ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (২)

ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (১)

চরমপন্হার শিকড়গুলো:

নাওয়াজ: আমার কাহিনীর একটি সম্পূর্ণ সংস্করণ পাওয়া যাবে আমার আত্মজীবনী, Radical বইটিতে কিন্তু আমি এখানে সংক্ষিপ্তভাবে সেই কাহিনীটি আবার উল্লেখ করছি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের এসেক্সে, আর আমি বেড়ে উঠেছি সেই পরিবেশে, যাকে আমি চিহ্নিত করেছিলাম, যুক্তরাজ্যের বর্ণবাদের সেই খারাপ পুরোনো দিনগুলো হিসাবে। যে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে বর্ণ সম্পর্কের দিক পরিবর্তন করেছিল, সেটি হলো স্টিফেন লরেন্স এর হ্ত্যাকাণ্ড। যার কারণে একটি সরকারী তদন্তও হয়েছিল, যার পরিণতি ছিল বিখ্যাত ম্যাকফারসন রিপোর্ট (৫)। এই রিপোর্টটাই প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষ শব্দটি প্রথম উদ্ভাবন করেছিল এবং উপসংহারে পৌছেছিল যে, যুক্তরাজ্যে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এর অস্তিত্বকে। খুবই গুরুতর একটি অভিযোগ ছিল এটি।

সম্মিলিত সচেতনতায় সেই পরিবর্তন হবার সামান্য কিছু সময় আগেই আমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলাম। আমি এই প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষে শিকার হয়েছি বেশ কয়েকবার এবং এর ফলশ্রুতিতে অবিশ্বাস্যভাবে মূলধারার সমাজের প্রতি আমার মোহমুক্তি ঘটেছিল। বেশ কয়েকবার আমাকে ভুল করে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই বৈষম্যমূলক আচরণ যখন আমাদের তরুণ জীবনে ঘটছিল, তখনই আমরা স্বাক্ষী হয়েছিলাম ইউরোপ মহাদেশে বসনিয়ার ভয়াবহ গণহত্যার।

স্বাভাবিকভাবে, আমার প্রজন্ম ছিল অসন্তুষ্ট, হতাশ ও তারা নিজেদের সমাজ বিচ্ছিন্ন অনুভব করছিল। সেই গুরুতর আত্ম-পরিচয়ের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ করেছিল ইসলামবাদী আদর্শপুষ্ট একটি গোষ্ঠী, যাদের সাথে আমি এক পর্যায়ে যোগ দিয়েছিলাম। এই গ্রুপটি, হিজব উৎ তাহরির, কিছুটা বৈপ্লবিক প্রকৃতির, সারা পৃথিবী জুড়ে যারা এখনও সক্রিয় আছে এবং পশ্চিমে এখনও আইনসিদ্ধ একটি গোষ্ঠী। ১৯৫৩ সালে জেরুজালেমে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হবার পর অতীতের একটি মুসলিম পরিচয় সংকটের ক্রান্তি লগ্নে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হিজব উৎ তাহরির হচ্ছে প্রথম ইসলামবাদী গ্রুপ যারা প্রথম একটি ধর্মভিত্তিক ‘খেলাফত’ বা ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করার ধারণাটিকে জনপ্রিয় করেছিল। সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তে বরং এর সদস্যরা নতুন সদস্য সংগ্রহ আর মুসলিম জনমতকে জয় করার কৌশল গ্রহন করেছিল, যাদের চুড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম প্রধান দেশগুলো, যেমন মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানে ক্ষমতায় আসার জন্য সামরিক অভ্যুত্থানের প্ররোচণা ও উস্কানী দেয়া।

আমি এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিলাম গভীরভাবে ক্ষুদ্ধ, হয়তো মানসিক ও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ষোল বছরের তরুণ হিসাবে, যে কিনা হিংস্র বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিল। তবে, আমার সেই সব ক্ষুদ্ধ অভিযোগ, অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই থমকে ছিল সেই আদর্শবাদী মতবাদের কারণে যা আমি আমার আদর্শ হিসাব গ্রহন করেছিলাম। আমি আমার এই শব্দগুলো খুব সতর্ক আর পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছি। ক্ষোভ – অভিযোগ, প্রকৃত কিংবা কল্পিত, এককভাবে যথেষ্ঠ নয় কাউকে আমূল সংস্কারবাদী বা র‌্যাডিকাল বা উগ্রপন্হীতে রুপান্তরের জন্য। এটি সত্যের অর্ধেক। আমার অর্থটি সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে এভাবে: যখন পশ্চিমে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম বসনিয়ার গণহত্যায় প্রতিহত করার জন্য, কিছু মুসলিম আমূল সংস্কারবাদী ভিন্ন পথ বেঁছে নিয়েছিল, যখন আমরা আফগানিস্থানে হস্তক্ষেপ করেছিলাম, আরো মসুলিম উগ্রবাদীতে রুপান্তরিত হয়, যখন আমরা সিরিয়াতে হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছি, আরো অনেক বেশী মুসলিম উগ্রবাদীতে পরিণত হয়েছে। ক্ষুদ্ধ অসন্তোষ আর অভিযোগের উপর ভিত্তি করা এই কাহিনীসূত্র, যা আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্র নীতির উপর দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে তা আসলে কাহিনীর অর্ধেক মাত্র। সুতরাং উগ্রবাদী হবার কারণ হিসাবে এটি অপর্যাপ্ত ব্যাখ্যা।

হ্যারিস: পশ্চিমা হস্তক্ষেপ আর মসুলিমদের তার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ অভিযোগের বিষয়টি খুবই সমস্যার – আমি বিশ্বাস করি আলোচনায় আমরা আবার বিষয়টিতে ফিরে আসবো পরে। কিন্তু আমার কাছে বসনিয়ায় পশ্চিমা হস্তক্ষেপটিকে স্বতন্ত্র এবং মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিশেষভাবে নির্দোষ করেছে করেছে দুটি বিষয়। আমরা কোনো মুসলিম দেশকে আগ্রাসন করিনি কাজটি করতে গিয়ে, এবং এই পদক্ষেপের সাথে যুক্ত ছিল অ-মুসলিমদের উপর বোমা বর্ষণ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোর ক্ষেত্রে যেমনটি আমরা দেখেছি, যদি দুটি অথবা এর যে কোনো একটি শর্ত পরিবর্তিত হয়, একটি বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী এই ধরনের হস্তক্ষেপটি দেখবে তাদের পবিত্র ভূমিকে অপবিত্রকরণ বা অধর্মাচারণ হিসাবে – পশ্চিমা শক্তির নিশানা ঘটনাচক্রে যতই অশুভ অথবা ধর্মনিরপেক্ষই হোক না কেন। সাদ্দাম হুসেইন একটি নিখুঁত উদহারণ: সাদ্দাম ছিলো বিশ্বজনীনভাবে ঘৃণ্য ধর্মনিরপেক্ষ একনায়ক শোষক। কিন্তু যেই মুহুর্তে অমুসলিম রাষ্ট্রদের একটি জোট তাকে আক্রমন করে, প্রায় পুরো মুসলিম বিশ্ব বিশেষভাবে ক্ষুদ্ধ হয়েছিল যে, মসুলমানদের দেশে আগ্রাসন করেছে অবিশ্বাসী অমুসলিমরা। অবশ্যই ইরাকে যুদ্ধ বিরোধিতা করার অনেক ও খুবই সুস্থ্ কারণ আছে, এটি তার মধ্যে পড়ে না। ধর্মের একটি সমস্যা হচ্ছে যে এটি গ্রুপ-আভ্যন্তরীন আনুগত্য আর গ্রুপ-বহির্ভূত শত্রুতা সৃষ্টি করে, এমনকি যখন কারো নিজের গ্রুপের সদস্যরাই সাইকোপ্যাথের মত আচরণ করে। আমি যোগ করতে চাই যে, যখন আমরা অবশেষে বসনিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিলাম, বিশুদ্ধভাবে মানবিকতার কারণে, এর জন্য কিন্তু আমরা বেশী প্রশংসা পাইনি।

নাওয়াজ: নিঃসন্দেহে। আমি বিষয়টি উল্লেখ করেছি কারণ যেখানে এই ক্ষোভ আর অসন্তোষগুলো প্রাসঙ্গিক, তরুণ আর সহজেই মন পরিবর্তন করা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, যারা একটি গভীরভাবে আত্মপরিচয় সংকটের অভিজ্ঞতা অনুভব করেছিল কোনো আকর্ষনীয়, প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো সদস্য সংগ্রাহকদের কাছ থেকে আদর্শগত মতবাদ গ্রহন করার জন্য। একবার যখন এই মতবাদ গৃহীত হয়, এটি ধারণকারী বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীকে সুনির্দিষ্ট করে দেয় সেই কাঠামোর মধ্যে, সেই লেন্সগুলো বাছাই করে দেয় যার মধ্য দিয়ে তারা অন্যদের বুঝতে শেখে। যে বাহনটি ব্যবহার করা হয় অন্যদের দলে ভেড়াতে, এটাই সেই ভাষায় পরিণত হয় যা দিয়ে আমরা কথা বলি। খুব জরুরী বোঝা এই বিষয়টি কারণ এই ক্ষোভ, অসন্তোষের অস্তিত্ব সবসময়ই থাকবে। সময়ের সূচনা থেকেই সেগুলো ছিল,এবং সময়ের শেষ অবধি তা থাকবে।

অন্যান্য সমাজের ও ধর্মের মানুষরাও এ ধরণের নানা অসন্তোষ ধারণ করেন, কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট আদর্শবাদী প্রপঞ্চের উত্থান হয় শুধুমাত্র কিছু বিশেষ প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে। যেমন, মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতা অথবা শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেন এই র‌্যাডিকালাইজেশনের জন্য। অন্যদিকে কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বহু দিন থেকেই জানেন যে অসামঞ্জষ্যপূর্ণ সংখ্যক সন্ত্রাসীরাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। (৬) সুতরাং ষোল বছর বয়সে আমি একটি আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহন করে নিয়েছিলাম, আমার অসন্তোষ এর বোধটাকে অনুভূতিশূন্য করেছিল এবং এটিকে রুপান্তর করেছিল একটি মতবাদে। এরপর হিজব উৎ তাহরিরের হয়ে আমি ব্যপকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছিলাম। ধর্মভিত্তিক খেলাফল প্রতিষ্ঠা করার ধারণাকে প্রবর্ধন করার জন্য আমিও আমার নায্য ভাগের জন্য দ্বায় স্বীকার করছি।

হ্যারিস: তুমি এই ধারণাগুলো যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছিলে, নাকি বিশ্বব্যাপী?

নাওয়াজ: বিশ্বব্যাপী। এই গোষ্ঠীটি জেরুজালেম থেকে ছড়িয়ে পড়ে জর্দানে, জর্দান থেকে সিরিয়া ও ইরাক এবং একসময় মিসরে। এরপর মধ্যপাচ্য থেকে এটি পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে, এবং পশ্চিম থেকে জার্মান মুসলিমদের মাধ্যমে তুরস্কে, ফরাসী মুসলিমদের মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকা, ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ মুসলিমদের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায়। আমি সদস্য সংগ্রাহক হয়েছিলাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। বৈপ্লবিক ইসলামবাদকে আমি রপ্তানী করেছিলাম ব্রিটেইন থেকে পাকিস্তান, ডেনমার্ক এবং পরিশেষে মিশরে।

১৯৯৯ সালে, ইউনিভার্সিটি অব লণ্ডনের স্কুল অব অরিয়েন্টাল ও আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) এ আমার আইন ও আরবী ভাষার ডিগ্রীর মাঝামাঝি পর্যায়ে, আমি এক বছর ছুটি নেই এবং পাকিস্তানে গিয়েছিলাম হিজব উৎ তাহরিরের নির্দেশে এর পাকিস্তানী শাখাটি সহ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। পাকিস্তান তখন এর এক বছর আগে কেবলই এর প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, এবং দলটির আন্তর্জাতিক নেতারা একটি পারমাণবিক শক্তিসহ খিলাফতের স্বপ্ন দেখছে তখন।

যেখানেই আমরা এই গোষ্ঠীর ভিত্তি স্থাপন করেছি, আমি বিশেষভাবে নিশানা করেছি সেনাবাহিনীর অফিসারদের দলে ভেড়ানোর জন্য, যেন আমরা সুযোগমত সামরিক ক্যু উসকে দিতে পারি। ২০০০ সালে, পাকিস্তান থেকে আমার ফেরার পর, আমি ব্যক্তিগতভাবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম পাকিস্তানী ক্যাডেটদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য যারা ব্রিটেনের স্যাণ্ডহার্ষ্ট রয়্যাল মিলিটারী অ্যাকাডেমীতে পড়তে আসতো। তারপর থেকে পাকিস্তান স্বাক্ষী হয়েছে বহু অসফল ক্যু প্রচেষ্টার, যা প্ররোচিত করেছে আমার প্রাক্তন সংস্থাটি, তাদের কিছু হয়তো সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে। (৭)

ততদিনে আমি আবার আমার পড়াশুনা শুরু করি লণ্ডনে, কিন্তু আমি প্রতি সপ্তাহ শেষে নিয়মিত তখন ডেনমার্কে যাতায়াত করছি আমার গ্রুপের ডেনিশ-পাকিস্তানি শাখা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ২০০১ এ, আমার পড়াশুনার কারণে, আরবী ভাষা শেখার বছর হিসাবে মিসরে যেতে হয়। আমি ৯/১১ আক্রমনের ঠিক একদিন আগে সেখানে পৌছাই। তখনও পুরোপুরিভাবে সেই আক্রমনগুলোর গুরুত্ব আমি বুঝতে পারিনি, আমি সারা মিশর জুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যহত রাখি আমার গ্রুপের জন্য। ২০০২ এর এপ্রিলে, মিসরীয় রাষ্ট্রীয় পুলিশ আলেক্সান্দ্রিয়ায় আমার ঘরে তল্লাশী অভিযান চালায়। আমার চোখ বাধা হয়েছিল, পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আমাকে কায়রো তাদের হেড কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আমি স্বাক্ষী ছিলা, বহু বন্দীদের উপর বিদ্যুত ব্যবহার করে নির্যাতন করার ঘটনার সাথে। আমার বয়স তখন চব্বিশ।

এরপর আমাকে পাঁচ বছরের জন্য রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে মিশরে মার্জা তোরা জেলখানা কমপ্লেক্স এ সাজা খাটার জন্য পাঠানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তখন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল আমাকে বিবেকের বন্দী হিসাবে গ্রহন করে আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা শুরু করতে। যদিও আমরা যা বিশ্বাস করি তার সাথে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একমত ছিল না, তাদের ‍দৃষ্টিভঙ্গী ছিল আমরা মিশরে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ করিনি, সেটি সত্যি ছিল – এছাড়া ব্রিটেনে আমার গ্রুপ ছিল বৈধ, যেখানে আমি এর সদস্য হয়েছিলাম। এবং এই মিশরের জেলখানায়, যেখানে বহু প্রকারের ইসলামবাদীদের উপস্থিতি ছিল – মিশরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতে হত্যাকারী থেকে এখন বন্দী মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশ্ব নেতা মোহাম্মদ বাদেই – নানা মতের ইসলামবাদীদের সংস্পর্শে এসেই আমি সত্যিকারভাবে আমার গ্রহন করা সেই মতবাদটিকে আমি বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছিলাম, যা ষোল বছর বয়সে তীব্র উৎসাহের সাথে আমি গ্রহন করেছিলাম।

অন্যান্য বন্দীদের সাথে আমার দীর্ঘ সংশোধনবাদী কথোপকথন ও অ্যামনেস্টির বিশেষ সহায়তার মিশ্রনে আমি আমার দীর্ঘ যাত্রা শুরু করি একটি উদারনৈতিক, মানবাধিকার ভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির দিকে। ২০০৬ সালে, আমাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দেয়া হয় আমি লণ্ডনে ফিরে আসি। ২০০৮ সালে পলিটিকাল থিওরীতে আমি আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সমাপ্ত করি লণ্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে, এরপর আমি সহ প্রতিষ্ঠা করি ও সভাপতির দ্বায়িত্ব নেই কুইলিয়াম ( Quilliam) ফাউণ্ডেশনের, পৃথিবীর প্রথম জঙ্গীবাদ বিরোধী প্রতিষ্ঠান।

চলবে….

প্রথম পর্ব

টিকা:
(৫) ফেব্রুয়ারী ১৯৯৯ এ Macpherson report টি প্রকাশিত হয়েছিল, স্টিফেন লরেন্স নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ বর্ণবিদ্বেষ দ্বারা প্ররোচিত কুখ্যাত হত্যাকাণ্ডের পর। অনেকেই মনে করেন ব্রিটিশ আন্ত বর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী মূহুর্ত। রিপোর্টটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করেছিল মেট্রোপলিটান পুলিশ বাহিনী ও সাধারণ পুলিশ পক্রিয়ার মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবিদ্বেষকে। প্রায় ৭০ টি প্রস্তাবনা করেছিল রিপোর্টটি, বিশেষ করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ‍পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে, এটি একই সাথে গুরুত্বারোপ করেছিল কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয় পুলিশ অফিসারদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর জন্য। দেখুন: http://news.bbc.co.uk/news/vote2001/hi/english/main_issues/ sections/facts/ newsid_1190000/1190971.stm.
(৬) মার্ক সেজম্যান এর সাজাপ্রাপ্ত জিহাদীদের নিয়ে লেখা বই Leaderless Jihad দেখুন – Philadelphia: University of Pennsylvania Press, 2008)
(৭) ২০০৩ এর আগষ্ট মাসে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেশ কিছু সামরিক বাহিনীর অফিসারদের গ্রেফতার করা সংবাদ ঘোষণা করেছিল, যারা জঙ্গী সংগঠনগুলো প্রতি সমর্থনকারী। যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা হিজব উৎ তাহরিরের সদস্য ছিলেন, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০০০ সালে লণ্ডনে, এদের কিছু সদস্যকে এই সংস্থায় যুক্ত করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেছিলাম। ২০০৬ সালে লণ্ডনে, মিসরের কারাগার থেকে মুক্ত হবার পর, আমার সাথে দেখা হয়েছিল বৃটিশ পাকিস্তানী হিজব উৎ তাহরির এর সদস্য ওমর খানের সাথে। যে পাকিস্তান ভিত্তিক সামরিক সেল এর মূল নেতা ছিলেন। তিনি আমাকে নিশ্চিৎ করেছিল যাদের সাথে আমার আগে যোগাযোগ ছিল, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে তার সাথেই এবং যদিও তাকে ব্রিটেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঠিকই তবে বাকীরা এখনও বন্দী।সেই সময় হিজব উৎ তাহরির পাকিস্তানে বৈধ ছিল। ( দেখুন:http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/ asia/pakistan/1440284/Pakistan-army-officers-arrested-in-terror-swoop.html.) । এবং আবারো মার্চ ২০১২, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বিগ্রেডিয়ার আলী খানের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান পণ্ড করে দেবার কথা ঘোষনা করে, যার সাথে হিজব উৎ তাহরির এর সংশ্লিষ্টতা আছে ( দেখুন: http://www.nytimes.com/…/hizb-ut-tahrir-threatens-pakistan-…)

৩ thoughts on “ইসলাম এবং সহিষ্ণুতার ভবিষ্যৎ: একটি সংলাপ – স্যাম হ্যারিস এবং মাজিদ নাওয়াজ (২)

    1. ধন্যবাদ। হ্যা, আমার একটি
      ধন্যবাদ। হ্যা, আমার একটি অনুবাদ আছে দ্য গড ডিল্যুশন বইটির, যেটি ২০১৫ র বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছিল ( অনার্য প্রকাশনী)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *