রামপাল ভবিষ্যৎ কাপ্তাই

উন্নয়ন অর্থনীতির সাথে যে জিনিস সবচেয়ে জরুরী তা হচ্ছে, উন্নয়নটা সাসটেইনবেল বা টেকসই হতে হবে। আর এই টেকসই উন্নয়ন তখনই সত্যিকারের হয় যখন, সেই উন্নয়ন পরিবেশ-প্রতিবেশকে সর্বোত্তম উপায়ে রক্ষা করে করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমাদের দৃষ্টিতে টেকসই উন্নয়নের চেয়ে ভিজেবল বা দৃশ্যমান উন্নয়ন বেশী মাত্রায় আকর্ষণ করে এবং আমরা কেন যেন সেটাই চাই!

ফিরতে বলছি পাকিস্তান আমলে গৃহীত কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে। দৃশ্যমান উন্নয়নের এক উদাহরণ যা পরিবেশ প্রতিবেশ বিপন্ন করে করা হয়েছে। মানুষের আবাদযোগ্য জমি বসতবাটিকে জলাভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। মানুষ বাস্তুভিটা হারিয়েছে। সেখান থেকে যারা উচ্ছেদ হয়েছে তাদের কোনরূপ ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। এরা যখন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতারিত হল তখন এদেরকে এজিটেট করতে একদল লোক হাত লাগাল। প্রতিবেশী রাষ্ট্র সুযোগ নিল। অর্থ এল, অস্ত্র এলো, প্রশিক্ষণ দেয়া হলো এবং তৈরি করা হলো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে রাষ্ট্র সর্বশক্তি দিল, সেনা পাঠাল, রক্ত গেল। অনেক করে এক চুক্তি হলো শান্তির জন্য। অবিশ্বাস রয়ে গেল। মেজরিটি আর মাইনরিটি কেউই কাউকে বিশ্বাস করে না। ভরা মৌসুম ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বড়জোর আসে এই প্রকল্প থেকে। সেই বিদ্যুএর মূল্য কি কখনো এত গুলো প্রাণের চেয়ে বেশী? অবিশ্বাসের দেয়াল কি কাটতে সক্ষম হয়েছে এই বিদ্যুৎ? এই বিদ্যুৎএর মূল্য কি ঐ অঞ্চলের কৃষি সামগ্রী / পরিবেশ প্রতিবেশের চেয়ে মূল্য বেশী? বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তান্ডবের চেয়ে কি বেশী? সেনাদের পিছনে ব্যয়িত অর্থের চেয়ে বেশী? সামগ্রিক ভাবে চিন্তা করেন কোন মতেই ঐ বিদ্যুৎ আর্থিক /সামাজিক / জাতীয় নিরাপত্তা / কৃষিজ অর্থনীতি / পরিবেশ – প্রতিবেশের চেয়ে মূল্যবান না। কোনভাবেই না…

কাপ্তাইয়ের মত রামপাল কিংবা বাশখালী টেকসই উন্নয়নের শর্তাদি পূরণ করে না। প্রথমত প্রকল্প এলাকার জনগণ চায় না , সেই এলাকার পরিবেশ – প্রতিবেশ এইরূপ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত না। এমন অবস্থায় রামপাল কিংবা বাশখালী থেকে আসা বিদ্যুৎ হয়ত দৃশ্যমান উন্নতি আমাদের চোখকে আলোকিত করবে কিন্তু ফি বছর ঘূর্ণিঝড় থেকে আমাদের যে বন রক্ষা করে এবং প্রাণ ও ব্যপক আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাচায় সেটি কে করবে? নোনাজল যখন মিঠা পানির এলাকাকে প্লাবিত করে আমাদের কৃষিজ জমির উর্বরতা শেষ করবে এবং ক্রমশ খাদ্যসংস্থানহীন হব আমরা সেটার জোগাড় কিংবা আর্থিক ক্ষতির হিসাব কার থেকে চাইব? মানুষ যত কর্মহীন হবে বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে তত সহজ হবে তাকে উত্তেজিত করা। কোন পক্ষ সেই সু্যোগে তাদের বিপদগামী বিশেষত জংগীবাদে প্রলুব্ধ করবে না এর নিশ্চয়তা কি? সেই জংগীবাদ জাতীয় নিরাপত্তার সামগ্রিক হুমকি হবে এবং তা দমনে যে কাঠখড় পোড়াতে হবে বা আর্থিক ক্ষতি হবে সেটার কৈফিয়ত কার কাছে চাইবেন?

যখন সারা দুনিয়া টেকসই পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নমুখী তখন কেন আমরা এখনো চিন্তা করছি এমন সব উন্নমন যা কেবল শুধু দৃশ্যমান এক অবকাঠামো ভিন্ন কিছু না কিন্তু অদৃশ্যমান আমরা যা দেখছিনা সেটা আড়ালে গভীর বিপদআপদ! আমাদের সামনে কাপ্তাইয়ের মত একটা উন্নয়নের নামে মরণফাদ থাকার পরেও কেন আমরা পরিবেশ প্রতিবেশ বান্ধব টেকসই উন্নয়ন নীতি নিতে পারছি না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *