বিচার চাই, কিন্তু সাথে লজ্জাও পাই

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার কর ফাঁকির তদন্ত শুরু। প্রচুর টাকার মালিক হলেও তিনি ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা মাত্র। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই কর ফাঁকিসহ বহুবিধ দুর্নীতি এখন বের হয়ে আসবে। বড় নেতা হওয়ার কারণে তৌহিদ মুরাদ জঙের সাথে সখ্যতাও অনেক বেশি। তাই তার সকল অপকর্মের সাক্ষীও হওয়াও সোহেল রানার পক্ষে অসম্ভব কিছু না। কিন্তু, এই যে এতো দুর্নীতি, এতো অপকর্ম তদন্ত করতে গেলে বহু সময়ের প্রয়োজন। মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় সোহেল রানার নামমাত্র জরিমানা হওয়া ছাড়া আর কোন শাস্তি হবে বলে মনে হয় না। অন্তত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই হয়। রাজনৈতিক দলগুলির এই নিয়ে পালটাপালটি কর্মসূচী দেওয়া শুরু করবে। তারপর নির্বাচন আসবে। সোহেল রানার ছাড়া পেতে কোন সমস্যাই হবে না। কিন্তু এতগুলি শ্রমিকের প্রানের মূল্য কে দিবে??? যত টাকাই দেওয়া হোক না কেন, বিএনপি যতই বলুক ক্ষমতায় গেলে প্রতি পরিবার কে ২০ লক্ষ টাকা করে দিবে, এ সবই নির্বাচনী চাল। মাঠ গরম করার উপায়। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন গার্মেন্টস শ্রমিকের দুর্ঘটনার বিচার হয় নাই। কেননা, দেখা যায় যে, প্রত্যেক গার্মেন্টস মালিক অথবা বিল্ডিঙের মালিক রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত। বিচার হবে কিভাবে? প্রতিটি প্রাণহানিই কষ্টকর। আমাদের হৃদয়ে যতটা দ্রুত আঘাত দেয়, ততটা দ্রুত আমরা তার প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি না। আমরা কেবল লজ্জা পেয়েই যাই।

৩ thoughts on “বিচার চাই, কিন্তু সাথে লজ্জাও পাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *