আত্মকথা


আত্মা যখন পরমাত্মায় লীন হয় তখন আত্মা তৃপ্ত হয় ।একারনে হয়তো যখন মানুষ আত্মানিমগ্ন হয় কিছুটা হলেও প্রাশান্তি লাভ করে। তখন সে খুঁজে ফিরে সেই মহাশক্তিকে। এভাবেই হয়তো খুঁজে পায় শেকড়ের সন্ধান । মানুষ মরে গেলে দেহ নামক ভেলাটি মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে এটাই তার লীন হওয়া বা তার শেকড়ের সন্ধান পাওয়া। মাটি থেকে সে যাত্রা শুরু করেছে আবার সে মাটিতেই তার ঠিকানা খুঁজে নিয়ে তৃপ্ত হয়। অন্যদিকে আত্মা অবিনশ্বর তার মৃত্যু নেই।
দুঃখ কষ্ট এগুলো মানুষের নিত্য সঙ্গী। একটি মানুষ কেনো হতে পারেনা শুরু থেকেই আজন্ম সুখের অধিকারি। কেনো তার আত্মা কেঁদে যায় অবিরত? তাহলে কি সেও তার শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন?
এভাবে বলা যায় একটি বাঁশিকে প্রথমে তার জন্মস্থান বাঁশঝাড় থেকে নির্মমভাবে কেটে নিয়ে আসা হয় । তারপর সেটিকে আগুনে পুড়ে পুড়ে ক্ষত বিক্ষত করে একটি সময়ে বাঁশিতে রূপ দেয়া হয়। এরপরে তোলা হয় সুর,_এই যে বাঁশের কঞ্চি, মূল থেকে তার বিচ্ছিন্নতাই কান্নার কারন। একারনেই বাঁশির সুর এতো করুন এতো কান্নার। তাই যখন আমাদের এই আত্মা দেহকে ত্যাগ করে মিশে যাবে সেই পরমাত্মার সাথে তখনই আসবে সেই প্রাপ্তি সেই সার্থকতা। যদিও আত্মাটিকে শুদ্ধ করে নিয়ে যেতে হবে বৈকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *