লন্ডনে বাঙ্গালীদের বসতির সূত্রপাত

লন্ডনে প্রথম বাঙ্গালীদের অনুপ্রবেশ সতেরোর শতকে। বেশির ভাগই কৃতদাস হিসেবে। তারপর আমাদের অনেক সমাজবিদ, ডাক্তার, লেখকরা বিভিন্ন কারনে তখন থেকেই নিয়মিত আসা শুরু করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর জাহাজের নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু হলে ধীরে ধীরে বাঙ্গালীদের পরিমান বাড়তে থাকে। দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে বাঙ্গালীদের মধ্যে যেই পেশাটির আধিক্য দেখা যায় তা হলো জাহাজের খালাসী, লস্কর। ইতোমধ্যে লন্ডনের ইস্ট অঞ্চলে সাময়িকভাবে স্থান হয় বাঙ্গালীসহ অন্যান্য লস্করদের বসবাসের জন্য। কেননা সমস্ত জাহাজ এসে ভীড়তো ইস্ট লন্ডনেরই ক্যানারীওয়ার্ফ, ডকল্যান্ড, লাইমহাউজ, অল্ডগেইট এরিয়ায়। অন্যদিকে কোলকাতার খিদিরপুরেও শুরু হয় বাঙ্গালী লস্করদের বসতি। লস্কর নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে আরেকটি পেশার উদ্ভব লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ সারেং, ক্যাপ্টেন ও অন্যান্যদের সাথে চুক্তি করে জাহাজে লস্কর সাপ্লাই দিতেন। জাহাজে বাদামী লস্করদের উপর অত্যাচার বেশী হত সাদা লস্করদের তুলনায়। কেউ যদি মারা যেত তার লাশ ফেলে দেওয়া হত সাগরে। অন্যদিকে একজন সাদা চামড়ার লস্কর পেতো মাসে পাঁচ পাউন্ড আর বাঙ্গালীরা পেতেন ২০ টাকা। যাইহোক বেতনের বৈষম্যের বেপারে আরেকদিন বলবো। তো, এতে করে ধর্মভীরু বাঙ্গালীরা কিছুদিন কাজ করেই পালাতে চাইতেন। দেশে দালালের কারনে লুকানো যেত না বলেই লুকাতে হতে লন্ডনেই। নতুন পেশার খোজে তারা লুকিয়ে লুকিয়ে বিভিন্ন কাজ করতেন আর যারা তখনও লস্করের কাজ করতেন তাদের মাধ্যমে দেশে খোজ খবর টাকা পয়সা লেন্দেন করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রকৃতভাবে বসতি স্থাপন করে বসেছিলাম আমরা। কিন্তু বিভিন্ন কাগজপত্রে বলা হয়ে থাকে ইন্ডিয়ার কথা। কেননা, তখনো কলকাতার পোর্ট (কালিকট বন্দর সম্ভবত। ভাস্কো দা গামা এই বন্দরে দিয়েই আসা যাওয়া করতেন।) ছাড়া আর কোথাও হতে যাওয়া যেত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *