটাস দিয়েছে ৮ টি! ছবি তোলা আর ফেবুতে আপলোড! ২৮ এপ্রিল পানি, বিস্কিট, তরল দুধ খাওয়া আর নষ্ট করার ব্যাপক প্রতিযোগিতা দেখেছি আমি। দুর্গতদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয়নি মঞ্চ। অনেকগুলো টিম ঘুরে ঘুরে আহতদের তালিকা করছে। গণজাগরণ মঞ্চ দুর্গতদের সহায়তার চেষ্টা করেছে কিন্তু ব্যর্থ অনেকাংশেই।

১১ thoughts on “লোকদেখানো শোক প্রসঙ্গে

  1. শ্রমিক সমাবেশ হলেই কি, আর
    শ্রমিক সমাবেশ হলেই কি, আর নাগরিক সমাবেশ হলেই কি? সেই ছোটবেলা থেকে মে দিবস পালন দেখে আসছি। শ্রমিকের অবস্থার কোন হেরফের হয়েছে কি? হয়নি… :মাথাঠুকি:

    1. এই শ্রমিকের অবস্থা পরিবর্তনের
      এই শ্রমিকের অবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব কে নিয়েছে? আপনি, আমি? রাস্তায় শ্রমিকের সাথে নেমে কথা বলা জরুরি। ধন্যবাদ।

      1. “No work! no fault…”
        এইটা

        “No work! no fault…”
        এইটা পৃথিবীর বা, তাবত দুনিয়ার সশস্ত্রবাহিনীর খুব প্রচলত একটা কথা!
        এক শ্রেণীর স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী আছে যারা গত ৪২ বছরতো কিছুই করে নাই আজ ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহ্‌বাগের সংগঠকদের নেতৃীত্বে যে আন্দোলনটা আজ তিল তিল করে এত দূর এসেছে তার ভুল ধরে নিজের মহত্ত্ব দেখাতে ব্যস্ত!
        যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, যদি রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চান তো বুদ্ধিবৃত্তিক জঞ্জাল লিখা বা নিজেকে বাঁশ মারা বন্ধ করে ম্যাসেজে বা, অন্যভাবে পরামর্শ দিন!
        নাহয় চুপ থাকুন!
        আর যদি ছাগবান্দব বুদ্ধিজীবী হন তবে চালাই যান…
        ইতিহাসে আপনি হবেন মীরজাফর/ রাজাকারের দোসর আর শাহ্‌বাগীরা হবে এযুগের বিপ্লবী…

        1. ব্লগে আমি কি লিখব না লিখব
          ব্লগে আমি কি লিখব না লিখব আমার ব্যাপার। ল্যাদানো বা পরামর্শ দেওয়ার থাকলে অন্যদিকে যান।

  2. বড় আন্দোলন তো বিরাট ব্যাপার
    বড় আন্দোলন তো বিরাট ব্যাপার আগে বাসার কাজের ছেলেমেয়টি কে কি ছুটি দিয়েছেন!এইটুকু করলেই মে দিবস পালনে যথেষ্ট। ।
    তবে গণজাগরণ মঞ্চ এর কর্মসূচির ব্যাপারে আপ্নার সাথে সহমত পোষন করছি।

  3. গণজাগরণ মঞ্চ সাভারের জন্য
    গণজাগরণ মঞ্চ সাভারের জন্য অনেক কিছুই করেছে। ফেব্রুয়ারী মাসে যদি এই গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টি না হত তবে সাভারে মানুষ ছুটে যেতো না, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে যেতো না। শাহবাগ থেকে ৫০০ ব্যাগ রক্ত যেতো না।
    ভবন ধ্বস আগেও হয়েছে, জ্যান্ত আগুনে পুড়ে কয়লা হয়েছে, তখন ওই প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্যেই সব কিছু সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু আজ সত্যিকার অর্থেই আমরা প্রতিবাদ করতে পারি, সত্যিকার অর্থেই মানবিক আবেদনে সাড়া দিতে পারি, অচেনা মানুষের জন্য নিজের রক্ত, অর্থ , এমনকি নিজের প্রাণের ঝুঁকিও নিতে পারি। এই আমাদের শাহবাগ আন্দোলনের ফল। এই আমাদের গণজাগরণ মঞ্চের সাফল্য, এই আমাদের প্রজন্মের আন্দোলনের চরম পাওয়া।
    হ্যাঁ, গণজাগরণ মঞ্চের কিছু ত্রুটি আছে, কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আছে। কোন কিছুই সমালোচনার উদ্ধে নয়। তবে এখানে আপনার সমালোচনার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে বেশি। যা হেফাজত বা জামাত শিবির বা যারা একে সমর্থন করে না তাদের পাল্লা ভারী করছে। যা আমাদের জন্য সুখকর নয়।
    ভুলে গেলে চলবে না, এই আন্দোলন আমাদের ৪২ বছরের ঘুম ভাঙিয়েছে। আমাদের গালে কষে এক থাপ্পর দিয়ে স্মরণ করে দিয়েছে, ৩০ লাখ শহীদের ঋণ এখনও বাকি।

    1. শাহবাগকে সমর্থন না করলেই
      শাহবাগকে সমর্থন না করলেই জামায়াত শিবির এ আপত্তিকর ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন।

      1. ফেব্রুয়ারী মাসে যদি এই
        ফেব্রুয়ারী মাসে যদি এই গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টি না হত তবে সাভারে মানুষ ছুটে যেতো না, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে যেতো না।
        চরম অবাস্তব ধারণা ছাড়া কিছু নয়। গণজাগরণ মঞ্চের বয়স শুক্র- শুক্র ৮ দিন ভুলে যাবেন না।এটাকে ব্র্যান্ডিং করার কোনই দরকার নেই যদি এটা সত্যি চেতনাকে জাগ্রত করে।
        দেখুন, আমি নিজে শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী, ইমরান এইচ সরকারের চামচা না।

  4. একটি উদাহরণ দেখান, ৫
    একটি উদাহরণ দেখান, ৫ ফেব্রুয়ারির আগে কখন মানুষ এভাবে ঝাঁপিয়ে পরেছিল অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে। ? মানব্বন্ধন, মিছিল ছাড়া আর কি করেছি?
    ইমরান এইচ সরকারের সাথে আপনার মতের অমিল থাকতে পারে, যেমন কিছু ব্যাপারে আমারও আছে। তবে এর মানে এই না ইমরানের জন্য আমি আমার এই প্রাণের দাবীর আন্দোলনকে কোন যুক্তি ছাড়াই কটাক্ষ করবো। ইমরান মানেই গণজাগরণ মঞ্চ না। ইমরানের কাজের সমালোচনা করতে চাইলে সমালোচনা করুন । তবে এর দায়ভার গণজাগরণ মঞ্চের উপর কেন চাপাচ্ছেন। ইমরানের জন্য কেন গণজাগরণ মঞ্চের সফলতা , প্রাপ্তিকে ম্লান করছেন।
    আপনি বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা করছেন না, অনেকটা অপমান করছেন।

  5. অবাস্তব স্বপ্নচারীর রিপ্লাই
    অবাস্তব স্বপ্নচারীর রিপ্লাই দু’টি আমার কাছে যথেষ্ট যুক্তি নির্ভর এবং বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে…

    আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, সমালোচনা আর বিরোধীতা করা এক নয়। বিষয়টি মনে হয়, অনেক গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী এবং ব্লগাররা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *